ইংরেজি দক্ষতা যাচাইয়ের জনপ্রিয় পরীক্ষা

বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও অভিবাসনে পিটিই একাডেমিক

প্রবীর বড়ুয়া

শনিবার , ১৯ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৮:০১ পূর্বাহ্ণ
758

দেশের একটি স্বনামধন্য কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছে শাওন। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল উচ্চশিক্ষার জন্য একদিন বিদেশ যাবে। তাই এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, সুইডেন, নিউজিল্যান্ড, জার্মানি কিংবা ইউরোপের যেকোনো উন্নত দেশের ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সে যাবে উচ্চশিক্ষার জন্য এমনটাই তার পরিকল্পনা। কিন্তু যে দেশেই সে পড়তে যেতে চায় না কেন উচ্চশিক্ষার আবেদন করার সময় তাকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি ইংরেজি পরীক্ষার ফলাফল জানাতে হবে। তাই সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিয়ারসন টেস্ট অভ ইংলিশ একাডেমিক (PTE Academic) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে কারণ এটি বিদেশে উচ্চশিক্ষা কিংবা ইমিগ্রেশনের জন্য শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা যা সম্পূর্ণ কম্পিউটার ভিত্তিক। তাছাড়া পরীক্ষাটি অনেকগুলো কারণে উচ্চশিক্ষার্থী ও অভিবাসন প্রার্থীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
তার মধ্যে অন্যতম হলো পিটিই একাডেমিক বিশ্বব্যাপী হাজার হাজার বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাছে একটি বিশ্বস্ত, স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য ইংরেজি দক্ষতা পরীক্ষা যার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এটি অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে অভিবাসী হওয়ার আবেদনের জন্যও গ্রহণযোগ্য। এছাড়াও বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাবৃত্তি যেমন শেভেনিং স্কলারশিপস এবং সংস্থা যেমন অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস, ইউকে বার স্ট্যান্ডার্ড বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থা পিটিই একাডেমিক স্কোর গ্রহণ করে থাকে।
একজন পিটিই একাডেমিক পরীক্ষার্থীকে ফলাফলের জন্য সর্বোচ্চ সময় অপেক্ষা করতে হয় না। সচরাচর এর ফলাফল পাওয়া যায় পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে। সারা বিশ্বে ২৫০টিরও বেশি টেস্ট সেন্টারে বছরে ৩৬০ দিনেরও বেশি পছন্দমতো যেকোনো দিনে এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যায়। পিটিই একাডেমিক শতভাগ কম্পিউটার ভিত্তিক পরীক্ষা হওয়ার কারণে সব পরীক্ষার্থীর ফলাফলই দেয়া হয় নিরপেক্ষ ও সূক্ষ্মভাবে। তাছাড়া প্রতিটি টেস্ট সেন্টারে আছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ডিজিটাল বায়োমেট্রিকস পাম-স্ক্যানিং, ডিজিটাল স্বাক্ষর নেয়ার ব্যবস্থার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক সিসিটিভি তত্ত্বাবধানের ব্যবস্থা যা পরীক্ষার স্কোরকে দেয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা। এ কারণে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত এই পরীক্ষার ফলাফলে মানবসৃষ্ট কোনো ত্রুটি হওয়ার বা প্রভাব পড়ার কোনো সুযোগ নেই।
শাওনের মতোই আমাদের দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবী উচ্চশিক্ষার জন্য অথবা স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য উন্নত দেশে অভিবাসী হওয়ায় আগ্রহী। এ আগ্রহ সাম্প্রতিককালে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। আগ্রহের দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হয়েছে মালয়েশিয়া, জাপান, চীনসহ উন্নত আরো অনেক দেশ। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, উচ্চতর গবেষণার সুযোগ, একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী করে নিজেদের দক্ষতা গড়ে তোলা, পেশাগত ক্ষেত্রে মানোন্নয়ন, উন্নত জীবনধারা সহ সুনিশ্চিত ও সাফল্যময় জীবন এ আগ্রহের কারণ।
ইউনেস্কো ইনস্টিটিউট ফর স্ট্যাটিস্টিকস-এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৭ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ গিয়েছেন বাংলাদেশের ৬০,৩৯০ জন শিক্ষার্থী। বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে যারা সহযোগিতা করে থাকেন এই রকম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উচ্চশিক্ষা এবং অভিবাসনের উদ্দেশ্যে দেশের বাইরে পাড়ি জমানোর এই প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিটেক, হায়ার এডুকেশন রিসোর্সেস এবং পিটিই-এর রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার এম জহির উদ্দিন জানান, পিটিই একাডেমিক পরীক্ষার ব্যাপারে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে ইচ্ছুক বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। যেসব শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা কিংবা অভিবাসনের জন্য বিদেশে যেতে আগ্রহী তাদের কাছে পরীক্ষাটি শুধু উপকারিই নয় বরং তাদের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য কার্যকরীও বলে জানান তিনি।
পরীক্ষার্থীদের মন্তব্য
সুহাইব আহমেদ নামে এক পিটিই একাডেমিক পরীক্ষার্থীর মতামত হলো পরীক্ষাটি একবারেই দেয়া যায় বলে অন্য ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষাগুলোর মতো ভিন্ন ভিন্ন বিভাগের জন্য আলাদা আলাদাভাবে আসতে হয় না। তাছাড়া ওয়েবসাইটটি অনেক বেশি ইন্টারএকটিভ যেখানে সংশ্লিষ্ট সব তথ্যই পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।
আরো একজন পরীক্ষার্থীর মন্তব্য হলো কম্পিউটার ভিত্তিক পরীক্ষাটির ফলাফল দ্রুত পাওয়ার কারণে এটি যে শুধু উদ্বিগ্নতা কমায় তা নয় তাছাড়া মূল্যবান সময়ও বাঁচায়।
অস্ট্রেলিয়ার আরেক পরীক্ষার্থী এমিনা মিউজিক জানান যে পিটিই একাডেমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সময় তিনি কোনো ধরনের মানসিক চাপ অনুভব করেননি। বরং তার খুব স্বাচ্ছন্দ্যবোধ হয়েছে পুরো পরীক্ষায়।
পিটিই একাডেমিক-এর নানা দিক
পিটিই একাডেমিক পরীক্ষায় ইংরেজি ভাষার চারটি দক্ষতা (শ্রবণ, পঠন, লিখন ও কথন) সহ প্রত্যেকটি ধাপ সম্পন্ন করা হয় কম্পিউটারের মাধ্যমে। তিন ঘণ্টার পুরো পরীক্ষাটি পরীক্ষার্থীর সময় সাশ্রয়ের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে। বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও অভিবাসনে আগ্রহীদের পরীক্ষাটি বেছে নেয়ার আরেকটি কারণ হলো কোনো প্রকার অতিরিক্ত ফি ছাড়াই নিজের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো সংখ্যক প্রতিষ্ঠানে খুব দ্রুততম সময়ে অনলাইনে স্কোর পাঠানো যায়।
প্রত্যেকটি মানুষেরই একটি নিজস্ব বাচনভঙ্গি আছে যা একান্তই স্বতন্ত্র। পিটিই একাডেমিক কম্পিউটারের মাধ্যমে সব ধরনের উচ্চারণ চিহ্নিত করতে পারে কারণ এতে ১৩০টি ভিন্ন ভিন্ন ভাষার উচ্চারণকে ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় ফলাফল নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে পিটিই একাডেমিক-এর স্বয়ংক্রিয় স্কোরিং প্রযুক্তি প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর উচ্চারণের ভঙ্গিকে সমানভাবে এবং নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করতে পারে। তাই বাচনভঙ্গির ভিন্নতার কারণে কোনো পরীক্ষার্থীকে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না। তাছাড়া পিটিই একাডেমিক বাস্তব ও প্রাত্যহিক জীবনের ব্যবহৃত ভাষাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে বলে ভাষার প্রয়োগ এবং দক্ষতা এ পরীক্ষায় অধিকতর গুরুত্ব পেয়ে থাকে।
পিটিই একাডেমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ঢাকার ধানমন্ডি ও উত্তরায় রয়েছে দু’টি পরীক্ষা কেন্দ্র। পাশাপাশি আছে প্র্যাকটিস টেস্ট দেয়ার ব্যবস্থা। পিটিই একাডেমিক-এর অনেকগুলো সুবিধার মধ্যে আরেকটি হলো এই পরীক্ষার ফি জমা দেয়া যায় আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড বা ভাউচারের মাধ্যমে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ছুটির দিনগুলো ছাড়া বছরের বাকি দিনগুলোতে প্রতিদিন সকাল দশটা ও দুপুর আড়াইটার দুই সেশনে এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যায়। সাধারণত রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা যায় পরীক্ষার ৪৮ ঘণ্টা আগেও। পিটিই একাডেমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে www.pearsonpte.com এই ওয়েবসাইটে। পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন টিপস এবং নিয়মিত তথ্যের জন্য লাইক দিয়ে রাখতে পারেন facebook.com/Pearson.Bangladesh এই পেজে।

x