ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিং-এ স্বাবলম্বী শিক্ষিত যুবক সাজ্জাদ খান

মোঃ জামাল উদ্দিন : লোহাগাড়া

সোমবার , ২৮ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ
63

লোহাগাড়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সাথী ফসল চাষাবাদ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ, সাথী ফসল ও খামার প্রতিষ্ঠা করে স্বাবলম্বী হয়েছেন আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম শাহে আলম খানের পুত্র সাজ্জাদ খান (৪৮)। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেও তিনি বাড়ির পাশে প্রায় ৭ একর ভূমিতে এ পদ্ধতি গ্রহণ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এলাকাবাসীরা বলছেন, হতাশায় না ভুগে শিক্ষিত যুবকরা যদি চাষাবাদে ব্রতি হন তাহলে সাজ্জাদ খানের কর্মকান্ড অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হবে। তার খামারের অবস্থান আমিরাবাদ গোলামবারী উচ্চ বিদ্যালয় অতিক্রম করে সামান্য উত্তর-পশ্চিমে খান বাড়ি হতে ডলুকুলগামী রাস্তার পাশে অবস্থিত। তিনি বাড়ির আঙ্গিনায় ডীপ টিউবওয়েল বসিয়ে জমিতে সেচ দেন। সন্নিহিত পুকুরে পানি ভর্তি করেন। সেখানে মিশ্র প্রজাতির মাছ চাষ করেছেন। পুকুরের পাড়ে শাকসবজি এবং সন্নিহিত জমিতে মুরগি ও গরুর খামার প্রতিষ্ঠা করেছেন। গরুর খামার হতে প্রাপ্ত গোবর কৃষিতে ব্যবহার করেন। বিষমুক্ত পদ্ধতিতে তিনি চাষাবাদ করেন। তার খামারে টমেটো, আলু, বেগুন, প্লাসসিম, মরিচ রয়েছে। তার কৃষিভিত্তিক কোন ডিগ্রি নেই। তবে যারা খামারে ও কৃষিতে শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত তারা এ ব্যাপারে বেশ পারদর্শী। লোহাগাড়া সন্নিহিত চকরিয়ার মাতামহুরীর চরে চাষাবাদ করেছেন। পরিচালনাকারী নুরুল আবছার ও আমিরাবাদের আলী ইমাম। তারা বলছেন, সাজ্জাদ খান চট্টগ্রাম শহরে থাকলেও প্রতি সপ্তাহে এসব দেখতে আসেন। নিজ হাতে খামার পরিচর্যা করেন। মাছের খাবার যোগান। পশুদেরকে নিজ হাতে খাদ্য পরিবেশন করেন। খামারে উৎপাদিত টমেটো, মরিচ লোহাগাড়াসহ বিভিন্নস্থানে বাজারজাত করেন। পাইকাররা খামারে এসেই এসব কিনে নিয়ে যায়। সাজ্জাদ খানের সাথে আলাপকালে জানা গেল, তিনি মূলতঃ শিক্ষিত পরিবারের উত্তরাধিকার। তাদের পরিবারে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব খানে আলম খান ডাকসাইটে আমলা ছিলেন। ডাঃ আমানে আলম খান একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তার চট্টগ্রামের জামালখানে চেম্বার ছিল। বাবা শাহে আলম খান জনসেবক হিসেবে এলাকার সুপরিচিত। তিনি আমিরাবাদ জনকল্যাণ হাইস্কুল ও গার্লস হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। কৃষির প্রতি অনুরাগ ছিল। তিনি ছেলে-মেয়েদেরকে মৃত্যুর আগে বলে গেছেন, কৃষিকে ভালোবাসার মতো কর্মকান্ড পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। সভ্যতার ক্রমবিকাশের ধারায় মানুষের আদিপেশা ছিল কৃষি। কৃষি কাজে উৎপাদিত পণ্য, নিজ হাতে লাগানো ফলদ বৃক্ষ হতে আহরিত ফলমূল পুকুরের মাছের স্বাদ আলাদা। বর্তমান যুগে মানুষের আমিষ ঘাটতি প্রকট। নিজেরা যদি উৎপাদিত তাজা ফলমূল, শাক-সব্জি ও মাছ খেতে পারে তাহলে আমিষের ঘাটতি অনেকাংশে কমে যাবে। সাজ্জাদ খান বলেছেন, পিতার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তার বড় বোন শায়লা খানম পরিচালনা করেন। তার শ্বশুর বাড়ি মদুনাঘাট এলাকায়। স্বামী একজন তৈরি পোষাক শিল্প মালিক। শায়লা খানম জানিয়েছেন, তার সামাজিক কর্মকান্ডে স্বামী-শ্বাশুড়ির বিরাট অবদান রয়েছে। লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীম হোসেন জানিয়েছেন, এ পদ্ধতি খুবই লাভজনক। পুকুরে মাছ, পুকুর পাড়ে লাগানো লাউ ও শাকসব্জি মৎস্য চাষে বড়তি উৎপাদন। সাজ্জাদ খানের এ কর্মকান্ড তিনি নিজেই প্রত্যক্ষ করেন এবং তার অফিসের লোকজন বিভিন্ন সময়ে উৎসাহের পাশাপাশি উৎপাদনের কৌশল কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত কৃষি কর্মচারীদেরকে শিখিয়ে দেন। এ প্রতিবেদক সাজ্জাদ খানের কর্মকান্ড অবলোকন করার পাশাপাশি লোহাগাড়ার টংকাবতী, হাঙ্গরসহ বিভিন্ন নদীর চরাঞ্চলে ঘুরে দেখেছেন। সাথী ফসলের অবাধ প্রবাহ কৃষকরা সাথী ফসলের সাথে সাথে এক ফসল উঠে গেলে অন্য ফসল লাগানোর প্রস্তুতি নেন। তারা বেগুন ক্ষেতের প্লাসসিম, মরিচ ক্ষেতে পিয়াজ-রসুন সাথী ফসল হিসেবে নির্বাচন করতে দেখা যায়। এছাড়া পাহাড়ি অঞ্চলের পাদদেশেও প্রচুর পরিমাণে রবিশষ্য চাষাবাদ হয়। এলাকার কৃষকরা অনেকেই সাজ্জাদ খানের কর্মকান্ড দেখে জ্ঞান অর্জন করেন এবং সেভাবে চাষাবাদ করেন বলে এ প্রতিবেদককে বলছেন।

x