আল মাহমুদ : বাংলা কবিতায় স্বমহিমায় উজ্জ্বল ও ব্যতিক্রমী প্রতিভা

মোসতাক খন্দকার

শুক্রবার , ১ মার্চ, ২০১৯ at ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ
134

কবি আল মাহমুদের সাথে আমার ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা এই আবৃত্তির মাধ্যমেই। একসময় তাঁর কবিতার মুগ্ধ পাঠক ছিলাম। একজন ভক্তের মতোই এই সম্পর্কটা ছিল দূরান্বয়ী। কিন্তু ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে আসার সৌভাগ্য অর্জনের সূচনাটা করে দিয়েছিল চট্টগ্রাম কলেজ। ১৯৮৭ সাল, আমি স্নাতক ডিগ্রী অর্জনের শেষ পর্যায়ে। কলেজের সাংস্কৃতিক উৎসবে আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় অনেক তারকা শিল্পীকে হারিয়ে আমি প্রথম হয়েছি। সেই উৎসবের প্রথম পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি কবি আল মাহমুদ। চট্টগ্রামের আবৃত্তি অঙ্গনে আমার বিশিষ্ট হয়ে ওঠা, কলেজের শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পৌঁছার এবং আবৃত্তিতে প্রথম স্থান অর্জন করার কারণে কলেজ কর্তৃপক্ষ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আমাকে আবৃত্তি করতে বললেন। অপেক্ষায় রইলাম সেই কাঙ্ক্ষিত দিনের, কখন আসবে কবি, কখন আসবে কবি…..। অতপর কবি আসলেন অনুষ্ঠান স্থলে। চেহারায় যেন কোন কিছু জয় করার দীপ্ত প্রভা। তখন কিন্তু সত্যিই কবি আল মাহমুদের খ্যাতির পতাকা পত্‌পত্‌ করে উড়ছে। সদ্য তিনি তাঁর ‘আরব্য রজনীর রাজহাঁস’ কাব্য গ্রন্থের জন্য ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন। যা হোক, অনুষ্ঠানে ফিরে আসি। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কবি আল মাহমুদ। তাঁর বক্তৃতার ঠিক আগেই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আমাকে মঞ্চে আহ্বান জানালেন আবৃত্তি পরিবেশনের জন্য। আয়োজকরা আমাকে কার কার কবিতা আবৃত্তি করতে হবে তা জানিয়ে দেননি। পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে শুরু করলাম, বাংলা কাব্য ভুবনের স্বরাটের সামনে তাঁরই কবিতার আবৃত্তি। আমার জন্যে এবং যে কোন আবৃত্তিশিল্পীর জন্যে এ এক দারুণ পুলকের বিষয়। শুরু করলাম তাঁর সদ্য ফিলিপ্‌স পুরস্কার পাওয়া কাব্যগ্রন্থ ‘আরব্য রজনীর রাজহাঁস’ থেকে ‘সিকান্দর আবু জাফর স্মরণে’ কবিতা দিয়ে। এরপর আবৃত্তি করলাম একই কাব্যগ্রন্থ থেকে ‘সাহসের উপমা’। দু’টি কবিতা আবৃত্তি করার পর আমার কানে ধ্বনিত হলো দু’টি শব্দ বাহ্‌ বাহ্‌ কবিরই কণ্ঠ থেকে। এবার আমাকে সমাপ্তি টানতে হবে। কারণ শিক্ষক-ছাত্র-ছাত্রী এবং কলেজের বাইরের এক বিশাল মানবস্রোত অধীর আগ্রহে বসে আছে কবি আল মাহমুদের বক্তব্য শোনার জন্যে। কিন্তু আমাকে যে আল মাহমুদের লেখা আমার একটি ভীষণ প্রিয় কবিতার আবৃত্তি কবিকে শোনাতেই হবে। সঞ্চালককে কোন সুযোগ না দিয়ে মাইক্রোফোনে আমি নিজেই বললাম- “এটি আমার আজকের শেষ পরিবেশনা, আমি আমার প্রিয় কবি আল মাহমুদের আরো একটি কবিতা আবৃত্তি করছি। এটি আমার ভীষণ প্রিয় একটি কবিতা।” শুরু করলাম- একদা এমন ছিল যে, আমার চোখই ছিল সমস্ত দুঃখের আকর ….এরপর আমি যখন ঠিক নিচের পংক্তিগুলো আবৃত্তি করতে লাগলাম- “দুঃখ পেলে তারা একবারেই কাঁদতেন না, এমন নয় সন্তপ্ত অথবা সন্তানহারা হলে তারাও কাঁদতেন। তাদের চোখও ফেটে যেতো”- এইটুকু আবৃত্তি করতেই কানে ভেসে এল কারো ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দ। এই শব্দ মঞ্চ থেকেই আসছে। আড়চোখে একটু দেখার চেষ্টা করলাম। দেখলাম কবি আল মাহমুদ কাঁদছেন। এই দৃশ্যকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করে আমি আমার আবৃত্তি অব্যাহত রাখলাম- “একবার আমার কনিষ্ঠতমা বোন নিউমোনিয়ায় মারা গেলে আম্মা অনেকদিন কেঁদেছিলেন, সে কান্না, আমি ভুলিনি।” এবার কবি ডুকরে কেঁদে উঠলেন। তাঁর অশ্রুবান আমার বোধের জগতে এসেও পরশ বুলিয়ে গেল। আমার গলাও ধরে এল। আবৃত্তি শৈলী যাতে বিঘ্নিত না হয় সে জন্যে নিজেকে সামলে নিয়ে পরিবেশনাকে এগিয়ে নিয়ে গেলাম। লাউড স্পীকারে আমার কণ্ঠে ধ্বনিত হতে লাগলো প্রিয় কবি আল মাহমুদের কবিতা-
আমরা দু’দিক থেকে দু’জনকে দেখি।আমার মা’র শুধু অভিযোগ আর অভিযোগ
একবার ভাইয়ের বিরুদ্ধে। একবার বোন আর বহমান কালের বিরুদ্ধে। তারপর অবিরল কান্না।…আমি অবশ্য সান্ত্বনাচ্ছলে তাকে ধমক লাগাই। তার কান্না থামে না।
এদিকে কবিরও কান্না থামে না। আমি এক বিরল অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই আবৃত্তি শেষ করলাম। সঞ্চালক কবিকে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে আহ্বান জানালেন। কবি রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে পোডিয়ামের সামনে এসে দাঁড়ালেন, চোখে চশমা দিয়েই কোন সম্বোধন ছাড়াই বললেন- “মোসতাক আমাকে খুব কাঁদালো। ভালই হলো, একটা বিষাদের মেঘ জমাট হয়ে বুকটা ভারি করে রেখেছিল, আজ বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়লো, এখন বেশ হালকা লাগছে।” বলা যায় এই আবৃত্তিই কবি আল মাহমুদের সাথে আমার নিবিড় সম্পর্কের সেতুবন্ধন তৈরি করে দিয়েছিল। তারপর? তারপর সেই বহুলশ্রুত উক্তির মতই বলতে হয়- “সেই থেকে শুরু, বাকিটা ইতিহাস।” এরপর থেকে এমন কোনদিন হয়নি আমি ঢাকা গেছি কিন্তু কবির সঙ্গে দেখা করিনি। কবি আল মাহমুদ চট্টগ্রাম এসেছেন কিন্তু আমাকে স্মরণ করেননি কিংবা তাঁর সঙ্গ মেলেনি। একে অপরের প্রতি এই ভালবাসার নিয়ামক শক্তি ছিল কবিতা এবং আবৃত্তি। আমার প্রতি তাঁর স্নেহ উদারতা এবং আমাকে নিবেদিত তাঁর কিছু পঙক্তিমালা (যা এই লেখার সাথে অনেকটা অলংকরণ হিসেবে সন্নিবেশিত) আমাকে আবেগাপ্লুত করে তুলেছিল। আমি লেখক নই, তবুও এই অযোগ্যের প্রতি এই প্রীতি কেন তা আমার বোধগম্য হতো না। তবে কবি যে কখনও এর কারণ একেবারেই বলেননি তা নয়। তাঁর সাথে আলাপচারিতায় অনেককে নিয়ে আড্ডায় তিনি সাহিত্যের রস দিয়ে ইঙ্গিতে অনেক কিছুই বলেছেন। আর তা হলো আমি তাঁর কবিতার গুণমুগ্ধ পাঠক এবং একজন সফল আবৃত্তিকার। তাছাড়া আমি কবি আল মাহমুদের সৃষ্টিকর্মের এবং তাঁকে নিয়ে কোথায় কী লেখা হয়েছে তার অনুুপুঙ্খ তথ্য রাখতাম। এমনও হয়েছে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সাক্ষাৎকারে তাঁকে নিয়ে এক বাক্যে কী প্রশংসা করেছেন, আবদুল মান্নান সৈয়দ তাঁর কবিতা নিয়ে কী দুর্দান্ত লিখেছেন, শিবনারায়ণ রায় একজন খাঁটি কবি হিসেবে কতটা মর্যাদা দিয়েছেন, সুমিতা চক্রবর্তী কী লিখলেন, শহীদ কাদরি কী বললেন ইত্যাদি নানারকম খবরাখবর তাঁর কাছে পৌঁছানোর প্রথম সংবাদদাতা ছিলাম আমি।
আমার প্রতি তাঁর ভালবাসার এবং একজন আবৃত্তিশিল্পী হিসেবে আমাকে দারুণভাবে স্বীকৃতি দেয়ার এবং অনুপ্রাণিত করার ঘটনা ঘটলো ৬ বছর পর। ১৯৯৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। হঠাৎ এক দুপুরে মোস্তফা তৌহিদ নামে আমার এক জুনিয়র বন্ধু (এখন আমেরিকা প্রবাসী) আমার বাসায় আসে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, সেও একজন কাব্যপ্রেমিক এবং আমার আবৃত্তির ভক্ত। দরজা খুলতেই অনেকটা নৃত্যের ভঙ্গিতেই তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ আমাকে একটু ভাবিয়ে তুললো। তার হাতে একটা বই। আমাকে বললো, “আপনি তো ছক্কা মেরে দিয়েছেন। আল মাহমুদ আপনাকে আরো অনেক উপরে তুলে দিয়েছেন।” তার এসব কথায় আমার কৌতুহলের আর অন্ত রইল না। আমার অবস্থা দেখে সে আর কালবিলম্ব না করে তার হাতের বইটা আমাকে দেখালো। দেখলাম কবি আল মাহমুদের সদ্য প্রকাশিত একটি কাব্যগ্রন্থ। নাম ‘আমি, দূরগামী’, সে বইটা খুলে একটা পৃষ্ঠা আমার চোখের সামনে মেলে ধরলো। পৃষ্ঠায় ছাপার অক্ষরে পড়তেই আমার দৃষ্টি স্থির হয়ে গেল, আমি বাকরুদ্ধ। আমার জন্যে মহামূল্যবান যে গ্রন্থটি আনা হয়েছে তাতে লেখা- ‘উৎসর্গ, আবৃত্তিকার মোসতাক খন্দকার’। আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ আমাকে তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ উৎসর্গ করেছেন, একথা ২২ বছর অতিবাহিত হবার পরও যখন মনে পড়ে আনন্দে মন ভরে যায়। এই আনন্দের পরিমাপ তারাই করতে পারবে যারা এই সম্মান প্রাপ্তির মূল্য বোঝে।
ছয়বছর পর কবিকে নিয়ে আরেকটি তৃপ্তিদায়ক স্মৃতি ধারণ করার সৌভাগ্য হলো। আমার বন্ধু, আমার আবৃত্তি চর্চার অকৃত্রিম উৎসাহদাতা বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী জামালুদ্দীন দ্বিতীয়বারের মত উদ্যোগ নিলেন আবৃত্তির একটা অডিও অ্যালবাম বের করার। দ্বিতীয় উদ্যোগ এই জন্যে বললাম, কারণ শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতায় উদারপ্রাণ এই মানুষটি আমার আবৃত্তির একক অ্যালবামের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। সঠিক অর্থেই পৃষ্ঠপোষক। অ্যালবামের রেকর্ডিং, ঢাকায় যাতায়াতসহ যাবতীয় খরচ তিনি বহন করেছিলে। এমনকি আমাকে অত্যন্ত সম্মানজনক একটা সম্মানীও দিয়েছেন। সেই বন্ধু জামালুদ্দীন আবার আরও একটি আবৃত্তি অ্যালবামের প্রধান উদ্যোক্তা। তবে এবারের আয়োজন ছিল একবারেই ব্যতিক্রম। এবার তিনি আমার এবং তারও প্রিয় কবি আল মাহমুদের কবিতা নিয়ে বের করবেন এই অডিও অ্যালবাম। পোয়েটিক্‌স নামে একটি সাহিত্য-সংস্কৃতি-বান্ধব প্রতিষ্ঠান এই কার্যক্রমের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিল। যার অধিকর্তাদের এক একজন কবি, প্রাবন্ধিক, শিল্পী, অভিনেতা ও সংগঠকও ছিলেন। যাঁদের মধ্যে একজন চলে গেছেন না ফেরার দেশে। যাকে আমরা হারিয়েছি তার নাম শফিউল আলম রতন। কবি আল মাহমুদের কবিতা নিয়ে আবৃত্তির এই অ্যালবামে আমিসহ পাঁচজন অংশগ্রহণ করেছিলাম। এরা হলেন মোহাম্মদ সেলিম (বাংলাদেশ বেতার, চট্টগ্রামের ঘোষক), ফয়সল আজিজ (ঢাকায় নটরডেম কলেজের শিক্ষক), গোলাম রাসূল (লন্ডন প্রবাসী মিডিয়া পার্সন) এবং মিশফাক রাসেল (নরেন আবৃত্তি একাডেমীর সভাপতি)। দিনটা ছিল ২০০১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। যথারীতি আমরা ঢাকায় ‘নয়েজ অব আর্ট’ নামে একটা অত্যাধুনিক স্টুডিওতে রেকর্ডিং করার জন্য পৌঁছালাম। আমরা তখনও জানতাম না এই স্টুডিওতেই আমাদের জন্যে একটা বড় চমক অপেক্ষা করছে। আমরা আবৃত্তি রেকর্ড করার জন্যেই যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম ঠিক তখনই স্টুডিওতে এসে হাজির হলেন কবি আল মাহমুদ। তিনি সবার সাথে কুশল বিনিময় করলেন এবং একটা কাগজ আর কলম নিয়ে লিখতে বসে গেলেন। লেখা শেষ হতেই তাঁকে দিয়েই রেকর্ডিং শুরু হলো। তিনি শুরু করলেন এভাবে- “কবিতা নিভৃতির শিল্প এতে কোন সন্দেহ নেই। আধুনিককালের গুঢ়ার্থবাদী কবিরা এতদিন তা ভেবে এসেছেন। কিন্তু কাব্য যখন তার নির্জনতা ত্যাগ করে ছড়িয়ে পড়ার যোগ্য হয়ে ওঠে তখন তাকে কোনো না কোনোভাবে তার কালের শ্রেষ্ঠ কন্ঠস্বরের সহায়তা কামনা করতে হয়। আমার কবিতাও এর ব্যতিক্রম নয়।” -বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ কবির কন্ঠে আবৃত্তি শিল্প নিয়ে এমন অর্থবহ প্রোজ্জ্বল কথামালা শুনে আমরা সত্যিই খুব প্রাণিত হয়েছিলাম। এরপর তাঁর কন্ঠে একে একে তিনটি কবিতা রেকর্ড করা হয়। আমরা তন্ময় হয়ে শুনেছি। যদিও আমরা কেউই এই তিনটি কবিতা আবৃত্তি করিনি, তবুও বলতে চাই একজন আবৃত্তিশিল্পী যে কবিতা আবৃত্তি করার জন্যে প্রস্তুতি নেন সেই কবিতা যদি ওই কবির কন্ঠে শোনেন তাহলে আবৃত্তিকারের পক্ষে আবৃত্তি-নির্মাণ কাজটা সহজ হয়। যাহোক আমরা সফলভাবে রেকর্ডিং শেষ করলাম। কবি আল মাহমুদের কবিতা নিয়ে একটি অডিও-অ্যালবাম এবং সেই অ্যালবামে ছয়টি কবিতা আবৃত্তি করতে পারা আমার জন্যে এক দারুণ সুখকর ব্যাপার। এবার আমার এই লেখার একটু বাঁক পরিবর্তন করতে চাই। অন্য বা ভিন্ন প্রসঙ্গ নয়। বলা যায় একই প্রসঙ্গের একই বিষয়ের, একই কবির কবিতা নিয়ে ভিন্নতর মূল্যায়ন। বাংলাদেশের কবিতা নিয়ে অনেক গবেষক, সমালোচক, প্রাবন্ধিক, কবি, বোদ্ধা পাঠকসহ অনেকের লেখা আগ্রহের সাথে আমি পড়ি। আল মাহমুদের কবিতা নিয়ে কারো কোন লেখা দেখলেই প্রবল কৌতূহল নিয়ে যে পড়া হয় তা প্রকাশ করতে আমার কোন দ্বিধা নেই। যেসব লেখা পড়েছি তাতে একটা অভিন্ন বাক্যে, অভিন্ন সুরে আল মাহমুদের কবিতা মূল্যায়ন করার অভিন্ন প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। আর তা হলো আল মাহমুদকে সোনালি কাবিনের কবি বলে আখ্যায়িত করা। কেউ বলেছেন- সোনালি কাবিন-ই হচ্ছে আল মাহমুদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ, কেউ বলেছেন- “সোনালি কাবিন পর্যন্ত তাকে পড়া যায়, এরপর আর পড়া যায় না” ইত্যাদি। এসব উক্তি বা মন্তব্য কেউ কেউ সচেতনভাবে করেছেন, কেউ কেউ করেছেন ‘সোনালি কাবিন’ এর পরের কাব্যগ্রন্থগুলোর কবিতা না পড়ে কিংবা পড়ে না বুঝে। তবে অধিকাংশ কবি সমালোচক ও প্রাবন্ধিক সমালোচনার স্বার্থে নেতিবাচক সমালোচনা করেছেন, ঈর্ষাকে সাহিত্যের মোড়কে সুস্বাদু খাবার হিসেবে পরিবেশন করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। কোন কোন সমালোচক রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে ‘সোনালি কাবিন’-এর পরের কবিতাগুলো বাতিল করার প্রয়াস চালিয়েছেন। ১৯৭৩ সালের অক্টোবর মাসে ‘সোনালি কাবিন’ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। সমালোচক খেতাবধারী কিছু কবি-লেখকের কথাকেই যদি গ্রাহ্য করি তাহলে কি আমাদেরকে এই অসত্য কথাও মেনে নিতে হবে যে, ১৯৭৩ সালের পর আল মাহমুদ আর কোন ভাল বা কালোত্তীর্ণ কবিতা লিখেন নি? মজার ব্যাপার হচ্ছে কবি আল মাহমুদকে সোনালি কাবিন পর্যন্ত দাড়ি চিহ্ন দেয়ার কষ্টকল্পিত প্রচারে যেমন ষাটোর্ধ কবি লেখক সক্রিয় ছিলেন তেমনি কবি ও সম্পাদক নামধারী অর্বাচীন বালকও একচোখা মন্তব্য করে নিজেদের হালকা-ওজনের জানান দিয়েছে। আমি ‘সোনালি কাবিন’ কাব্যগ্রন্থের কিছু কবিতা নিয়মিত আবৃত্তি করতাম। এই যেমন- ‘কবিতা এমন,’ ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’, ‘খড়ের গম্বুজ’, ‘সোনালি কাবিন ১ ও ১৪,’ ‘আমার চোখের তলদেশে’। কিন্তু কবি আল মাহমুদকে যখন অসৎ উদ্দেশ্যে ‘সোনালি কাবিনের কবি’ হিসেবে সীমাবদ্ধ করার একটা সংঘবদ্ধ তৎপরতা লক্ষ করলাম তখন থেকেই এই কবিতাগুলো আবৃত্তি করা কমিয়ে দিয়েছি। অপরদিকে আরেকটি পক্ষ মনের জোরে এবং না-বোঝার ঘোরে কবি আল মাহমুদকে তাদেরই কবি হিসেবে চিহ্নিত এবং প্রচার করার কাজে মেতেছিলেন। এই দুই পক্ষের কোন তৎপরতাই একজন কবি কিংবা একজন শিল্পীর জন্যে সুখকর ও প্রীতিকর নয়। তবে যাহোক, আমার এবারের আলোচনা কবি আল মাহমুদের ‘সোনালি কাবিন’ পরবর্তী কবিতা নিয়ে। তাই আমার এই আলোচনায় ‘সোনালি কাবিন’ কাব্যগ্রন্থ ছাড়া অন্য কাব্যগ্রন্থগুলোর প্রসঙ্গ-অনুষঙ্গ এবং কবিতার পঙ্‌ক্তি চয়ন করা হবে। আশ্চর্য রূপ-রস-গন্ধ-স্পর্শময় কবিতার মধ্য দিয়ে কবি আল মাহমুদের আবির্ভাব ও উত্থান এবং ‘সোনালি কাবিন’ এর মত সাড়া জাগানো কাব্যগ্রন্থ উপহার পেয়েছে পাঠক। কিন্তু এর পরও আবহমান লোকজ ধারা ও অস্থির বর্তমান তাঁর কুশলী হাতে সেলাই হয়ে আমাদের অভিজ্ঞতার সীমাকে বাড়িয়ে দিয়েছে বার বার নতুন স্পর্ধায় ও অহংকারে। ‘সোনালি কাবিন’ পরবর্তী কবিতায়ও আল মাহমুদ যে গ্রামের ছবি এঁকেছেন তা আমাদের দেশেরই গ্রামের প্রতিচ্ছবি। আল মাহমুদের অধিকাংশ কবিতার ওই এক খণ্ড গ্রামে পুরো বাংলাদেশ প্রতিবিম্বিত হয়েছে। আধুনিক শরীরকে লোকজ শব্দ ও উপমায় অলংকৃত করা এবং স্বতন্ত্র কাব্যভাষার জন্য তাঁর যে কবিখ্যাতি তার ধারাবাহিকতা তাঁর কাব্যকৃতিতে অক্ষুণ্ন ছিল। আবহমান গ্রামবাংলাই ঘুরে ফিরে তাঁর কবিতায় শীতের পিঠার মত খুশবু ছড়িয়েছে। ‘সোনালি কাবিন’ কাব্যগ্রন্থের অনেক পরে ১৯৮৭ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে এসেও কবি আল মাহমুদ লেখেন-
আমি সারা জীবন একটা স্টেশনের জন্য ধাবমান গাড়ির
জানালায় বসে থাকি। বাইরে কত গ্রাম আর চাষা জমির চালচিত্র।
কুয়াশার ভেতর মানুষের অস্পষ্ট নড়াচড়া। ভোরের মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসা কর্মনিপুণ কিষাণের
মেহেদীরাঙা দাড়ির মত ভেজা বাতাস। আর
সদ্য দুইয়ে নেয়া গাভীর বাঁটের মত হালকা মেজাজের বাংলাদেশ
(অস্পষ্ট স্টেশন/আরব্য রজনীর রাজহাঁস)
এই কবিতায় বিম্বিত বাংলাদেশই আল মাহমুদের কবিতা। দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং বার্ধক্যজনিত কারণে ডিকটেশন দিয়ে কবিতা লেখার অধ্যায়টি কবি আল মাহমুদের জীবন থেকে বাদ দিয়েও বলা যায় ‘সোনালি কাবিন’ কাব্যগ্রন্থ রচনার পরও কমপক্ষে বিশবছর প্রকৃতি, মানুষ, গ্রামকে উপজীব্য করে রচিত কবিতার স্বাদ কাব্য পাঠকদের জন্য নিয়মিত প্রাপ্তি ছিল। নাগরিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে তিনি গ্রামে ‘প্রত্যাবর্তনের জন্য লজ্জিত’ হওয়ার অজুহাত দেখালেও কবিতায় বারবার গ্রামে ফিরে গেছেন। কবি আল মাহমুদের কাব্যভাষা একান্তভাবে তাঁর নিজস্ব। গ্রামের শব্দ ও প্রবাদ-প্রবচনকে আধুনিক কোন কবি তাঁর মত এমন নিপুণ ও শৈল্পিক ভঙ্গিতে ব্যবহার করেননি। বহুল আলোচিত কাব্যগ্রন্থ ‘সোনালি কাবিন’-এর পরও তাঁর কবিতার যাদুময় শব্দচয়ন এবং বোধের গভীরতা কাব্যপাঠক ও কাব্যযোদ্ধাদের বার বার আলোড়িত করেছে। আমাদের বোধের গভীরেও টোকা দিয়ে যখন তিনি লিখেন :
অকস্মাৎ কেঁপে উঠি, অকস্মাৎ মনে হয়
বাতি নেই। শহরের সব পথ নিভে গেছে
বন্দরের সমস্ত বিজুলি
মুহ্যমান।
দিশাহীন ইতস্তত বিক্ষিপ্ত জাহাজ
না পেয়ে জেটির দেখা মধ্য সমুদ্রে ফেলে স্থিতির নোঙর
-লেখার সময়/বখতিয়ারের ঘোড়া
না, তার কাব্যযাত্রা স্থিরতার নোঙর ফেলে থেমে যায়নি। তিনি লিখে গেছেন :
কেন বা ঢেউরের মধ্যে ছল-ছল করে শ্যাম নাম,
কলস পুরাতে গিয়ে চোখ ভরে পানি নিয়ে এসে
উঠোনে দাঁড়িয়ে দেখি ঘরে ঘরে পড়ে গেছে খিল।
তবে কি অকূলে যাবো? সর্বনাশী যমুনারই কাছে-
খালি ঠিলা দেখে যেথা কৃষ্ণ-কৃষ্ণ জপে ওঠে জল?
-কৃষ্ণকীর্তন/মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো
বয়সের ভাটাও তাঁর কবিতায় আধুনিকতার জোয়ারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেনি। আধুনিক মন ও মননের প্রতিফলন ঘটেছে তাঁর কবিতায় বার বার। যেমন তিনি লিখেন-
প্রশ্নকারীরা আজকাল আমাকে খুব উত্ত্যক্ত করে মারে।
ভদ্রতার খ্যাতির আমি তাদের সব প্রশ্নের জবাব দিতে
থাকি।
আধুনিক কবিতা বলতে আপনি কী বোঝেন?
আমি বলি, সে তো লালমাটিয়া মহিলা কলেজে
এখন মেয়েদের বাংলা পড়ায় আর পরীক্ষার খাতা দেখে
নিজের নৈসঙ্গ যাপন করছে।
বিশ্বাস করো, লোকটা একটুও না হেসে তার প্রশ্নের
পাশে তোমার নামের নির্ভুল বানান
লিখে নিয়ে চলে গেল।
-আধুনিক কবিতা/একচক্ষু হরিণ
এর চেয়ে উৎকৃষ্ট আধুনিক প্রেমের কবিতা আর কী হতে পারে। কী নাটকীয় মোচড়। কী অসাধারণ শৈল্পিকবোধ। আবহমান গ্রাম বাংলার তথা দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রেমবোধও যখন তার কবিতার পঙ্‌ক্তিতে উঠে এসেছে তখনও তা অতুলনীয় কাব্যিক শিল্পগুণের দ্যুতি ছড়িয়েছে। যেমন-
মাঝে মাঝে ভাবি তোমার কাছেই ফিরে যাই। অথচ তোমার মুখ কেন মনে পড়ে না। এখনও নাম ধরে ডাকতে পারি, তোমার নাম তো চুড়িভরা হাতের মতো। বাজলেই ঝাঁপ তুলে কিষাণীরা উঠোনে জড়ো হয়ে হাসে। বলে আমাদের নাম ধরে ডাকছেনা কেন? কোন পালের রাখাল তুমি? কোন চরে ঘর? ……………………………………..অন্ধকারের ঠাহর না পেলেও নাও এনে পাড়ে ভিড়ালাম। বিজুলির বিবরণে তোমাকে বসনহীন দেখে আমি কি করে
পারের কড়ি চাইব, বললাম,
শুধু হাত দুটি সরিয়ে বদনখানি দাও।
তুমি রাত্রির আঁচল হাতড়ে পাড়ে উঠে দাঁড়ালে।
বললে, পায়ের খাড়ু একটি রেখে গেলাম, পারানির কড়ি,
যে অন্ধকারের মুখ নেই মাঝি, আমি সেই লায়লা।
-শেষ খেয়ার মাঝি/মিথ্যাবাদী রাখাল
স্বতন্ত্র এবং আধুনিক কাব্যভাষায় নদীমাতৃক বাংলাদেশের গ্রামগুলোর প্রেমগাঁথা এমন সফলভাবে আর কারো কবিতায় পাঠক খুঁজে পায়নি।
‘সোনালি কাবিন’ ছিল এক সময় তরুণ সমাজের আদর্শিক পাঠ্যগ্রন্থের নির্যাস এবং কাব্যিক রূপায়ন। ‘সোনালি কাবিন’ কাব্যগ্রন্থের কবিতায় দেশ, মানুষ, সমাজ সেই সময়ের তারুণ্যের স্বপ্নের কথা, কাঙ্ক্ষিত সমাজের কথা, আদর্শের কথা, দ্রোহের কথা, অসীম আশাবাদের কথা যেভাবে কাব্যিক ব্যঞ্জনায় উচ্চকিত হয়েছে তার যথার্য ধারাবাহিকতা কবি আল মাহমুদের পরবর্তী কাব্যগ্রন্থগুলোতেও পাঠক পেয়েছে। যদিও সমকালীনতাকে কবিতায় ধারণ করা কবির জন্য জরুরি নয়। সমকালীনতা অনেক সময় কবিতার লাবণ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করলেও সমকালীনতা কবি আল মাহমুদের চোখ ও কলম এড়িয়ে যায়নি। তা নিপুণভাবে সযত্নে শৈল্পিক আড়াল এবং নান্দনিক আভরণ রক্ষা করেছে।
আমাদের সামনে এখন আর কোন পথ নেই
এই নিবিড় অরণ্য এমনি নিরন্ধ্র যে, ঝিঁঝির শিসকেও
কেওড়ার কাঁটায় বিদ্ধ প্রজাপতির ঝাপটানি বলে ভুল হয়।…………………………………………………………আমরা যে উচ্ছন্নে যাওয়া উপত্যকা থেকে এসেছি
সেখানে বাস করতো এক মিথ্যোবাদী রাখাল ছোকরা কেন যে, দিনরাত বাঘ বাঘ বলে চেঁচাতো আল্লা মালুম,
তারপর সত্যি একদিন বাঘ এসে সব খেয়ে ফেললো প্রথম
সেই বালকটিকে। শেষে নখ আর দাঁত দিয়ে আঁচড়ে ফেলল মানুষের গ্রাম, ঘরবাড়ি, রক্ত, মাংস
আমরা এখন কোথায় যাই?… -মিথ্যেবাদী রাখাল/মিথ্যোবাদী রাখাল
শুধু দেশ-কাল-সমাজ নয়, বৈশ্বিক রাজনীতিও তার কবিতায় দারুণ কাব্যময়তায় স্থান পেয়েছে:
কুইট ইন্ডিয়া, ভারত ছাড়ো।
‘বল বীর চির উন্নত মম শির’
ভারত ছাড়ো কিন্তু ছাড়ার আগে ভাগ ভাগ করো, কে বলেছে আমরা একই জাতি?
‘জিন্না যেহেতু বিমুখ গান্ধীবাদে’
রেড ক্লীফ রোয়েদাদ : মানুষের রক্তের সীমানা।
-শতাব্দীর সাক্ষী : ১৪০০ বাংলা/আমি, দূরগামী
অথবা
ভাবো, ইতিহাসের গতিরুদ্ধ। মানুষের আর কোন ইতিহাস থাকবে না। …………………………………………. পুঁজি থাকবে, সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ববিচরণশীল লুণ্ঠন
থাকবে কিন্তু না বলার মত দেশ থাকবে না।
কেবল মহাকাশব্যাপী ঈগল খচিত বোমারু বিমানগুলো উড়বে
কিন্তু মাটি, পাহাড় বা সাগর থাকবে না।
-ঈগল থাকবে ইতিহাস থাকবে না/উড়াল কাব্য
এধরনের আরো অর্ধ-শতাধিক কবিতা উদ্ধৃত করা যায়, যাতে কবি আল মাহমুদ বিষয় বৈচিত্র্য, ছন্দ, উপমা, চিত্রকল্প এবং চিন্তার বহুমাত্রিকতার ‘সোনালি কাবিনের’ চেয়ে অনেক উত্তীর্ণ কবিতা উপহার দিয়েছেন। ‘সোনালি কাবিন’ এক অস্থির সময়ের একটি বিশেষ আদর্শিক পাঠ্যগ্রন্থের নির্যাস এবং কাব্যিক রূপায়ন ছিল বলেই বহুলভাবে পঠিত এবং আলোচিত হয়েছিল। এখনও ‘সোনালি কাবিন’ নামটি সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে উচ্চারিত হয় না। রাজনৈতিক দূরভিসন্ধী থেকেই কবি আল মাহমুদকে ‘সোনালি কাবিন’ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করা হয়। ‘সোনালি কাবিন’ পর্যন্ত তাঁর কবি-প্রতিভাকে পূর্ণ বিরতি চিহ্ন দেয়া হয়। আর এখানেই কবি আল মাহমুদের একজন নিবিষ্ট পাঠক এবং আবৃত্তি শিল্পী হিসেবে আমার আপত্তি, আমার দ্বিমত এবং আবৃত্তিশিল্পী হিসেবে আমার আপত্তি আমার দ্বিমত এবং আমার এই সাহিত্যিক প্রতিবাদ। আমাদের দেশে পঞ্চাশ ও ষাট দশকের অনেক কবিকে নতুন কাব্যগ্রন্থ বা কবিতার নামে পুনঃসংস্করণ ছাপাতে দেখেছি এবং সৃজনের বন্ধ্যা-সময় পার করতে দেখেছি। তাদেরকে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার মুখাপেক্ষী হতে হয়েছে। ভবিষ্যতেও তাদের নামটি, তাদের কবিতা রাজনৈতিকভাবে উদ্‌যাপিত হবে। সাহিত্যের মূল্যায়ন বুঝে আন্তরিকভাবে তাদেরকে অনেকেই স্মরণ করবে। অনেক কবি এবং তাদের কবিতা বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাবে। অনেকের বিরুদ্ধে সাহিত্যিক চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ উঠবে, কারো কারো কবিতা ফরাসী কবির কবিতার আক্ষরিক অনুবাদ হিসাবে ধরা পড়ে বাতিলের খাতায় তালিকাভুক্ত হবে। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে কবি আল মাহমুদ উজ্জ্বল-ব্যতিক্রম হিসেবে দীপ্তি ছড়াবে। তিনি জীবনের পড়ন্ত বেলার এসে এক ধরনের গীতি কবিতা লিখলেও, স্বরবৃত্ত বা মাত্রাবৃত্ত ছন্দের আশ্রয় নিলেও তাতে পঙক্তিতে, স্তবকে স্তবকে ছন্দের গাঁথুনিতে মৃত্যু-চেতনার বহুমাত্রিকতায় কাব্যের ঝলক রয়েছে। বাংলা ভাষায়, বাংলা কবিতায় এই নামটি স্বমহিমায় টিকে থাকবে।

x