ইডিইউর দুই সেরা বিতার্কিকের গল্প

মহিউদ্দিন জুয়েল

শনিবার , ৩০ জুন, ২০১৮ at ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ
212

বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্র আয়োজিত বির্তক উৎসবে পরপর দুইবার সেরা বিতার্কিকের পুরস্কার পেয়েছেন মুন্না। পরদিন বন্ধুদের এসএমএস, ফোন আর ধন্যবাদের বন্যায় নাকি দারুণ আনন্দে ভেসেছেন তিনি। অন্যদিকে ছবি আঁকার মেয়েটি সাহিত্য ভালোবেসে ভর্তি হলেন ইংরেজি বিভাগে। ইউনিভার্সিটির করিডোরে পা রাখতে না রাখতেই ঢুকে পড়লেন আবার বির্তক ক্লাসের আড্ডায়। ব্যস্‌! সেই থেকে নিয়মিত। আজ ইউনিভার্সিটি তো আগামীকাল ‘দৃষ্টি’ চট্টগ্রামের অনুষ্ঠানে। অবিরাম ছুটে চলা মুমুর। বলছিলাম সবুজ পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে উঠা চট্টগ্রামের ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির (ইডিইউর) দুই বিতার্কিকের গল্প। একজন মুন্না মজুমদার। পড়ছেন কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে। অন্যজন মিষ্টিভাষী মুমু দাশ। ইংরেজি সাহিত্যের তুখোড় ছাত্রী। যুক্তি ছাড়া যেমন সমাজ চলতে পারে না, তেমনি মুন্না আর মুমু চলতে পারেন না বির্তক ছাড়া। উঠতেবসতে কিংবা আড্ডায়। সবখানেই চলে তাদের কথার পিঠে কথার বাজি। তবে তর্কের খাতিরে তর্ক নয়। তাঁরা দু’জন যুক্তি দিয়ে তুলে ধরতে চায় নতুন বাংলাদেশ। সেই সকাল থেকে চলছে টানা ক্লাস। দুপুরের কিছু সময়ের পর মুন্না আর মুমুকে একসঙ্গে পাওয়া গেলো লাইব্রেরিতে। একটু পরেই নাকি আবার শুরু হবে বিতর্কের ক্লাস। তাই নিয়ে চলছে প্রস্তুতি। এখানকার শিক্ষার্থীরা যে বির্তক ভালোবাসেন তার নজির দেখা গেল ক্লাবের বড়সড় সদস্যদের তালিকা দেখে। ভীষণ হাসিখুশি মুন্না বর্তমানে ইডিইউ ডিবেটিং সোসাইটির কনভেনারের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১১ সাল থেকেই বাংলাদেশের শীর্ষ স্থানীয় বির্তক সংগঠন ‘দৃষ্টি’ চট্টগ্রামের একজন সক্রিয় সংগঠক তিনি। বিতার্কিক হবেন এমন স্বপ্ন নাকি কখনই ছিল না তার। অন্যরা কীভাবে সুন্দর করে কথা বলে, যুক্তি দিয়ে যুক্তি খন্ডন করে কাছ থেকে তাই দেখতে নাম লেখালেন এই জগতে। প্রতিবছর চট্টগ্রামের অন্তত ১০/১৫টি স্কুলকলেজের বির্তক প্রতিযোগিতায় নিয়মিত বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

আয়োজন করে যাচ্ছেন কর্মশালার। উঠতি ব্যস্ত এই তরুণের গল্প এখানেই শেষ নয়। জাতীয় পর্যায়ে রয়েছে একাধিক পুরস্কার। বাংলাদেশ টেলিভিশন, ডিপিএল, দৃষ্টিসহ একাধিক সংগঠন আয়োজিত ৩০টি জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ভালো বিতার্কিক হতে গেলে কী কী গুণাবলি থাকতে হয়? প্রশ্ন করতেই হাসি দিয়ে হাতের আঙুল গুণে গুণে মুন্না বলতে শুরু করলেন, আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। সব ধরনের বিষয়ের উপর পড়াশোনা কিংবা জ্ঞান থাকা চাই। সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে উপস্থিত বুদ্ধি বাড়াতে হবে। অন্যদিকে মুমুর স্বপ্ন তরুণতরুণীদের কাছে বিতর্ক চর্চা জনপ্রিয় করে তোলা। আত্মবিশ্বাস আছে মেয়েটির। এই যেমন স্কুলে মাত্র ক্লাস সেভেনে পড়া অবস্থায় চট্টগ্রামের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে নিজের আঁকা চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে বড়দের চমকে দিয়েছিলেন তিনি। বন্ধুবান্ধব আড্ডায় সবসময় বিতার্কিকদের সুনাম শুনে বড় হয়েছেন। সেই তাড়না থেকে যোগ দেন দৃষ্টিতে। নিজের যুক্তি নিয়ে ছুটে গেছেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। অংশ নিয়ে নজর কেড়েছেন আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায়ও। ঝুলিতে জমা পড়েছে সার্টিফিকেট। বাংলাদেশ টেলিভিশনের যুক্তিতর্কে দুইবার অংশ নিয়ে বিচারকদের নজর কেড়েছেন এখনি। কেবল তাই নয়, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ জাতীয় ডিবেট প্রতিযোগিতা, চুয়েটে অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক উৎসব, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অব ডিবেটের ন্যাশনাল কমপিটিশানে যুক্তি দিয়ে আলোকিত করেছেন বন্ধুদের প্রিয় মুখ মুমু। তবে এখানেই থামতে চান না মেয়েটি। তার ভাষায়, বির্তক আমাকে ঠিকব্যাঠিক ভাবতে শিখিয়েছে। আমি চাই বাংলাদেশের বিতার্কিকরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের মেলে ধরবেন। তবে তার জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতাও করা জরুরি।

x