আমি বেঁচে আছি

বুধবার , ১৩ জুন, ২০১৮ at ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ
121

গণমাধ্যমে নিজের মৃত্যুর খবর দেখে বর্ষীয়ান অভিনয়শিল্পী এটিএম শামসুজ্জামান বিরক্তি প্রকাশ করে জানালেন, তিনি এখনও বেঁচে আছেন। সোমবার রাতে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে তার মৃত্যুর গুজব। গুজবটিকে লুফে নেয় ফেসবুকাররা; ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। ফেসবুক থেকে খবরটি ঠাঁই পায় একাত্তর টিভিসহ একাধিক বেসরকারি টেলিভিশনের স্ক্রলে। তার সহশিল্পীরাও এ গুজবের ফাঁদে পা দেন। খবরটি ফেসবুক ও গণমাধ্যম ছাপিয়ে যখন মানুষের মুখে মুখে রটল তখন বাসার গলির টঙের দোকানে চা খাচ্ছিলেন তিনি। পাশ থেকে কেউ একজন বললেন, আপনি নাকি মারা গেছেন? আকাশ থেকে পড়লেন তিনি। পরে জানলেন, পুরো ঘটনাটি। মুখে ঝরলো, বিরক্তি আর ক্ষোভ। খবর বিডিনিউজের।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে তিনি জানান, খবরটি তার পরিবারেকে বিব্রতকর পরিস্থিতে ফেলেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি তো এখনও বেঁচে আছি। তাহলে আমার মৃত্যুর গুজব ছড়ানো হলো কেন?” খবরটি প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই আত্মীয়স্বজনরা ফোনে খোঁজখবর নিচ্ছেন তার। অনেকে ফোনে না পেয়ে বাসায়ও চলে আসছেন। অনেকটা বাধ্য হয়ে এক প্রতিবেশির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসেছিলেন তিনি। লাইভে তিনি বলেন “এসব করে তো লাভ নাই। যারা মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছে তারাখায় মনে হয়। যেদিন মারা যাবো সেইদিন তো আর কেউ বাঁচিয়ে রাখতে পারবে না।”

অভিনয়শিল্পীর স্ত্রী রুনি জামান জানান, ভুয়া খবরটি ছড়ানোর পর থেকে নির্ঘুম রাত কেটেছে তার পরিবারের সদস্যদের। তিনি বলেন, “সারারাত আমাদের নির্ঘুম কেটেছে। আত্মীয়স্বজনরা ফোন দিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। যারা দূরে থাকেন সবাই উনাকে নিয়ে টেনশন করেছে। কোনো কারণ ছাড়াই আমাদেরকে এরকম ভোগান্তির মধ্যে ফেলল একাত্তর টিভি। তারা আমাদেরকে ফোন দিয়ে আসল ঘটনাটা জানতেই পারতেন।”

৭৮ বছর বয়সী এ অভিনয়শিল্পী বার্ধক্যজনিত কারনে অভিনয় কিছুটা কমিয়ে দিলেও এখনও অভিনয়ের সঙ্গেই যুক্ত আছেন। চলচ্চিত্রে তার অভিষেক হয়েছিল সহকারী পরিচালক হিসেবে। এরপর বেশ ক’টি চলচ্চিত্রে চিত্রনাট্যও লিখেন। অভিনেতা হিসেবে অভিষেক হয় ১৯৬৫ সালের দিকে। শুরুতে কমেডিয়ান হিসেবে কাজ করলেও ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমনি’ চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান দর্শকদের কাছ থেকে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পাঁচবারেরও বেশি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন এ অভিনয়শিল্পী।

x