ইতালির প্রধানমন্ত্রী কন্তের পদত্যাগের ঘোষণা

আখি সীমা কাউসার, রোম (ইতালি) থেকে

মঙ্গলবার , ২০ আগস্ট, ২০১৯ at ১১:০১ অপরাহ্ণ
79

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জোসেপ্পে কন্তের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অংশীদার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনির সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ার পর প্রধানমন্ত্রী জোসেপ্পে কন্তে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

সালভিনির বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতা এবং ব্যক্তিগত ও নিজ দলীয় স্বার্থের জন্য রাজনৈতিক সংকট তৈরি করার অভিযোগ এনেছেন কন্তে।

প্রসঙ্গত, কন্তের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব দিয়েছেন সালভিনি।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসি ও ইতালির বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে জানা গেছে কন্তের নেতৃত্বাধীন ফাইভ স্টার মুভমেন্ট ও সালভিনির নেতৃত্বাধীন লেগা নর্দ জোট সরকারে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। একে অপরের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন কন্তে ও সালভিনি।

সরকার গঠনের মাত্র ১৪ মাসের মাথায় এমন রাজনৈতিক টানাপড়েনে পড়েছে ইতালির জোট সরকার।

সালভিনি জানিয়েছেন, তার পক্ষে ফাইভ স্টার মুভমেন্টের সঙ্গে আর কাজ করা সম্ভব নয়।

আজ মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) উচ্চকক্ষ সিনেটের উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে কন্তে বলেছেন, ‘গত মে মাসে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় নির্বাচনে সাফল্য আসার পর থেকে জাতীয় নির্বাচনে ফেরার সুযোগ খুঁজে বেড়াচ্ছেন সালভিনি।’

প্রসঙ্গত, মে মাসের ইউরোপীয় নির্বাচনে ৩৪ শতাংশ ভোট পেয়ে ইতালির শীর্ষ দল হিসেবে চিহ্নিত হয় লেগা নর্দ ।

অন্যদিকে, ফাইভ স্টার পায় মাত্র ১৭ শতাংশ।

কন্তে বলেন, ‘সালভিনির জন্য সরকারের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটেছে। এই টানাপড়েন এখানেই শেষ করা উচিৎ।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি আজ জানাতে চাই যে আমি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবো।’

এক পর্যায়ে সিনেটে কন্তের বক্তব্য দেয়ার আগে ফাইভ স্টার নেতা লুইজি দি মাইয়ো এক ফেসবুক পোস্টে জানান, আজ লেগাকে তাদের ভুলের জন্য, সবকিছুর পতন ঘটানোর জন্য, আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে সরকারি সংকট সৃষ্টির জন্য উত্তর দিতেই হবে।

তিনি আরো জানান, কন্তের সঙ্গে কাজ করা তার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয় ছিল। রাজনৈতিক এই টানাপড়েনে ইতালীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেল তারা রাজনৈতিক এ সমস্যাগুলো নিয়ে আর কথা বলতে চান না।

তাদের একটাই প্রশ্ন কী হবে ইতালির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ? হতাশার মধ্যে আছেন ইতালীয়রা।

ইতালীয়দের রাজনৈতিক এত টানাপড়েন, উত্থানপতন কিন্তু কোথাও যেন তার কোনো চিহ্নই দেখা যায় না।

হয়তো বা বার বা রেস্তোরাঁ কিংবা চায়ের আড্ডায় এসব ব্যাপারে কিছু আলোচনা হয় কিন্তু রাস্তাঘাটে বা কোথাও কোনো রকম রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা কিংবা বাকবিতণ্ডা নেই। কারো বুঝার কোনো ক্ষমতা নেই যে ইতালির রাজনীতির মাঠে কী হচ্ছে।

অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং বিশ্বমন্দাভাব কাটিয়ে না ওঠার পেছনে ইতালির রাজনৈতিক অবস্থাই দায়ী বলে মনে করে সাধারণ ইতালীয়রা। তারা আশা করেন রাজনৈতিক দলগুলো মিলে একটি সুন্দর সমাধান করবে যেটা ইতালির সমস্যাগুলো দূর করতে সহায়ক হবে।

x