ইভটিজিংয়ের শাস্তি প্রসংগে

সোমবার , ২৬ আগস্ট, ২০১৯ at ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
17

নগরীর সিআরবি এলাকায় ইভটিজিংয়ের অভিযোগে ৪ বখাটেকে আটক করেছে পুলিশ। ঈদের দিন সন্ধ্যা ৬ টার দিকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন মো. নয়ন (১৮), মো. আরিফ হোসেন (১৮), মো. মামুন (২৩) ও মো. ইয়াসির আরাফাত (১৮)। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মহসিন বলেন, দু’জন কলেজ ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের দায়ে তাদের আটক করা হয়েছে। প্রায় প্রতিদিন ইভটিজিং এর সংবাদ আজাদীসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। দেখা যায় কিছু বেকার বখাটে ইভটিজিং করে বেড়ায়। আমাদের দেশের নারীরা রাস্তাঘাটে চলতে গিয়ে ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছে। বখাটে ছেলেরা সারাক্ষণ রাস্তাঘাটে, দোকানপাটে বসে থাকে। মেয়েদের দেখলে অশ্লীল ভাষায় কথা বলে। রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত করে। বখাটেরা অন্যায় করা সত্ত্বেও সমাজে বুক ফুলিয়ে চলে। ছেলেদের হাতে মেয়েদের নিগ্রহ শুধুই শারীরিক কারণে নয়। সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ও এখানে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ছেলে শিশুরা যে পরিবেশে বেড়ে ওঠে, পরিবার মা-বাবার কাছে যে শিক্ষা বা মূল্যবোধ অর্জন করে সেটিও কম প্রভাব ফেলে না তাদের মনোজগতে। অতএব বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। আমাদের প্রধান সংকট হচ্ছে যে আইন আছে তারও তেমন যথাযথ প্রয়োগ নেই। অন্যদিকে আইনের ফাঁকফোকর ছাড়া ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ এ ধরনের অপরাধীদের বিচার প্রহসনে পরিণত হয়। অনেক সময় মেয়ে নিগ্রহকারীরা রাজনৈতিক দল বা ক্ষমতার কারণে সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। গত কয়েক বছর আগে এক শ্রেণির এই অপরাধের কারণে ৫০ জন তরুণীর আত্মহত্যার খবর বেরিয়েছিল পত্র-পত্রিকায়। এ সময় সারাদেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫০০ বখাটে। কিন্তু প্রকৃত অপরাধীর বেশির ভাগেরই শাস্তি হয় না। একদিকে আইনগত কাঠামোর কারণে অন্যদিকে সমাজের অধিষ্ঠিত শক্তিধরদের হাতে অপরাধীরা পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন বলে আমাদের মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে এখনো অনেক পিছিয়ে। যদিও বা তারা জনসংখ্যার অধিক কিংবা তারও বেশি, তবু তারা পিছিয়ে আছে।জীবনের নানা ক্ষেত্রে শিক্ষা দীক্ষা করে নানা পেশায় প্রবেশ করে মেয়েরা ঘর থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। পুরুষের মতোই জীবনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছে। এ চ্যালেঞ্জে অনেকোরই সফল। ঠিক এ মুহূর্তে প্রবল মহামারির মতো তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে এক শ্রেণীর বখাটেরা। যার মূল উৎপাটনই জরুরি। বহু সংখ্যক মেয়ে বখাটেদের উৎপাতে তাদের লেখাপড়া ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বহু সংখ্যক মেয়ে লজ্জা ও যন্ত্রণায় আত্মাহুতি দিয়েছে। অনেক শিক্ষক অভিভাবক প্রতিবাদ করায় নিগৃহীত হয়েছেন। এদের কেউ কেউ জীবন দিয়েছেন। কিন্তু কতজন তাদের অপরাধের শাস্তি পেয়েছে তা কি আমরা বলতে পারবো? পারব না। কারণ একটি ঘটনা ঘটার পর তাৎক্ষণিক যে প্রতিক্রিয়া হয় আমরা তাতেই আশ্বস্ত হই নতুন ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত। এ প্রবণতা শুভ নয়। এটা রোধ করতেই হবে।
এম. এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x