আমাদের যাত্রা হল শুরু

ফেরদৌস আরা আলীম

শনিবার , ১৬ মার্চ, ২০১৯ at ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
232

দিনটি এল এবং চলেও গেল। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের কথা বলছি। দিনে দিনে দিবসটির আসা-যাওয়া নানা ধরনের প্রাপ্তির প্রসাদধন্য হয়ে ইতিবাচকতায় জোর আবহ তৈরি করে চলেছে। শুধু নারীর জন্য নয়, বিশ্ব মানবের জন্য। এবারে (২০১৯) দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল, সবাই মিলে ভাবো, নতুন কিছু করো/ নারী-পুরুষ সমতায় নতুন বিশ্ব গড়ো।
আমাদের দেশে আমাদের চোখের উপরে আমরা নারী আন্দোলন গড়ে উঠতে দেখেছি। ধীরে ধীরে সে আন্দোলনকে দানা বাঁধতে দেখেছি। বিশ্বজোড়া নারী-আন্দোলনের ইতি-উতি ইতিহাস থেকে প্রেরণা খুঁজে পেয়েছে আমাদের নারী আন্দোলন। আজ পশ্চিমের নারী নীরবতার দেয়াল ভাঙার আন্দোলন শুরু করেছে (হ্যাশট্যাগ মি টু আন্দোলন) আমাদের দেশেও তার ঢেউ লেগেছে। সকল কালে সকল দেশে শুধু দেহটির জন্য অকারণ যে অকরুণ নির্মমতা নারীর উপর নেমে আসে তার স্বরূপ আর অনুন্মোচিত নেই। এও এখন সপ্রমাণ যে শরীর নিয়ে সঙ্কুচিত হবার কারণ না থাকলে অন্য কোনও কারণ আর নারীর অগ্রযাত্রার পথে বাধা হতে পারে না। সেই সঙ্গে এও মানতে হবে পুরুষতান্ত্রিক মন ও সমাজকাঠামোর নিগড় না ভেঙে নারীর পক্ষে ডানা মেলা অসম্ভব এবং সে কাজটি একা নারীর নয়। আমরা আশার আলো দেখতে পাই কারণ সাম্প্রতিককালে নারীর পক্ষে, নারীর লড়াইয়ের সমর্থনে বিজ্ঞ-অভিজ্ঞ অধ্যাপক-অর্থনীতিবিদ আইনজ্ঞ চিন্তাবিদ-সাহিত্যিক প্রমুখের নেতৃত্ব ও সমর্থন তো বটেই উদীয়মান মেধাবী তরুণ সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততাও আমরা পাচ্ছি। আজ আমাদের নারী সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যাঁরা আপন স্বাধীন পরিসরটি শুধু তৈরিই করেন নি সেজন্য সম্মানিত হচ্ছেন, মর্যাদায় অভিষিক্ত হচ্ছেন। কিন্তু তাঁদের কেউ যদি ‘নারী দিবস’ নিয়ে বিব্রত বোধ করেন দুঃখ হয়। মনে হয় তাঁরা ক্লারা জেটকিনকে অস্বীকার করছেন, অগ্রাহ্য করছেন আমাদের সুদীর্ঘকালের সংগ্রামকে এবং রোকেয়া থেকে আমাদের সংগ্রামী উত্তরাধিকারকেও তাঁরা যথাযথ মর্যাদা দিচ্ছেন না।
সাম্প্রতিক সময়ে নারী দিবস উদযাপনের নানামাত্রিক আয়োজন নারীর অগ্রগতির নানা চিত্র তুলে ধরছে। নারীর সাফল্যের গল্পগাথা এখন প্রচুর। সেভেন সামিট বিজয়ী কন্যা বা কর্পোরেট ভুবনের কোনও পাহাড়ের চূড়ায় বসে থাকা নারী আর আমাদের বিস্ময় নয়। এই চট্টগ্রাম থেকে শিশু সার্জন ডা. তাহমিনা বানু ফি বছর কয়েকদিনের জন্য অক্সফোর্ডে গিয়ে পাঠদান করে আসছেন এতেও আমরা আর অবাক হই না। তবে হ্যাঁ, সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে, শিল্পে, সাহিত্যে, সংস্কৃতিতে বিশেষ করে সাহিত্যে অতিদ্রুত নারীর এগিয়ে যাওয়াটা দারুণ শিহরণ-জাগানিয়া বলে মনে হয়। গেল নারী দিবসের আয়োজনে আমাদের দৈনিক পত্রিকাগুলো নারী সম্পর্কিত এবং নারীর যেসব লেখা বিবেচনায় নিয়েছে তারই দু’একটি নিয়ে আজ কথা বলবো।
নারীর লেখালেখি পর্যায়ে ‘প্রত্ন-জীবন থেকে আধুনিকতায়’ শীর্ষক মাসুদজ্জামানের নাতিদীর্ঘ রচনাটি আমাদের আজকের লেখার প্রেরণা বললে ভুল হয় না। এ লেখার শেষ প্রান্তে প্রবন্ধকারের মন্তব্য উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেছেন, ‘এখন আর নারীর লেখাকে মোটা দাগে নারীর লেখা বলে শনাক্ত করা যায় না। লৈঙ্গিক বিভাজন নারী-পুরুষ উভয়ের সব ধরনের লেখাতেই ঘুচে গেছে। নারীর লেখাকে নারীর লেখা বলে উন্নাসিকতা দেখানোর অবসান ঘটে গেছে।’ এর প্রামাণ্য নিবেদন হিসেবে আমরা সাগুফতা শারমীন তানিয়ার ‘ইল্যুসিভ ইলিয়াস’ প্রবন্ধ (সিল্করুট, ৮ মার্চ ২০১৯) আফসানা বেগমের গল্প ‘সে নেই, সে আছে’ (কালের খেয়া, ৮ মার্চ ২০১৯) এবং অন্য আলোর (প্রথম আলো, ৮ মার্চ ২০১৯) পদাবলি পাতার ৫ কবির কবিতা নিয়ে কথা বলবো।
‘শীতলপাটির নিচে চুন-সুরকির এ্যাবড়োথেবড়ো মেঝে পিঠে লাগে যাদের, তাদের কথক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।’ তানিয়ার প্রবন্ধের এই প্রথম বাক্যটিই বলে দিচ্ছে এটি গতানুগতিক ধারার কোনও মূল্যায়ন নয়। ইলিয়াসের উপন্যাস তাঁর দৃষ্টিতে ‘পাঠক-সমালোচকের ভুবনে একটি অবশ্যপূজ্য (এবং সর্বজনপূজ্যতে) মান্দির বিশেষ’ এবং প্রবন্ধকারের ভাষায় ‘গল্পের ইলিয়াস খুব যত্ন করে অসংখ্য পলকাটা একটা হীরার মতো, এক কুচি অসামান্য উজ্জ্বলতা, যে গৃহী-বিজেতা-দস্যুর হাতে ফিরেছে, রশ্মি বিকীর্ণ করে করে। কিংবা কখনো ফিলিগ্রির কাজ করা সাবেকি গহনার মতো, কারিগরের শিল্পিত হাতের প্রাচীন নকশা আছে তাতে, সময়াতীত বলেই যা অমূল্য।’
ইলিয়াসের গল্পের শিল্পশৈলী সম্পর্কিত আলোচনাটিকে সাগুফতা আন্তর্জাতিক মনে পৌঁছে দিয়েছেন এবং কাজটি করতে গিয়ে প্রচুর ইংরেজি শব্দ যেসব ব্যবহার করেছেন (শিরোনামের ‘ইল্যুসিভ’ শব্দটি যেমন) তেমনি চিত্রকলার নানা ঘরানার সঙ্গে লেখকের দৃষ্টি, এবং তার বলার ভঙ্গির তুলনা দিয়েছেন। গল্পের পর গল্প থেকে দৃশ্য তুলে এনে কোথায় ইলিয়াসের চোখ ক্যামেরার কাজ করেছে, কীভাবে একটি ঘটনার সঙ্গে আরেকটি ঘটনার, একটি বোধের সঙ্গে আরেকটি বোধের পরম্পরা রচনা করেছেন তিনি তার যথাসাধ্য গভীরে পৌঁছে দিয়েছেন পাঠককে। ‘খোঁয়ারি’ গল্পে একটি মাত্র বাক্য ‘ধাক্কা দিতেই কপাট দুটো অন্ধ ভিখিরির মতো দু’দিকে ঢলে পড়ে’ এবং এই একটি বাক্য কীভাবে গল্পের নামকরণ এবং নামের অন্তর্নিহিত ভাব ফিরে ফিরে আসবে তার ইঙ্গিতবহও বটে। প্রসঙ্গত বলি, প্রায় তিরিশ বছর আগে দৈনিক পূর্বকোণের সূচনা দিনে সদ্যপঠিত ‘খোঁয়ারি’ গল্পগ্রন্থের একটি আলোচনায় (গতানুগতিক) এ মোক্ষম বাক্যটি সম্পর্কে একটি কথাও আমি লিখিনি। আজ আমার গোত্রীয় একজন একটি বাক্যের নিবিড় পর্যবেক্ষণে পুরো গল্পটি তুলে নিয়ে এলেন ভাবতেই নক্ষত্রলোকে পৌঁছে যাবার বিস্ময় বোধ করছি। ইলিয়াসের ফিকশনাল প্রোজের ধরণ বোঝাতে গিয়ে তিনি পাঠককে ন্যারেটিভ প্রোজ, এক্সপোজিটরি প্রোজ, পারস্যুয়েসিভ প্রোজের জগত ঘুরিয়ে আনেন দু’চার কথায়। বাক্য মধ্যস্থিত একটি অনুপ্রাস গল্পকারের কোন উদ্দেশ্যটি সাধন করেছে তার ব্যাখ্যা অভিনব আবিষ্কারের মতো মনে হবে। একটি গল্পের আবহ কি করে স্বয়ং সেগল্পের চরিত্র হয়ে যায় ইলিয়াসের গল্পের পাঠক কীভাবে দর্শক এমনকি কুশীলবও হয়ে ওঠে সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন সাগুফতা। দৃশ্য নির্মাণে লেখকের মেটাফোর ও সিমিলি ব্যবহারের অভিনবত্ব এবং বাংলা ক্রিয়াপদের অসামান্য, অভিনব ও জুতসই ব্যবহারের দৃষ্টান্তগুলোই আমাদের স্তব্ধ করে দেবার জন্য যথেষ্ট। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের গল্পপাঠের আনন্দ, পাঠ-পরবর্তী অনুভূতির অশ্রুতপূর্ব বর্ণনায় সাগুফতা শারমিন তানিয়ার এই প্রবন্ধ-প্রচেষ্টা নানাভাবে প্রশংসা পেতে পারে। আমরা শুধু ভাবছি এ কাজটি করেছেন এক নারী; তাঁকে নারী দিবস উদযাপনের অংশ করেছে সিল্করুট। ধন্যবাদ সিল্করুটকে।
আসছি আফসানা বেগমের ‘সে নেই, সে আছে’ গল্পে। ৩০ বছর আগে কোনো এক মফস্বল শহরের কোনো এক নদীর ব্রিজের ধারে যাকে ফেলে এসেছে আজ নেলপালিশ কিনতে গিয়ে দোকানীর ঘাড়ের ওপর আয়নায় বিপরীত কাউন্টারে উল্টো দিকে মুখ করে দাঁড়ানো তাকে দেখে গল্পের ‘আমি’ তার হাত ধরে ভর দুপুরের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে আমবাগানের নির্জনতম অংশের দিকে ছুটছে তো ছুটছে। এত বছরে যাকে একবার ভালো করে মনেও পড়েনি আজ তার জন্য নিজের অজান্তে ঝরে পড়া দুফোঁটা চোখের জল কেন ওড়নায় মুছতে হচ্ছে? তার পাশে দাঁড়ানো মোহনীয় নারীটাই বা কেন তাকে এক সমুদ্র ঈর্ষায় ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে? আর এই করতে গিয়ে মায়ের জন্য কলেজের গেটে অপেক্ষমাণ মেয়ের কথা মনে পড়তেই সম্বিৎ ফিরে পায় গল্পের ‘আমি।’ মাত্র সেদিন মেয়েটিও এমন এক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। সেদিন সন্ধ্যার মুখে মাকে জড়িয়ে ধরে মেয়ে যখন হু হু কান্নায় ভেঙে পড়েছে তখন মুহূর্তে মায়ের মন যখন ‘ড্রাগ থেকে ধর্ষণ কিংবা প্রেগনেন্সি’ পর্যন্ত ভেবে নিয়েছে ঠিক তখন মেয়ে তার প্রথম প্রেমের সমাপ্তির গল্প বলে। মা হেসে খুন। এমন হয়। হতেই পারে। কিন্তু কলেজ গেটে আবার মেয়ের শুকনো মুখ? কেন?
মেয়ে এবার গল্পের দায়িত্ব নেয়। একা হতেই ফেসবুক খুলে রিলেশন স্ট্যাটাসটা বদলে দিয়েছে সে। ‘ইন এ রিলেশনশিপ’ এর জায়গায় ‘সিঙ্গেল’ টিক দিতেই কিনা উড়ে এসে সজলই প্রথম লাইকটা দিল। কেমন লাগে বলতো মা?
মা বললেন, তুই ওকে ব্লক করে দে।
: ওকে ব্লক করলে ও কী করে বুঝবে আমি কত সুখে আছি? প্রতিদিন সেজেগুজে সেলফি আপলোড করছি আর চেকইন দিচ্ছি-সে কি এমনি এমনি?
গল্পের আমি তার নিজের কথা ভাবে। মেয়ে বলে সজল নাকি ওর পুরনো ডায়েরির মতো। ওর ভালো-মন্দ, ওর লজ্জা সব লেখা আছে ওখানে। মা আশ্বস্ত করে মেয়েকে। বন্ধু হয়ে থাকবি। মেয়ের রাগত কণ্ঠ শোনা যায়। কারও ‘এক্স’ যখন বলে লেটস বি ফ্রেন্ড, তখন আমার মনে হয় কোনো কিডন্যাপার বলছে, বেবি স্টে ইন টাচ। ছড়াছড়ি ইংরেজি শব্দ, বাক্যে মধুর ভাষাভঙ্গিতে আফসানা একালের মেয়েটির গল্প বলে যায়। মেয়ে বলে, শোনো মা, কেউ যদি তোমাকে কষ্ট দেয় তো একটা নদীর সমান কাঁদো, কাঁদতেই থাকো। তারপর সেই নদীর ওপারে একটা ব্রিজ বানিয়ে গটগট করে হেঁটে পার হয়ে যাও।
কিন্তু না, শেষ রক্ষা হয় না। নিজের কথার ফুলঝুরিতে নিজেই বাঁধা পড়ে এক সময় হাসতে থাকে মেয়ে। হাসতে হাসতে কেঁদে ফেলে। কাঁদতে কাঁদতে মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে বলে, আমার এত কষ্ট কেন হচ্ছে মা, ওকে ভুলে যেতে পারছি না কেন? মা বলে, কি করে ভুলবি মেয়ে যার সঙ্গে মনে রাখার মতো এত কিছু হয়ে গেছে?
এই তো গল্প। চিরদিনের গল্প। চিরপ্রেমের গল্প। চিরবিরহের গল্প। কিন্তু নতুন করে। নতুন সুরে। ধন্যবাদ আফসানা।
কবিতার পাতা খুলবো একটু? আমাদের মেয়েদের কবিতা? প্রথম আলোর পদাবলী পাতা থেকে (নারী দিবসে) ছটি কবিতা ওদের ছজনের। কাকে বাদ দেব? নুরুন্নাহার শিরীন পুরনো বন্ধু, কবিতায়। ও পাঠকের হাত তুলে নেয় নিজের হাতের মুঠোয়। তারপর হায়, কোথায় যে নিয়ে যায়! হায় জীবন নদী বেদনার অধিক জলের ভার নিয়ে সে নদী নিশ্চয়ই বয়ে যায়। তবে ক্ষীণ ধারায় যখন তিরতির বয়ে যায় তখনও তার জলের ভাষাটি ‘অপ্রতিরোধ্য।’ হ্যাঁ, অপ্রতিরোধ্য।
লুনা রুশদী ‘নেথানের উঠানে’ শুধু ভিনিগারে ডোবানো জলপাই এর বয়াম হাতে ইংরেজ নায়কের মতো সদ্যোস্নাত ঠান্ডা সুন্দর নেথানকেই দেখে না, দুটো শালিক পাখি দেখে এবং দেখে জীবন, যে-জীবন দোয়েলের ফড়িংয়েরও বটে এবং সবশেষে সকলের গন্তব্য কি লাশকাটা ঘর?
শেলী নাজ লিখেছেন পুরুষহীন ঘরের কবিতা। শূন্যতার সরঞ্জামে ভরা… ঘর শূন্যতা ফুঁড়ে জাগে গম্বুজ ইচ্ছেঢোলকে বাজে কামনা এবং সবশেষে পুরুষহীন যে ঘর তার যা থাকে সবসময় তা হচ্ছে ‘দুইখানি পাখা।’
সালেহীন শিপ্রার প্রগাঢ় প্রেমের কবিতা, ‘রৌদ্রগাঢ় প্রতীক্ষাহিম’ শেষ পর্যন্ত মন খারাপ করা মেয়েটির কথা বলে। অলকা নন্দিতা তার দেড় যুগের উর্ধ্বগতি রুদ্ধশ্বাস কর্মজীবনের খতিয়ান শেষে অর্ধযুগের রুটিন বাঁধা চরজাগা মনের কথা বলে। অখন্ড অবসরে দেখে ‘আমি কোথাও নেই, পড়ে আছি ইটের চাপায়।’ সবশেষে এক চিলতে জীবনের শাফিনূর আসমগ্র জীবনদর্শনের কথা বলে তার ‘নিয়তি’ কবিতায় ‘পৃথিবীর যা কিছু সুন্দর হারায়ে যায়/ এই তার নিয়তি। এ বছরের মতো চলে গেল আমাদের নারী দিবস। তার জন্য এবার আয়োজন ছিল প্রচুর, প্রগাঢ়। উঠে আসছে আমাদের নারী। মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে স্বমহিমায়। আপন মর্যাদায়।

x