ইঁদুরের উপদ্রব: স্থায়ী কর্মসূচি প্রয়োজন

শুক্রবার , ৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৪:১২ পূর্বাহ্ণ
12

গত ১৬ নভেম্বর দৈনিক আজাদীর ১০ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত সংবাদে জানা যায় হাটহাজারীতে আমন ক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলার আশা পূর্ণ হবে কিনা এ নিয়ে তারা শংকায় রয়েছে। ইঁদুর একটি জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইঁদুর ধ্বংসকারী শত্রু। প্রতিনিয়ত নষ্ট ও ক্ষতিসাধন করছে মানুষের খাবার ও আসবাবপত্র থেকে শুরু করে কৃষকের ক্ষেতের ফসল, গোলার শস্য, বাগানের ফলমূল, হাঁস মুরগীর খাবার পর্যন্ত প্রায় সব কিছু প্রতিদিন ধ্বংস করছে হাজার হাজার হাঁস মুরগীর বাচ্চা। বিস্তার ঘটাচ্ছে জন্ডিস, আমাশয়, টাইফয়েড, চর্মরোগসহ প্রায় তেত্রিশ প্রকারের মারাত্মক সব রোগ। যুগে যুগে প্লেগ মহামারী রূপে মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়েছে এই নোংরা ও অত্যাচারিত ছোট জীবটি। জানা যায়, দেশে প্রতিবছর প্রায় দশ লাখ টন খাদ্য শস্য নষ্ট করে থাকে মানুষের চরম শত্রু এই প্রতারক চক্রটি। যার অর্থ মূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার উপরে। আনারস, নারকেল, আলু বাদামের মতো ফল-ফসল নষ্ট করে বিপুল পরিমাণ। সেচ মৌসুমে নালা/ ড্রেন কেটে নষ্ট করে বিপুল পরিমাণ পানি। এই ক্ষুদ্র অত্যাচারিত জীবটি প্রতি বছরে যে পরিমাণ খাদ্য শস্য, ফল, ফসল ধ্বংস করে ততটা ক্ষতি বন্যা-খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগেও হয় না। কোটি কোটি টাকার খাদ্য শস্য যায় ইঁদুরের ছোট ছোট পেটে। এত বড় শত্রু নিধনে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট মৌসুমে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রুটিন মাফিক ইঁদুর নিধন অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু এটা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্ত কম। ইঁদুর কৃষি, কৃষক ও সাধারণ মানুষের এত বড় স্থায়ী শত্রু হওয়া সত্ত্বেও প্রতি বছর ইঁদুর দ্বারা প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয় তার সঠিক হিসাব কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের কাছে আছে বলে মনে হয় না। এই সংস্থার প্রতি বছর ইঁদুর নিধনের স্থায়ী কোন কর্মসূচি নেই বললেই চলে। জানা গেছে, ইঁদুরের আক্রমণে আমন ফসলের মোট উৎপাদনের প্রায় চার গমের ছয় থেকে সাত, আলু তিন, শাকসব্‌জি তিন/ চার, নারকেল চার/ সাত এবং গুদামজাত শস্য সাড়ে চার থেকে সাড়ে পাঁচ শতাংশ পরিমাণ ক্ষতিসাধন করে। এ ছাড়া সেচের পানি অপচয় করে তিন থেকে পাঁচ শতাংশ। ইঁদুর বছরে যে পরিমাণ খাদ্য শস্য নষ্ট করে তা দিয়ে একটি জেলার বাৎসরিক চাহিদা মেটানো সম্ভব। ইঁদুর অভিযানকে একটি স্থায়ী কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ না করা করলে ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা দুষ্কর হবে বলে মনে করে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
এম এ গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x