আলোর মুখ দেখলো পটিয়া কালিগঞ্জ সেতু

৩৮ কোটি টাকার প্রকল্প টেন্ডার প্রক্রিয়ায়

আজাদী প্রতিবেদন

রবিবার , ১৭ মার্চ, ২০১৯ at ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
816

পটিয়া উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের সর্ব দক্ষিণের এলাকা কালিগঞ্জ খালের উপর জোড়াতালি দিয়ে চলা ঝুঁকিপূর্ণ কালিগঞ্জ সেতুটি নতুন করে নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করেছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। চলতি বছরের শুরুতে ৩৮ কোটি টাকায় নতুন সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি টেন্ডার আহবান করেছে। এতে করে দীর্ঘদিন পর আলোর মুখ দেখলো কালিগঞ্জ সেতু।
নূতন সেতুটি নির্মিত হলে সড়কটি ব্যবহারকারী পটিয়া, আনোয়ারা ও চন্দনাইশ উপজেলার অসংখ্য মানুষের চলাচলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষ হবে। কালিগঞ্জ খালের ভাঙনের ফলে ১৯৭২ সালে নির্মিত কালিগঞ্জ সেতুর দু’পাশ ক্রমান্বয়ে খালে পরিণত হলে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ১৯৯৬ সালের পরে সড়ক ও জনপদ বিভাগ দুই পাশে বেইলি বসিয়ে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ নির্দেশনা সম্বলিত সাইনবোর্ড দিয়ে যোগাযোগ সচল রাখে। এরপর বেশ কয়েকবার মেরামত করা হলেও নানা জটিলতার কারণে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তবে সমপ্রতি নতুন সেতু নির্মাণের জন্য পটিয়া ও আনোয়ারা আসনের সংসদ সদস্য সংশ্ল্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করেন।
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরী হতে পটিয়া শান্তিরহাট হয়ে কাশিয়াইশ ইউনিয়নের মধ্যদিয়ে আনোয়ারা উপজেলায় যাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পথ হচ্ছে পটিয়া আনোয়ারা কানেকটিং সড়ক। সড়কটি মধ্যখানে কালিগঞ্জ সেতুটি পটিয়া ও আনোয়ারা উপজেলাকে যুক্ত করেছে। ১২০ ফুট দীর্ঘ ও ১৮ ফুট চওড়া দুই অ্যাবার্টম্যান্ট বিশিষ্ট সেতুটি ১৯৬৮ সালের দিকে নির্মাণ শুরু হলেও মুক্তিযুক্তকালীন সেতু নির্মাণের কাজ বন্ধ থাকে। ১৯৭২ সালের দিকে সেতুটি নির্মাণ শেষ হয়। সেতুটি দিয়ে আনুপাতিক কম যানবাহন চলাচল করায় সেতুর ক্ষতি না হলেও সেতুর দু’পাড় ভেঙে খাল প্রশস্ত বেশি হওয়ায় সেতুর দুই পাশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে সেতুটির উপর দিকে প্রায় ৫ শতাধিক সিএনজি, মিনিবাস, মিনি ট্রাকসহ অসংখ্যা যানবাহন চলাচল করে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি তিন ভাগে বিভক্ত হয়েছে। তার মধ্যে পটিয়ার অংশে স্ট্রীল, মাঝখানে পাথরের জমানো এবং আনোয়ারার অংশেও স্ট্রিল রয়েছে। এ সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন পটিয়া ও আনোয়ারার ১০ হাজার মানুষ চলাচল করে। সেতু হয়ে পটিয়া আনোয়ারার লোকজন ছাড়াও চন্দনাইশ, বাঁশখালীর মানুষও চলাচল করে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে সিএনজি অটো রিকসা চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গ্রামীণ সড়ক হিসেবে পটিয়া-আনোয়ারা সংযোগ সড়ক দিয়েই কয়েকশ সিএনজি চলাচল করে।
কাশিয়াইশ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জহির আহমদ চৌধুরী বলেন, মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ কালিগঞ্জ সেতুটি নতুন করে নির্মাণের। পটিয়া ও আনোয়ারার মানুষের চলাচল ছাড়াও দক্ষিণ চট্টগ্রামের কয়েকটি উপজেলার সাথে যোগাযোগ সহজ হওয়ায় এ সেতুটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
পটিয়া শান্তিরহাট সিএনজি চালক কল্যাণ সমিতির নেতা মোহাম্মদ আলী জানায়, প্রতিদিন সেতু দিয়ে ৫ শতাধিক সিএনজি চলাচল করে। পাশাপাশি ছোটবড় অনেক যানবাহন চলাচল করলেও বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হতে হচ্ছে। দ্রুত সময়ে নতুন সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করার আহবান জানান তিনি। এব্যাপারে দোহাজারী সড়ক ও জনপদ বিভাগের পটিয়া উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সেতুটি ২০১৭ সালে নকশা তৈরি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। ২০১৮ সালের শেষের দিকে তা পাশ হয়ে আসলে মিলে আর্থিক অনুমোদন। ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন করে কালিগঞ্জ সেতুটি নির্মাণের প্রকল্পটির টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। শীঘ্রই নতুন সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

x