ইতিবাচকতাই হোক নতুন বছরের অঙ্গীকার

মঙ্গলবার , ১ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:১৮ পূর্বাহ্ণ
32

দেখতে দেখতে আরো একটা বছর বিদায় নিলো আমাদের জীবন থেকে। কালের গর্ভে হারিয়ে গেল সেই বছরটি ২০১৮। শুরু হলো নতুন বছর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ। ২০১৮ সালের উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে ছিল মাদকবিরোধী অভিযান, ‘কোটা সংস্কার’ আন্দোলন, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যা তো আছেই।
পুরাতন বিদায় নেবে। নতুনের আগমন ঘটবে। এটাই নিয়ম। একটি বছর শেষ। মানে নতুন বছরের পদধ্বনি শোনা। মেলাতে হচ্ছে অনেক হিসাব। পাওয়া না পাওয়ার হিসাব। তবে নতুন বছরে ভালো থাকার প্রত্যাশা থাকে। ‘সব কিছুতে ইতিবাচকতা’ হোক নতুন বছরের অঙ্গীকার। অনেক প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণকে পিছনে ফেলে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এক নতুন প্রত্যাশার আলোকবর্তিকাকে সামনে নিয়ে। বিগত বছরের হতাশা ব্যর্থতা ও গ্লানিকে পায়ে ঠেলে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর মাধ্যমে আমরা পৌঁছে গেলাম নতুন স্বপ্নযজ্ঞে।
কারো কারো মতে, বিদায়ী বছরের বার্তা অনুযায়ী সদ্য শুরু হওয়া বছরটিতে তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপত্তা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া নিরাপদ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার প্রায় অসম্ভব। আমাদের সাইবার অঙ্গনকে সুরক্ষিত রাখতে হলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করে কাজ করতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে ততটা সুফল পাওয়া যাবে না। আমরা আশা করি, সকলে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করবে এবং নিরাপদ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতন হবে। বলা বাহুল্য, আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি খাত এখন উৎপাদনমুখী। বিদায়ী বছরেই বিনিয়োগকারী আকর্ষণ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে বেশকিছু প্রযুক্তি-শিল্পবান্ধব নীতিমালা তৈরি হয়েছে। নতুন বছরে আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নীতিমালাকে যথাযথভাবে প্রয়োগ করা। আমাদের মনে রাখতে হবে, এখনও এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও মূলধনী বিনিয়োগ তেমন নেই। তাই আমাদেরকে এখন শিল্পবান্ধব সহজ বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচন করতে হবে। বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে উদ্যোগ নিতে হবে। উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।
এও আশা করছি, ২০১৯ সালে বাংলাদেশে ই-কমার্স এর আরও প্রসার ঘটবে। আমাদের অনলাইন শপগুলো বেশ ভালো ব্যবসা করছে। তবে পণ্যের ডেলিভারি নিয়ে বেশ কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। সরকারি ডাক বিভাগের মাধ্যমে ই-কমার্স কোম্পানিগুলোর পণ্য ডেলিভারি নিয়ে অভিযোগ আছে। আশা করছি, নতুন বছরে এ সমস্যা থাকবে না।
আমাদের প্রত্যাশা, ২০১৯ সাল মনুষ্যত্বের জন্য শুভ সংবাদ নিয়ে আসবে। বিগত বছরের ক্ষতগুলোকে সারিয়ে নিয়ে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বরণ করতে চাই নতুনকে। অপেক্ষা, আশা আর প্রত্যাশার শেষ নেই আমাদের। গত বছরও ছিল সরকারের কাছে জনগণের অনেক প্রত্যাশা। নতুনের কাছে আবারও প্রত্যাশা, সব ঝড়-জলোচ্ছ্বাস বিদায় নেবে; সুসংবাদ আসবে ঘরে ঘরে, আসবে রাজনীতিতে, আসবে আমাদের গণতন্ত্রসহ সবক্ষেত্রে।
আসুন আমরা সবাই দেশকে নিজের মায়ের মতো ভালোবাসতে শিখি। তবেই দেশে উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকবে। মাতৃভূমিকে বন্ধু ভেবে সবাইকে দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করা উচিত। নতুন বছরে তারুণ্য জেগে উঠুক নবউদ্যমে। আমাদের সকলের কামনা হোক সবার মঙ্গল। আমরা দেখতে চাই ভালো কাজে নিয়োজিত তারুণ্য। বাস্তবতা যত বৈরী হোক তরুণ প্রজন্মকে ধৈর্য ধরে তা মোকাবিলা করতে হবে। নতুন বছরে শিক্ষাক্ষেত্রে আরো উন্নয়ন দেখতে চাই। শিক্ষার অভাব পূরণ হলে অন্যান্য প্রয়োজনীয়তা স্বাভাবিকভাবেই আর অবশিষ্ট থাকবে না ।
যদিও জানি, সামাজিক, অর্থনৈতিক নানা সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে গেলেও রাজনৈতিক অনৈক্য, সংঘাত, সহিংসতা, সন্দেহ, অবিশ্বাস এক প্রধান সমস্যা হিসেবেই এখানে রয়ে গেছে। রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন দেশের রাজনীতিতে স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ শক্তির সহাবস্থান সম্ভব নয় বলেই এই সংকট দূর হচ্ছে না-এমনটিই বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এসব সমস্যা দূর করে একটি আদর্শিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদের পৌঁছাতেই হবে। তবেই স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার যে লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। যে কোনো মূল্যে আমরা সুন্দর একটা আগামী চাই। সুন্দর আগামী মানেই আমাদের ভালোভাবে বাঁচা। আর আমরা যখন একে অপরের জন্য কিছু করতে পারব, তখন এমনিতেই আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে।

x