আলোকচিত্রে মঞ্চালোক আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

সোহবাত খান

মঙ্গলবার , ২১ মে, ২০১৯ at ৪:৪৫ পূর্বাহ্ণ
24

মঞ্চ জীবন্ত শিল্প মাধ্যম। একটি মঞ্চ প্রযোজনা একাধিকবার মঞ্চস্থ হলেও প্রতি রজনীতে উপস্থিত দর্শকরা যে অভিজ্ঞতা লাভ করেন তা অন্যান্য মাধ্যমের মতো স্মৃতির নিউরণে ছাড়া ধরে রাখা সম্ভব নয়। আলোকচিত্র নান্দনিক মাধ্যমগুলোর মধ্যে অন্যতম। মঞ্চের নান্দনিকতা আলোকচিত্রে ধরা পড়লে তা যেমন দর্শককে মঞ্চের প্রতি আকৃষ্ট করতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে, তেমনি চলমান মঞ্চ প্রযোজনা সময়ের প্রয়োজনে বন্ধ হয়ে গেলেও দর্শক ইমেজ বন্দী স্মৃতিতে প্রযোজনাগুলো সম্পর্কে, প্রযোজনার মান সম্পর্কে ও সময়ের চিত্র সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা লাভ করতে পারেন। সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা এবং গবেষণায় সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘স্কেচ গ্যালারি’র উদ্যোগে ০৭ থেকে ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ জেলা শিল্পকলা একাডেমি, চট্টগ্রামের আর্ট গ্যালারিতে চট্টগ্রামের মঞ্চনাটক বিষয়ে ‘আলোকচিত্রে মঞ্চালোক’ শীর্ষক ৮ দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে বিভিন্ন আলোকচিত্রী কর্তৃক গৃহীত ও সংগৃহীত স্বাধীনতাত্তোর চট্টগ্রামের উল্লেখযোগ্য মঞ্চ প্রযোজনার ১৫০টি নাটকের ২০৫ টি ছবি প্রদর্শিত হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ আয়োজিত তৃতীয় নাট্য উৎসবে প্রদর্শনীটি আয়োজন করা হয় ও প্রশংসিত হয়।
গত ১ মে, ২০১৯ ফিরোজশাহ্‌ কলোনি সরকারি প্রাইমারি স্কুল মাঠে ‘স্কেচ গ্যালারি’র উদ্যোগে আলোকচিত্রে মঞ্চালোক শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। তরুণ মেধাবী নাট্যকর্মী রুমেল বড়ুয়ার স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করে ১ মে সকাল ১০.০০ টায় প্রদর্শনীটি উদ্বোধন করেন ৯ নং উত্তর পাহাড়তলী ওয়র্ডের মাননীয় কাউন্সিলর জনাব জহুরুল আলম জসিম। প্রদর্শনী সকাল ১০.০০ টা হতে সন্ধ্যা ৬.৩০ টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ৯ নং উত্তর পাহাড়তলী ওয়র্ডের মাননীয় কাউন্সিলর জনাব জহুরুল আলম জসিম, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী শোয়েব ফারুকী, ৯ নং উত্তর পাহাড়তলী ওয়র্ডের মহিলা কাউন্সিলর আবিদা আজাদ ও ফিরোজশাহ জনকল্যান সংস্থার সাধারন সম্পাদক মোঃ ইলিয়াস খান।
বিশেষ অতিথি আলোকচিত্রী শোয়েব ফারুকী তাঁর বক্তব্যে বলেন- স্কেচ গ্যালারির উদ্যোগে চট্টগ্রামের মঞ্চনাটক বিষয়ে ‘আলোকচিত্রে মঞ্চালোক’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী একটি অনন্য উদ্যোগ। ১ম প্রদর্শনীতেও তিনি উপস্থিত ছিলেন। এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে যেমন চট্টগ্রামের মঞ্চনাটকের ইতিহাস জানা যায়, তেমনি আলো, কম্পোজিশনের সমন্বয়ে দৃষ্টিনন্দন আলোকচিত্রও দেখতে পাওয়া যায়। এরকম একটি খোলা মাঠে যে এধরনের প্রদর্শনী করা যায় তা না দেখলে অজানা থেকে যেতো। এ ধরনের প্রদর্শনী আয়োজনের জন্য তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
বিশেষ অতিথি ৯ নং উত্তর পাহাড়তলী ওয়র্ডের মহিলা কাউন্সিলর আবিদা আজাদ বলেন- তিনি প্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ। এ আয়োজনের পেছনে যার ভূমিকা অনসী্বকার্য তার সাথে এ এলাকার সাংস্কৃতিক বন্ধন দীর্ঘদিনের। এলাকার মানুষকে চট্টগ্রামের নাট্যচর্চার ইতিহাস সম্পর্কে জানানোর জন্য ও তরুণদের নাট্যচর্চায় সম্পৃক্ত করার জন্য এ ধরনের আয়োজনের প্রয়োজন রয়েছে।
বিশেষ অতিথি জনাব মোঃ ইলিয়াস খান বলেন- প্রথমে যখন প্রদর্শনীর প্রস্তাব করা হয় ধারণা করতে পারেননি এ এলাকায় এমন আয়োজন করা যেতে পারে। আগে এলাকায় এলাকায় বিভিন্ন দিবস ভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়েজন করা হতো। দীর্ঘদিন এধরনের আয়োজন চোখে পড়ে না। এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে যে যাত্রা শুরু হলো তা যেন থেমে না যায় এবং তার সংগঠন ভবিষ্যতে এধরনের আয়োজনে সহযোগিতা করবে।
প্রধান অতিথি কাউন্সিলর জনাব জহুরুল আলম জসিম বলেন- এলাকার সাংস্কৃতিক আবহে তার বেড়ে ্‌ওঠা। কিন্তু বর্তমানে ছেলেমেয়েরা ডিজিটাল ডিভাইসে যতটা সময় কাটায় সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে ততটা সক্রিয় নয়। এ লক্ষণ জাতির জন্য শুভ নয়। তরুণরা যত বেশী সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হবে তত তারা বিপথ হতে নিজেদের রক্ষা করতে পারবে। তিনি আয়োজকদের এলাকায় আরোও কর্মকান্ড গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান ও তার পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন।
স্কেচ গ্যালারি’র শাহরিয়ার হান্নান বলেন- এ আয়োজনটি এলাকায় করার প্রস্তাব করলে অনেকেই অনুৎসাহিত করেন। কিন্তু তার পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে বিশ্বাস ছিল সঠিকভাবে আয়োজন করতে পারলে এলাকার মানুষ অবশ্যই সম্পৃক্ত হবে। তিনি কাউন্সিলরের কাছে এলাকায় একটি মুক্তমঞ্চ স্থাপনের অনুরোধ করেন ও অতিথি এবং এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ দিয়ে ভবিষ্যতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আশা রাখেন চট্টগ্রামের মঞ্চ প্রযোজনায় আলোকচিত্রের যথাযথ প্রয়োগে এ প্রদর্শনী সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আয়োজনে ত্রুটি বিচ্যুতি থাকলেও সদিচ্ছার কোন অভাব ছিল না। তবে ক্ষুদ্র প্রয়াসে চট্টগ্রাম নাট্যাঙ্গনের থিয়েটার কর্মীদের উচ্ছ্বাস ও একাত্মতা সৃজনশীল প্রয়াস চলমান রাখতে উৎসাহ যোগাবে।
প্রদর্শনীর সমাপনী পর্বে বিকাল থেকে গণসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আব্দুল হালিম ও বাউল গান পরিবেশন করে ব্যান্ড দল ‘পাগল’।

x