আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের সাফল্য ৩৩ শতাংশ

তাসফিয়া হত্যা মামলা ।। আইও বদলে আবেদন যাচ্ছে কমিশনারের কাছে

সবুর শুভ

বৃহস্পতিবার , ১৪ জুন, ২০১৮ at ৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ
17

মেধাবী শিক্ষার্থী তাসফিয়া আমিন হত্যায় মামলা হয়েছে দেড় মাস। আসামি করা হয়েছিল ৬ জনকে। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে মাত্র ২ জন। পুলিশের সাফল্য বলতে গেলে এটুকুই। অন্য আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে বলে অভিযোগ বাদীপক্ষের। মামলার অন্যতম আসামি ইমতিয়াজ সুলতান ইকরামকে পাঁচলাইশ থানার কাছাকাছি একটি স্থানে প্রায়শই আড্ডা দিতে দেখা যাচ্ছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, গুরুত্বপূর্ণ এ মামলার নিবিড় তদন্ত চলছে। অপেক্ষা আরো কয়েকটি প্রতিবেদনের জন্য। যে সব প্রতিবেদন ঢাকা থেকে আসার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পোস্টমর্টেমসহ কয়েকটি প্রতিবেদনের জন্য পুলিশ যেভাবে অপেক্ষায় রয়েছে আসামিদের ধরার ব্যাপারে ওই ধরনের কোন তৎপরতা লক্ষ্যণীয় নয়। আলোচিত এ মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে পতেঙ্গা থানা পুলিশের সাফল্য মাত্র ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ এজাহারের ৬ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২ জনকে।

এদিকে আলোচিত এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের জন্য আবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার না হলে ঈদের পর খোলার দিনেই এ আবেদন সিএমপি কমিশনারের কাছে জমা দেয়া হবে বলে জানান মামলার বাদীর আইনজীবী এডভোকেট খালেদ। মামলার বর্তমান তদন্তে আশাহত হয়ে এ আবেদন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তবে ঠিক কোন সংস্থাকে এ মামলার তদন্ত দেয়ার আবেদন করবেন সেটা খোলাসা করেননি তিনি।

থানা পুলিশের তদন্তে এক ধরনের আস্থাহীনতার কথা জানিয়েছেন বাদী। এ কারণে অন্য কোন সংস্থা দিয়ে তদন্ত চান তিনি। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), সিআইডি ও ডিবির চৌকষ কর্মকর্তার মাধ্যমে এ মামলার তদন্ত হতে পারে।

বাদীপ জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদন প্রথমে আদালতে না করে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছেই করা হবে। এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট চন্দন দাশ জানান, থানা পুলিশের তদন্তে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে ভিকটিম তাসফিয়ার পরিবার। এ কারণে পিবিআই এর তদন্ত চেয়ে আবেদন করার কথা জানিয়েছেন তারা।

প্রসঙ্গত: তাসফিয়া হত্যা মামলার একটি অংশে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হিসেবে মামলার প্রধান আসামি আদনান মির্জা প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে এবং প্রাপ্ত বয়স্ক হিসেবে আসিফ মিজান মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছে।

এর আগে প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে আদনানের রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপস্থিত হননি তখন। তদন্ত কর্মকর্তা পতেঙ্গা থানার এসআই আনোয়ার হোসেনের অনুপস্থিতিতে আদালত রিমান্ড শুনানি পিছিয়ে দেয় একমাস। আগামী ২৮ জুন আদনানের রিমান্ড শুনানির দিন ঠিক রয়েছে।

প্রসঙ্গত: গত ১ মে তাসফিয়া নগরীর ও আর নিজাম রোডের বাসা থেকে বেরিয়ে একটি রেস্টুরেন্টে বন্ধু আদনানের (১৬) সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। পরে ২ মে নগরীর পতেঙ্গায় নদীর তীর থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ তাসফিয়ার বন্ধু আদনান মির্জা ও মিজানুর রহমান ওরফে আসিফ মিজানকে গ্রেপ্তার করেছে। আসিফকে তিনদিনের একদফা রিমান্ডে নেয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছিল বলেও জানিয়েছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা পতেঙ্গা থানার এসআই আনোয়ার হোসেন। এ মামলার অপর আসামিরা হলো নবম শ্রেণির ছাত্র শওকত মিরাজ, আশেকানে আউলিয়া ডিগ্রি কলেজের এইচএসসির ছাত্র ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম, কথিত যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ ফিরোজ ও তার সহযোগী সোহায়েল ওরফে সোহেল। এই চার আসামি ঘটনার পর থেকে পলাতক।

x