ইতালিতে এমবিবিএস করে মুখ উজ্জ্বল করলেন বাংলাদেশের তাহমিদ

আখি সীমা কাওসার, ইতালি থেকে

রবিবার , ২৬ মে, ২০১৯ at ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
217
মাত্র ১২ বছর বয়সে মায়ের সাথে ইতালিতে আসেন তাহমিদ তিসাদ। বাবা এ কে এম সেলিম একজন ব্যবসায়ী। তিনি ইতালিতে আসেন ১৯৯৭ সালে।
ইতালিয়ান স্কুলে ভর্তি হয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে পড়াশোনায় ভালো ফলাফল করলে নিজের ইচ্ছায় এবং মা-বাবার উৎসাহে আরো ভালো ফলাফল করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রবল ইচ্ছা জাগে তাহমিদ তিসাদের। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০১৭ সালে পাদোভা শহরের পাদোভা ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিবিএস পাশ করে ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশীদের মুখ উজ্জ্বল করেছেন বাংলাদেশি ছেলে তাহমিদ তিসাদ।
গত ১৮ মে ২০১৯ পাদোভা মেডিকো বিভাগের এমবিবিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীদেরকে সম্মাননা ও শপথ অনুষ্ঠানে প্রায় দুই শতাধিক ছাত্রছাত্রীদেরকে শপথ বাক্য ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন মেডিকেল ইউনিভার্সিটির প্রধানরা।
সেই অনুষ্ঠানে একমাত্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের হয়ে শপথ ও সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন তাহমিদ তিসাদ।
তাহমিদ তিসাদের বাবা পাদোভা শহরের প্রবাসী এ কে এম সেলিম ও তার মা শামীমা আক্তার ছেলের এই ফলাফলের জন্য খুবই আনন্দিত।
তাহমিদের বাবা বলেন, ‘আমার ছেলের জন্ম এই দেশে নয় কিন্তু সে এই দেশে বড় হয়েও বিদেশিদের সাথে পাল্লা দিয়ে ভালো ফলাফল করেছে। তার এই ফলাফল আমাদের বাংলাদেশী প্রবাসীদের বিদেশিদের কাছে মুখ উজ্জ্বল করেছে। বরাবরই বাংলাদেশী ছেলেমেয়েরা ইতালির বিভিন্ন শহরে স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে খুবই ভালো ফলাফল করছে যা ইতালির বাংলাদেশী মা-বাবাদের জন্য অনেক সুখকর বিষয়।‘
গত কয়েক বছরে ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে লেখাপড়ার জন্য অনেক মা-বাবাই ইতালিয়ান পাসপোর্ট পেয়েও যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অনেক দেশে চলে গেছেন। তাহমিদ সহ আরো কয়েকজন এরই মধ্যে এমবিবিএস পাস করে ডাক্তার হয়েছেন এবং স্পেশালিস্ট হওয়ার জন্য এখানে আরও উচ্চতর লেখাপড়া করছেন। তাহমিদের বাবা মোটেও মানতে রাজি নন যে ইতালিতে লেখাপড়া ভালো না। ইচ্ছা থাকলে সব জায়গাতেই লেখাপড়া ভালো করা যায় এটা মা-বাবা এবং ছেলেমেয়ের ওপর নির্ভর করে বলে মনে করেন তিনি।
পাদোভাসহ ইতালির বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাঙালিদের চোখেমুখে এখন অনেক স্বপ্ন যে ইতালিতেও ছেলেমেয়েরা ইচ্ছা করলে ভালো করতে পারবে এবং পাস করে চাকরি পাবে।
তাহমিদের ছোট বোন তানজিনা ২০১৮ সালে চক্ষু বিভাগে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে বর্তমানে মাস্টার্সে পড়াশোনা করছেন।  তাদের বাড়ি ঢাকা বিভাগের গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার নবীপুর গ্রামে।
তাহমিদ তিসাদের এই ফলাফলে ইতালিতে বেড়ে ওঠা এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা ও অভিভাবকরা আরো উৎসাহিত হবেন বলে আশা করছেন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী।
x