ইউএসটিসিতে চার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

শিক্ষকের গায়ে কেরোসিন

আজাদী প্রতিবেদন

শুক্রবার , ১২ জুলাই, ২০১৯ at ৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ
29

শিক্ষকের গায়ে কেরোসিন ঢালার ঘটনায় চার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বেসরকারি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, চিটাগাং (ইউএসটিসি) কর্তৃপক্ষ। শাস্তির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর শেখ রাসেল শাহেন শাহ, মো. আলী হোসেন ও ময়নুল আলমকে এক শিক্ষাবর্ষের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার দিলীপ কুমার বড়ুয়া।
গত ২ জুলাই দুপুরে ক্যাম্পাসে একদল শিক্ষার্থীর হাতে লাঞ্ছিত হন ইংরেজির অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদ। ওই দিন ক্যাম্পাসের ভেতরে এই শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুলকে ঘটনার দিনই পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে জিঞ্জাসাবাদের জন্য দুই দফায় রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানোর পর আরো এক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার মো. মইনুল আলম অনিক (২২) ইউএসটিসি’র ইংরেজি বিভাগের স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। তাকে শিক্ষক লাঞ্ছনার দায়ে এক শিক্ষাবর্ষের জন্য বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সংবাদ সম্মেলন পরবর্তী বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর খুলশী এলাকা থেকে মইনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন খুলশী থানার ওসি প্রণব চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদকে লাঞ্ছিত করা ও গায়ে কেরোসিন ঢালার ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছিল। কমিটির দেয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৮ জুলাই শৃঙ্খলা কমিটির জরুরি সভায় চারজনকে চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইউএসটিসির প্রক্টর কাজী নূর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন, “শৃঙ্খলা কমিটি মাহমুদুলের ছাত্রত্ব বাতিল এবং চিরতরে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সাতদিনের সময় দেয়া হয়েছে।
অপর তিনজনকে এক একাডেমিক শিক্ষাবর্ষ বহিষ্কার এবং বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
নূর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন, ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের ঘৃণ্য কাজ করলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। ইউএসটিসি কর্তৃপক্ষের বাইরে পুলিশ প্রশাসন একটি পৃথক তদন্ত কমিটি করেছে, আমরা সে প্রতিবেদনটিও বিবেচনা করব। শিক্ষকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এতে অন্যান্যের মধ্যে মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আবদুর রশিদ ও বৈশাখী বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

x