ইনক্লুসিভ এডুকেশন বৃহত্তর চট্টগ্রামের যেসব স্কুলে

রতন বড়ুয়া

মঙ্গলবার , ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ at ৬:৩৫ পূর্বাহ্ণ
248

ইনক্লুসিভ এডুকেশন (একীভূত শিক্ষাব্যবস্থা) চালুর লক্ষ্যে প্রতি জেলায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের একটি করে স্কুল নির্বাচনের কাজ শেষ করেছে দুই মন্ত্রণালয় (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়)। এর মধ্যে প্রতি জেলায় একটি করে প্রাথমিক স্কুল নির্বাচন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর মাউশির মাধ্যমে মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল নির্বাচন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। এই তালিকায় বৃহত্তর চট্টগ্রামের ৫ জেলায় (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা) প্রাথমিকের ১টি ও মাধ্যমিকের ১টি করে মোট ১০টি স্কুল বাছাই করা হয়েছে।
প্রাথমিকের তালিকায় যেসব স্কুল : একীভূত শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনে প্রাথমিক পর্যায়ে চট্টগ্রাম জেলায় রাউজানের শাহনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নির্বাচিত করা হয়েছে। একই ভাবে কক্সবাজার জেলাধীন সদরের লারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাঙামাটি জেলায় বনরূপা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাগড়াছড়ি জেলায় দীঘিনালা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বান্দরবান জেলায় সদরের ডনবস্কো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নির্বাচিত করা হয়েছে। সারাদেশের ৬৪টি জেলায় মোট ৬৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ইনক্লুসিভ এডুকেশন প্রবর্তনের লক্ষ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
মাধ্যমিকের তালিকায় যেসব স্কুল : নির্বাচিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্বাচন করে তথ্য পাঠাতে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের নির্দেশনা দেয় মাউশি। আর জেলা শিক্ষা অফিসারদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় ইনক্লুসিভ এডুকেশন প্রবর্তনে চট্টগ্রাম জেলাধীন রাউজান আর আর এসি মডেল সরকারি হাই স্কুলটি নির্বাচিত হয়েছে। স্কুলটি সদ্য জাতীয়করণকৃত এবং একীভূত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনে নির্বাচিত প্রাথমিক বিদ্যালয়টির নিকটবর্তী বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জসিম উদ্দিন। একই ভাবে কক্সবাজার জেলা সদরের কলাতলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, রাঙামাটি জেলাধীন রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, খাগড়াছড়ি জেলাধীন দীঘিনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং বান্দরবান জেলা সদরের ডনবস্কো উচ্চ বিদ্যালয়কে একীভূত শিক্ষাব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রাথমিকে ৬৪টি বিদ্যালয় নির্বাচন করা হলেও মাধ্যমিকে সারাদেশে নির্বাচন করা হয়েছে ৪০টি বিদ্যালয়কে। গত ১৪ অক্টোবর মাধ্যমিক পর্যায়ে নির্বাচিত বিদ্যালয়গুলোর এ তালিকা প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে ঢাকা অঞ্চলে ১১টি, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ৬টি, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলে ৪টি করে ৮টি, চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৭টি এবং রাজশাহী অঞ্চলে ৮টি বিদ্যালয়কে নির্বাচন করা হয়েছে। বিদ্যালয় নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় নির্বাচিত এসব স্কুলে অল্প সময়ের মধ্যে ইনক্লুসিভ এডুকেশন চালু হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জসিম উদ্দিন।
উল্লেখ্য, সমাজের অবহেলিত, অনগ্রসর, শারীরিক-মানসিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া, হরিজন ও নিম্ন শ্রেণির এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শ্রেণির শিশুসহ সব সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-৪ (এসডিজি-৪)-এর আওতায় নির্দিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ইনক্লুসিভ এডুকেশন চালু করা হচ্ছে। আর এই উদ্দেশ্য পূরণে তালিকাভুক্ত স্কুলগুলোর শিক্ষকদের বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একীভূত শিক্ষাব্যবস্থায় প্রত্যেক শিশুর চাহিদা ও সম্ভাবনা অনুযায়ী শিখন ও জ্ঞানার্জনের প্রতিবন্ধকতা সীমিত ও দূরীকরণের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি ঘটায়। এ পদ্ধতির মাধ্যমে ধর্ম-বর্ণ, ধনী-গরিব, ছেলে-মেয়ে, প্রতিবন্ধী ও সুস্থসহ সকল শিশুকে একই শিক্ষক দ্বারা একই পরিবেশে এক সাথে মানসম্পন্ন শিক্ষাদান করা হয়ে থাকে। এ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার বিভিন্ন চাহিদাগুলোকে সামাজিক সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিপূর্ণ করা হয়। আর এ শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধিসহ প্রান্তিক শিশু ও সাধারণ শিশু এক সাথে অধ্যয়ন করায় পরস্পর সম্পর্কে জ্ঞান ও শ্রদ্ধাবোধ অর্জন করতে পারে। মোটকথা এ শিক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সাম্যতা ও অধিকার নিশ্চিত করে।
এই শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হলে শিক্ষার্থীদের মাঝে যে বৈষম্য তা থাকবে না বলে মনে করেন মাউশি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক উপ-পরিচালক আজিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, ইনক্লুসিভ এডুকেশন চালু করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিন্ন কারিকুলামে একই ধরনের পাঠদান করা হবে। এতে করে শিক্ষার্র্থীরা সমান মনস্তত্ব নিয়ে গড়ে উঠবে। যা দেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে অভিমত আজিজ উদ্দিনের।

x