ইবাদত বন্দেগিতে পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ পালিত

আজাদী ডেস্ক

বৃহস্পতিবার , ৪ এপ্রিল, ২০১৯ at ৭:১৬ পূর্বাহ্ণ
118

মাগরিবের নামাজের পর থেকে ইবাদত বন্দেগির মধ্য দিয়ে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ পালিত হয়েছে। মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ রজনীতে এশার নামাজের পর মসজিদে মসজিদে মিলাদ মাহফিল, শবে মেরাজের গুরুত্ব বর্ণনা করে ওয়াজ মাহফিল, নফল নামাজ, জিকির আজকারে মনোনিবেশ করেন মুসল্লীরা। অনেকে দিনে নফল রোজা পালন করেন ও গরীব মানুষের মাঝে রুটি, হালুয়া বিতরণ করেন। আজ বৃহস্পতিবারও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল রোজা পালন করবেন। বিভিন্ন দরবার ও খানকাহ শরীফেও মাগরিবের নামাজের পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ৬২০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ রজব রাতে মহানবী (দ.) আল্লাহর সান্নিধ্য পেতে বিশেষ ব্যবস্থায় ঊর্ধ্বাকাশে যান। সেখান থেকে তিনি একা রফরফ নামক বিশেষ বাহনে ৭০ হাজার নূরের পর্দা পেরিয়ে আরশে আজিমে মহান আল্লাহতায়ালার সান্নিধ্য লাভ করেন। এরপর পাঁচওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে ফিরে আসেন পৃথিবীতে। একই সময়ে মহানবী (দ.) সৃষ্টি জগতের সবকিছুর রহস্য অবলোকন করেন।
পবিত্র শবে মেরাজ উপলক্ষে হযরত শাহছুফি আমানত খান (রহ) ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দরগাহ শরীফ মসজিদে পবিত্র কোরআন খতম, খতমে খাজেগান, মিলাদ শরীফ ও দিনটির তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দরগাহ শরীফের সাজ্জাদানশীন শাহছুফি আলহাজ্ব শাহজাদা সৈয়দ বেলায়েত উল্লাহ খান আল হাসানীর (মজিআ) সভাপতিত্বে ও শাহজাদা সৈয়দ হাবিব উল্লাহ খান মারুফ শাহের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মো. সাহাব উদ্দীন হাসান বাবু, শাহজাদা সৈয়দ আরিফ উল্লাহ খান তাইফ, কামরুজ্জামান কায়সার, ইঞ্জিনিয়ার মো. লেয়াকত আলী, প্রফেসর মো. মুজিবুল হক, ব্যবসায়ী মো. সালাহউদ্দিন খলিফা, মাওলানা মো. আবদুল্লাহ আল লোকমান, মাওলানা মো. নেজামউদ্দিন প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ইসলামের ইতিহাসে শবে মেরাজের ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রাতেই আরশে আজীমে মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীনের একান্ত সান্নিধ্য লাভ করেছেন। এই বরকতময় রাত্রীতেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ব-শরীরে সপ্ত আসমান, বেহেস্ত, দোযখ প্রত্যক্ষ করে মহান আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্য লাভের পর অতি অল্প সময়ের মধ্যেই পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করেন। প্রিয় নবীজীর মেরাজ আল্লাহর মহিমা ও কুদরতের বহিঃপ্রকাশ এবং মহানবীর জীবনের সবচেয়ে বড় মুজিযা ও ঐতিহাসিক ঘটনা। এর গুরুত্ব যথাযথভাবে উপলব্ধি করে মেনে চলতে পারাতেই মুসলমানের জীবনে শান্তি নিহীত। মেরাজের সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার পান্‌জাগানা নামাজের প্রতি আমাদের অধিক যত্নশীল হতে হবে। এটাই পবিত্র মেরাজের শিক্ষা।
শেষে মুনাজাত পরিচালনা করেন, আওলাদে পাক ও দরগাহ শরীফের সাজ্জাদানশীন শাহ ছুফি আলহাজ্ব শাহজাদা সৈয়দ বেলায়েত উল্লাহ খান আল হাসানী (ম.জি.আ)।

x