ইতালির নতুন আইনে উদ্বিগ্ন প্রবাসীরা

আবু শাহীন, মিলান (ইতালি) থেকে

বৃহস্পতিবার , ৪ অক্টোবর, ২০১৮ at ১০:০৭ অপরাহ্ণ
260

কোনো দেশের সরকার গঠন করার আগে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসতে হয়। ইতালিতে গত নির্বাচনে উদারপন্থীদের হারিয়ে বর্তমান রক্ষণশীল কয়েকটি রাজনৈতিক দল কোয়ালিশন করে সরকার গঠন করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সিংকুয়ে স্তাল্লা(cinque stalla), কট্টর বিদেশী বিরোধী লেগা নর্দ(lega nord) দল। এই লেগা নর্দ-এর প্রেসিডেন্ট সেলভিনিকে নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। যেহেতু তার নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে ইতালি হতে বিদেশীদের তাড়ানোসহ সুযোগ-সুবিধা কর্তন, বিদেশীদের ইতালিতে ঢুকার সুযোগ না দেয়াসহ বিদেশী সংস্কৃতির বিরোধী শর্ত ছিল সেহেতু সেভাবেই ইতালির স্বরাষ্ট্রনীতি হচ্ছে।

গত সপ্তাহে বিদেশীবিরোধী কয়েকটি ধারা সংসদ অনুমোদন দিয়েছে। যার মধ্যে বিদেশীদের ফৌজদারি অপরাধসহ নীতিবহির্ভূত বড় কাজ করলে বিতাড়ন, নতুন আগত বাংলাদেশীসহ বিদেশীদের ভিসা প্রদানে কড়াকড়ি, আরও কয়েকটি ইস্যুতে আর্থিক সহায়তা কমানোর ধারা রয়েছে। ফলে বিদেশীসহ বাংলাদেশী প্রবাসীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত প্রায় একযুগ ধরে ইতালির আর্থিক অবস্থায় চলছে মন্দাভাব। অনেক ছোট বড় শিল্পকারখানা দেউলিয়া হয়েছে যার ফলে অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে দিন কাটাচ্ছে। ইতালি সরকার হয়ে পড়েছে ঋণগ্রস্থ। রাজনৈতিক দলগুলো সুযোগটি সদ্ব্যবহার করে নির্বাচনে রায় নিয়েছে, উদারপন্থীরা ঠকেছে।

নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, ওই আইন প্রয়োগ হলে সরকার ঋণ হতে অনেকটা মুক্ত হবে। অবাধে বিদেশীদের ধরতে বা শায়েস্তা করতে দশ হাজারের মতো পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেয়া হবে। এই আইন প্রয়োগের জন্য বাজেটও ধরা হয়েছে। তবে একটি মহল বলছে উক্ত আইনে ইতালি শ্রমিক হারিয়ে আরও আর্থিকভাবে ক্ষতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তাদের অভিমত দেশে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ালে, বন্ধ শিল্পকারখানায় আর্থিকভাবে সুবিধা দিয়ে চালু করলে, বিশ্বচাহিদা অনুযায়ী বিদেশী ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার ব্যবস্থা নিলে দেশ আর্থিকভাবে এগিয়ে গিয়ে সংকট মুক্ত হবে।

কিন্তু ইতালি সরকার আর্থিক ক্ষতির জন্য লাগামহীনভাবে বিদেশীদের আগমনকে দায়ী করছে। সাগর পথে ইতোমধ্যে কয়েকটি অভিবাসীবহনকারী জাহাজ ইতালি গ্রহণ করেনি। ফলে বিশ্বব্যাপী সমালোচিত হতে হয়েছে।নতুন সরকার বিদেশীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী পদক্ষেপ নেয়ায় বাংলাদেশীসহ প্রবাসী অন্যান্য দেশের অভিবাসীরা উদ্বিগ্ন।

x