আর্কিটেকচার ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং

ক্যারিয়ার

মো. ফারুক ইসলাম

শনিবার , ২১ জুলাই, ২০১৮ at ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ
295

মানুষের জীবিকার জন্য প্রয়োজন একটি নিশ্চিত এবং নিরাপদ কর্মসংস্থান। সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত অনেক সার্টিফিকেটধারীও আজকাল চাকরির অনিশ্চয়তায় ভোগেন। সেই তুলনায় কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিতদের বেকারত্বের অনিশ্চয়তা নেই বললেই চলে কারণ এর রয়েছে বাস্তব জ্ঞান এবং কর্মক্ষেত্রে এই জ্ঞান কাজে লাগানোর সুযোগ। কারিগরি কোর্সগুলো যেমন স্বল্পব্যয়ে করা সম্ভব তেমনি সময়ও কম লাগে। বর্তমান সময়ে একজন ছাত্র পড়াশোনা শেষ করে দেশে বা দেশের বাইরে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পাচ্ছে। বর্তমান চাকরি বাজারের প্রেক্ষাপটে এ সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজন সঠিক ক্যারিয়ার পরিকল্পনা। শিক্ষার্থীদের এ পরিকল্পনায় সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে কারিগরি শিক্ষা। আর কারিগরি শিক্ষার মধ্যে অন্যতম হলো আর্কিটেকচার এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং।

দিন দিন আমাদের জনসংখ্যা বাড়ছে কিন্তু সেই তুলনায় বাড়েনি জমি। এই সমস্যার কিছুটা হলেও লাঘব করতে এগিয়ে এসেছে আর্কিটেকচার ও সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা। কম জায়গায় কীভাবে মানুষ তার প্রয়োজন মিটিয়ে সুন্দরভাবে থাকতে পারে আর্কিটেক্টরা সেসব সমস্যার সমাধান দেন। আবাসন কতটা পরিবেশ উপযোগী, টেকসই, দৃষ্টিনন্দন, মানসম্মত হবে সবই নির্ভর করে আর্কিটেকচারাল ডিজাইনের উপর এবং সেই ডিজাইনের উপর আধুনিক ও যুগোপোযোগী আবাসন, বিপণি বিতান, অফিস ও স্থাপত্যশৈলী তৈরি করেন সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা। তাই আর্কিটেকচার ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং আধুনিক সমাজ ও জীবনে এক অপরিহার্য বিষয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন গৃহনির্মাণ প্রতিষ্ঠান, রিয়েল এস্টেট ফার্ম, ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং ফার্মে এ ধরনের কাজের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। উন্নত আবাসন প্রকল্প, আধুনিক অফিস ও বিপণি বিতান ডিজাইন ও নির্মাণে আর্কিটেকচার ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংএর চাহিদা ক্রমে ক্রমে আরও বৃদ্ধি পাবে। সেই সঙ্গে বাড়বে চাকরির সুযোগ। তাই ক্যারিয়ার হিসাবে আর্কিটেকচার ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বেছে নিতে পারেন অনেকে। বিশ্বব্যাংকও হাত বাড়িয়েছে কারিগরি শিক্ষাপ্রসারে। ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটি, চট্টগ্রাম বিশ্বব্যাংক কর্তৃক নির্বাচিত বৃত্তিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তিকৃত ছাত্ররা (কমবেশী ৫০%) প্রতি মাসে ৮০০ টাকা হারে বৃত্তি পাবে এবং সকল ছাত্রী নিশ্চিত প্রতি মাসে ৮০০ টাকা হারে বৃত্তি পাবে।

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি এবং কারিগরি শিক্ষার এই অপার সম্ভাবনার দিকে লক্ষ্য রেখে ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটি ২০০৬ সালে থেকে তার যাত্রা শুরু করে। চাকরির ক্ষেত্রে স্বীকৃতি বা প্রাপ্ত অনেকাংশে নির্ভর করে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, শিক্ষার গ্রহণযোগ্যতা, মান নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এবং সর্বোপরি এ অর্জিত শিক্ষাকে কাজে লাগানোর সুযোগের পরিধি থেকে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত এই প্রতিষ্ঠানটি কারিগরি শিক্ষা প্রশিক্ষণে এক নব দিগন্তের সূচনা করতে সমর্থ হয়েছে এবং ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ইতিমধ্যেই চাকরি ক্ষেত্রে আশাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষায় ডিআইআইটিতে পড়ার সুবিধা

বিশ্বব্যাংক কর্তৃক ৮০০ টাকা হারে স্কলারশিপ সুবিধা, মেয়েদের জন্য ৭৫% ছাড়ে আর্কিটেকচার টেকনোলজিতে পড়ার সুযোগ, ছেলেদের জন্য ৫০% ছাড়ে সিভিল ও আর্কিটেকচার টেকনোলজিতে পড়ার সুযোগ, ওয়াইফাই ক্যাম্পাস, সফল ছাত্রছাত্রীদের ড্যাফোডিল গ্রুপেই ইন্টার্নশিপ ও চাকরির সুবিধা, তুলনামূলকভাবে স্বল্প ব্যয়ে মানসম্পন্ন শিক্ষা, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ল্যাব ও লাইব্রেরির সুবিধা, দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য ‘ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশন কর্তৃক স্কলারশিপ’, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাসের পর ছাত্রছাত্রীদের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষা লাভ করার সুযোগ।

বর্তমানে ২০১৮১৯ শিক্ষা বর্ষে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ডিপ্লোমা ইন সিভিল এবং আর্কিটেকচার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে ভর্তি চলছে। ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা এসএসসি (বিজ্ঞান/মানবিক/ব্যবসায় শিক্ষা/ভোকেশনাল/ভোকেশনালটেক্সটাইল) পরীক্ষায় কমপক্ষে জিপিএ ২.০ পেয়ে পাশ করতে হবে। এইচএসসি উত্তীর্ণ/অনুত্তীর্ণ বা পরীক্ষার্থীরাও ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ : ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটি, ৯৪ শেখ মুজিব রোড, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম। মোবাইল: ০১৭১৩৪৯৩২০৫, ০১৮১১৪৫৮৮৫১, ওয়েবসাইট : িি.িফররঃ.রহভড়

লেখক : অধ্যক্ষ, ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অভ আইটি (ডিআইআইটি), চট্টগ্রাম।

x