আশীষ বড়ুয়া (বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক)

রবিবার , ৫ আগস্ট, ২০১৮ at ৬:১২ পূর্বাহ্ণ
64

 : দুটি অক্ষরের একটি শব্দ বন্ধু। আর দুজন মানুষের মাঝে যখন আত্মার একটি সম্পর্ক গড়ে উঠে তখন তাকে বলে বন্ধুত্ব।বন্ধুত্বের সম্পর্কটি নির্ভর করে পারস্পরিক বিশ্বাস,ভালোবাসা আর নির্ভরতার উপর।এখানে কোন রক্তের বন্ধন,আত্মীয়তার সম্পর্ক, ধর্মবর্ণজাতিগোষ্ঠী, ভিন্ন দেশের ভৌগলিক,সীমারেখা লাগে না।এই সম্পর্ক কোন রাখঢাক, আড়াল, গোপনীয়তা মেনে চলে না।মনের সমস্ত জমে থাকা দুঃখ,বেদনা,আনন্দের কথাগুলো মুক্তমনে বন্ধুকে শেয়ার করা যায়।পথ চলতে চলতে শুধু দুজন মানুষের মধ্যে ক্রমশ: ভালোলাগা ও নির্ভরতা তৈরি হতে হতে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বন্ধুত্বের সম্পর্কে কোন বাধাধরা নিয়ম নেই, কোন হিসাবনিকেশ নেই,নেই কোন স্বার্থপরতা। শুধু আছে দুঃখকষ্ট, আনন্দবেদনাগুলোকে ভাগ করে নেয়া,এটাই হচ্ছে বন্ধুত্ব। বন্ধুত্বের সম্পর্কের মাঝে একটা স্নিগ্ধতা জড়িয়ে থাকে যা উচ্চারণের সাথে সাথে অন্যরকম একটা স্বস্তি এবং ভালোলাগা কাজ করে।মাতৃভূমির প্রতি যেরকম একটা গভীর টান অনুভব হয়, বন্ধুত্বের সম্পর্কের মাঝেও সেরকম একটা টান অনুভব হয়। বন্ধুত্ব হচ্ছে জীবনে আলোর প্রদীপের মতো পাশে থেকে যাওয়া।একমাত্র বন্ধুর জন্য বন্ধুই জীবন উৎসর্গ করতে পারে। হলি আর্টিসান হামলায় ফায়াজ হোসেন তার দুই বিদেশী বন্ধুকে বাঁচানোর জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে ইতিহাসখ্যাত হয়েছেন।এরকম আরো অনেক উদাহরণ আমাদের চারপাশে আছে।বন্ধু নির্বাচনেও অত্যন্ত সচেতন থাকতে হয়। ভালো বন্ধু যেমন আছে খারাপ বন্ধুও আছে। বন্ধুত্বের সম্পর্কে বয়স মানে না।অসম বয়স,পেশার সাথে ও বন্ধুত্ব হতে দেখা যায়।বন্ধুত্ব বাবামাভাইবোনশিক্ষক ছাড়াও নানা পেশার সাথেও হয়। জর্জ হার্ভাট বলেছেনএকজন বন্ধু হলো সর্বোৎকৃষ্ট আয়না।এই আয়নায় নিজেকে যেমন দেখবে বন্ধুকেও দেখবে। শুধু বাহ্যিক অবয়বকে নয়,ভেতরটাকে তেমনি দেখবে।ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস ডাটাবেজের তথ্যমতেযে সব মানুষ তাঁদের বন্ধুদের সাথে নিয়মিত আড্ডা দেয় তারাই সবচেয়ে সুখি মানুষ।বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে ভার্চুয়াল জগতে বন্ধুর সংখ্যা বাড়লেও মূলত শৈশবকৈশোর বয়সের বন্ধুরাই সবচেয়ে কাছেরপ্রাণের হয়।বন্ধুত্বের সম্পর্কে তুইবন্ধুরাই জীবন ক্যানভাসে অধিক জায়গা দখল করে থাকে। সবশেষে বলা যায় সুখ শান্তিতে বাঁচতে হলে বন্ধুহীন নয়, ভালো বন্ধুরাই জীবনকে আলোকিত করে দিতে পারে। বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক।

x