ইন্দ্রানী পাঠক (ইতিবাচক সত্তা)

বুধবার , ১৩ জুন, ২০১৮ at ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ
17

 : জীবন ক্ষণস্থায়ী। বিশ্বসমাজ পরিবর্তনশীল। মন ও পরিবর্তন হয়। কখনো দ্রুত, কখনো মন্থর গতিতে। স্বাভাবিকতা সকলের থাকা উচিত। মানুষের স্বাভাবিকতা যখন পরিবর্তন হতে থাকে তখন সেটা ভালো অথবা মন্দের দিকে যায়। যখন ভালো দিকটা অস্বাভাবিকতায় রূপ নেয় তখন সেই ব্যক্তি বা মানুষের বাহ্যিক রূপের চাইতে অন্তরের রূপের পরিবর্তন দ্রুত ঘটে। হয়তো তিনি বা সে তার আত্মার বিরুদ্ধে যান নতুবা জয়ের দরজা খুলে দেন। নেতিবাচক দিক যদি ভাবি তাহলে সেই অস্বাভাবিকতা স্বাভাবিকতায় আসলে ভালো। কিছু মানুষ আছে যারা নিজেদের বদলে ফেলে অপরের কথা ভেবে। ঠিক একদম ঠিক তা যদি ভালোর জন্য হয়। যদি এমনটা হয় নিজের কষ্ট চেপে অপরের জন্য নিজেকে বদলে ফেলা! সেটা কি আদৌ মঙ্গলজনক? আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ সেই কাজটাই করে। সেখানে অস্তিত্বের মৃত্যু হয়। সমাজের ক’জন মানুষ ভাবে এভাবে কত মৃত্যু হচ্ছে? সবাই নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত। সময় আজ আছে আপনার জন্য কাল হয়তো অন্য কারো জন্য। সময়কে সময়ের সাথে চলতে দিয়ে নিজেরা যদি সেই সময়ের গতিতে একটু নিজের জন্য, অপরের জন্য ভাবি ক্ষতি তো নেই। বদলে গেলেই কি আপনি জয়ী? সমাজের চোখে জয়ী। নিজের দৃষ্টিতে আপনি কিন্তু সেই আপনিই রয়ে গেলেন। এখন কথা হলো কে বুঝবে আমরা কে বা কারা কতটুকু কাদের জন্য নিজেদের বদলে ফেলছি। ইতিবাচক ভাবে বদলাতে সময় লাগলে সাহায্য করুন। পূর্বে কি হয়েছে তার কথা না বলে বর্তমানে কি হচ্ছে তাই দেখুন। প্রশংসা করুন। নেতিবাচক দিকে গেলে তাকে ফিরিয়ে আনুন তার ইতিবাচক সত্তায়। হারিয়ে যেতে দেবেন না তার স্বাভাবিকতা। কারণ তিনি বা সে যা করছে শুধু আপনাকে ভালবেসে খুশি করতেই করছে। নিজের ভালো দিক চিন্তা করছেন না। একজন শিশুর শিশুসুলভ ভাব যদি রুদ্ধ হয় তাহলে সে ভীত হয়ে আপনাকে খুশি করতে তার ইচ্ছে কে বাধা দেবে। এতে তার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। ঠিক একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ তার খুশি ইচ্ছে গুলো আপনার কারণে ত্যাগ করেন তাহলে সাময়িক আপনি খুশি হবেন কিন্তু ঐ ব্যক্তির মানসিক মৃত্যু হবে। তাই পরিবার, প্রতিষ্ঠান, সমাজ, রাষ্ট্র সকলের উচিত নিজস্ব সত্তাকে সুষ্ঠু পথে নিয়ে যাওয়া। প্রয়োজনে এ নিয়ে সেমিনার, সভা, করা। পারিবারিক মূল্যবোধ পরিবারের মধ্যে দেয়া। তবেই না আমরা বদলাবো, আর সেই বদলে যাওয়া হবে উন্নতির দিকে ধাবিত হওয়া। আবেগের সাথে যুক্তি দিয়ে পরিবর্তন করলে আমরা বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবো। উন্নয়নের মহাসড়ক হবে মসৃণ।

x