আলোর দিশারী মৌলানা ক্বারী আবদুর রহিম (রঃ)

মীর আসলাম : রাউজান

সোমবার , ১৯ আগস্ট, ২০১৯ at ৯:০৫ পূর্বাহ্ণ
39

ইসলাম ধর্মের প্রচার প্রসারে আল্লাহু রাব্বুল আলামিন যুগে যুগে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন দেশে দেশে লাখ কোটি হক্কানি রাব্বানি আলেম ওলামা। এই পৃথিবীতে জন্ম নেয়া এসব হক্কানী আলেম ওলেমা কাজ করেছেন অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজকে ধর্মের মূলমন্ত্রে জাগিয়ে তুলে আলোর পথে মানব সমাজকে এগিয়ে নিতে। ধর্মের আচার আচরণ অনুসরণ করে সকল পাপ কর্ম থেকে দূরে সরিয়ে রেখে অসাম্প্রদায়িক, অহিংস ন্যায় নীতি সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে, সামাজিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করতে। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে মানবিকতার দীক্ষা দিতে এই পৃথিবীতে যুগে যুগে নবী রাসূলের পর যারা তাবিন-তবেতাবিন, অলি, পীর বুজুর্গ, আল্লাহর প্রিয় বান্দা বা হক্কানি রাব্বানি আলেম ওলামার আগমন ঘটেছে। তাদের মধ্যে একজন হক্কানি রাব্বানি আলেম চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পূর্ব গুজরা গ্রামের প্রখ্যাত অলিয়ে কামেল মৌলানা আবদুর রহিম (রঃ)। এই মহান বুজুর্গ ব্যক্তির জীবনী থেকে জানা যায়, তিনি ১৯০৫ সালে রাউজানের পূর্বগুজরায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সৈয়দ মৌলানা সাহাবউদ্দিন মিয়াজিও ছিলেন এক বুজুর্গ কামেল মানুষ। তৎকালীন চট্টগ্রাম মোহসনিয়া মাদ্রাসায় (বর্তমান হাজী মোহাম্মদ মহসিন কলেজ) মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষা সম্পন্ন করে পিতার পরামর্শক্রমে মৌলানা আবদুর রহিম (রঃ) ভারতবর্ষে প্রসিদ্ধ মাদ্রাসা দারুল উলুম মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখানে তিনি উলুমুল হাদিস ও অন্যান্য বিষয়ে কৃতিত্বের সনদ নিয়ে নিজ এলাকায় ফিরে আসেন।
হযরত মৌলানা আবদুর রহিম (রঃ) ১৯৩৬ সালে রাউজানের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি প্রতিষ্ঠান কদলপুর হামিদিয়া মাদ্রাসায় মোহাদ্দেস হিসাবে নিয়োগ পেয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। সেখানে তিনি একটানা ১৯৩৬-১৯৪৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি ঊনসত্তরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে কিছুদিন শিক্ষকতা করেন। এই বুজুর্গ আলেম ১৯৫৪ সালে আওলাদে রাসুল (সঃ) সৈয়দ আহমদ শাহ সিরোকোটি (রঃ) এর হাতে বায়েত গ্রহণ করেন। নিজ গ্রাম পূর্ব গুজরা গ্রামের স্থানীয় দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠা করেন মুহাম্মদিয়া মাদ্রাসা। বর্তমানে পূর্বগুজরা মোহাম্মদীয়া মাদ্রাসা নামে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি যুগের সাথে তাল মিলিয়ে স্ব-মহিমায় জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে। ১৯৪৮ সালে মাওলানা আবদুর রহীম নিজ গ্রাম ছেড়ে পাহাড়তলী ইউনিয়নের ঊনসত্তর পাড়া গ্রামে গিয়ে বসতি স্থাপন করেন। সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন। ওই এলাকায় তার মাজার রয়েছে।

x