আড়তদারদের চামড়া বিক্রি না করার ঘোষণায় নতুন সঙ্কট

আজাদী অনলাইন

শনিবার , ১৭ আগস্ট, ২০১৯ at ৭:৪১ অপরাহ্ণ
720

সরকারের অনুরোধে ট্যানারি মালিকরা কাঁচা চামড়া কেনার প্রস্তুতি নিলেও আড়তদাররা বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়ায় নতুন সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

আজ শনিবার (১৭ আগস্ট) বৈঠক করে কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেছেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া ‘শত শত কোটি টাকা’র সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তারা চামড়া বিক্রি করবেন না।

এর প্রতিক্রিয়ায় ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলছেন, সরকারের অনুরোধে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী তারা শনিবার থেকে কাঁচা চামড়া কিনতে তৈরি হলেও আড়তদাররা বিক্রি না করলে তাদের কিছু করার নেই।

বাংলাদেশে চামড়াজাত দ্রব্য তৈরি করতে ট্যানারিগুলোতে চামড়ার যে চাহিদা, তার বড় অংশই মেটে ঈদুল আজহায় কোরবানি হওয়া পশু থেকে। বিডিনিউজ

কোরবানির পশুর চামড়া মূলত কেনেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা, তাদের কাছ থেকে কাঁচা চামড়া যায় আড়তগুলোতে। সেখান থেকে চামড়া কেনেন ট্যানারি মালিকরা।

এবার কাঁচা চামড়ার দর দেখে হতাশ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ চামড়া সড়কে ফেলে যাওয়ার ঘটনা ঘটালে তা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।

পরিস্থিতি দেখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাঁচা চামড়া রপ্তানির সুযোগ দেয়ার ঘোষণা দেয়ার পাশাপাশি শনিবার থেকে চামড়া কিনতে ট্যানারি মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানায়, তাতে সাড়াও মেলে।

এর মধ্যেই শনিবার সকালে এক জরুরি বৈঠকে বসে বকেয়া না পাওয়া পর্যন্ত ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিল কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিগত ২০১২ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ট্যানারি মালিকদের কাছে যে পাওনা টাকা রয়েছে, তা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত নতুন ব্যবসার সিদ্ধান্ত নেব না। আজকের মিটিংয়ে সবাইকে বারণ করা হয়েছে কাঁচা চামড়া বিক্রি করতে। রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।‘

সাংবাদিকদের প্রশ্নে দেলোয়ার একজন আড়তদারের পাওনার হিসাব তুলে ধরে জানান, তিনি ৭টি ট্যানারির কাছে এক কোটি টাকারও বেশি টাকা পাওনা রয়েছেন। একটি ট্যানারির কাছে ৪৪ লাখ ৬৬ হাজার, আরেকটি ট্যানারির কাছে ২৪ লাখ ৯৫ হাজার, আরেকটি ট্যানারির কাছে ২৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকা পাওনা। এভাবে ৫ লাখ পাঁচ হাজার, ৯ লাখ ৮০ হাজার, তিন লাখ ৭২ হাজার এবং ১১ লাখ টাকা করে পাওনা থাকার তথ্য অ্যাসোসিয়েশনকে জানিয়েছেন।

কেবল ঢাকার লালবাগের পোস্তার ব্যবসায়ীরাই ট্যানারি মালিকদের কাছে অন্তত একশ’ কোটি টাকা পান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেই হিসাবে সারা দেশে অন্তত ৪০০ কোটি টাকার উপরে বকেয়া রয়েছে।’

পুরান ঢাকার লালবাগের পোস্তাতেই কাঁচা চামড়ার অধিকাংশ আড়ত রয়েছে। আগে সেখান থেকেই চামড়া যেত কাছের হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোতে। ট্যানারিগুলো কয়েক বছর আগে সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

কাঁড়া চামড়া ব্যবসায়ীদের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশেনের কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বলেন, ‘পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী কয়েকজন ট্যানারি মালিক পোস্তা এলাকায় চামড়া কিনতে গিয়েছেন। এখন বিক্রি করা না করা সম্পূর্ণ তাদের এখতিয়ার।’

আড়তদারদের পাওনার বিষয়ে মিজানুর বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের কাছে ব্যবসায়ীর বকেয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া।’

ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে সরকার রপ্তানির অনুমোদন দেয়ার কথা বললেও বাংলাদেশ থেকে কাঁচা চামড়া রপ্তানির নজির নেই বলে জানান হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।

তবে তারা বিদেশে কাঁচা চামড়া রপ্তানির বাজার ধরার চেষ্টা করছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

দেলোয়ার বলেন, ‘কাঁচা চামড়া রপ্তানির বিষয়ে আলোচনা চললেও বাংলাদেশে এর নজির নেই। আমার জীবদ্দশায় কোনোদিন দেখিনি যে বাংলাদেশ থেকে কাঁচা চামড়া রপ্তানি হয়েছে। বরং কিছু কিছু ট্যানারি দেশের বাহির থেকে কাঁচা চামড়া আমদানি করেছে।’

x