আমাদের দেশের অধিকাংশ রাজনীতিবিদ মুখে বলে গণতন্ত্র, জপে কিন্তু ধনের মন্ত্র

শুক্রবার , ৫ অক্টোবর, ২০১৮ at ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ
9

আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা ক্ষমতার বড়ই কাঙ্গাল। পড়ি কি মরি, জনগণ চায় কি, না চায় ক্ষমতা তাঁদের চায়ই। তদুপরি যে একবার ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছে, সে তো আরও বেশি চায়। জনগণ কী চায়, কী তার চাওয়া, পাওয়া, সে হিসেব রাজনীতিবিদদের নেই। ‘মুখে সবাই বলে গণতন্ত্র, কিন্তু ভিতরে ভিতরে জপে ধনের মন্ত্র।’ এক পক্ষ ক্ষমতায় গিয়ে চব্য, চুষ্য, লেহ্য, পেয় এর স্বাদ নেয়, আর যথেচ্ছার করে। অন্যপক্ষ ক্ষমতা হারানোর বেদনায় বা ক্ষমতায় না যেতে পারার যন্ত্রণায় ধুঁকে ধুঁকে মরে। বিরোধী দলে কেউ থাকতে চায় না। প্রত্যেকে চায় সরকারি দলে থাকতে।
যখন কোন নির্বাচনে একপক্ষ জিতে তখন সে পক্ষ বলে নির্বাচন সুষ্ঠু, আর যখন নির্বাচনে জিতে না তখন বলে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। (নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বললেও) পরাজিত পক্ষ এমনও বলে। নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট পেপারে ঐ মার্কায় সীল মেরে বাক্সে ভরে দেয়া হয়েছে। কে মেরেছে? ঐ দলের লোকেরা। আরে নির্বাচনে ভোট গ্রহণের ১০ মিনিট আগে প্রিসাইডিং অফিসার সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারদের ব্যালট বাঙ এবং ব্যালট পেপার সাপ্লাই দেন। আর সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ভোট গ্রহণের আগ মুহূর্তে ব্যালঠ বাক্স খুলে উপস্থিত নির্বাচনী এজেন্টদের দেখান,তারপর এটা সীল করেন। অন্যদিকে খালি ব্যালট পেপার ও সকলকে দেখানো হয়। তারপর শুরু হয় ভোট গ্রহণ। এখানে কারচুপির সুযোগ কোথায়? তারপরও এগুলো পরাজিত দলের লোকেরা বলে। এটা এদেশের একটা রাজনৈতিক কালচার। আবার অনেক রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন চলাকালে পরাজয় আঁচ করতে পেরে মাঝপথে নির্বাচন বর্জন করে সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাঁয়তারা করে। (যার উদাহরণ গত চট্টগ্রাম ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন) নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে কি হয়নি, সে পর্যবেক্ষণ করে না, হারলেই নির্বাচনের বদনাম কোন কোন সময় নির্বাচনে অনিয়ম হতেও পারে, সেটা যাচাইয়ের বিষয়) নির্বাচনের এজেন্ট, পর্যবেক্ষক, ভোটার সবাই বলেছে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। যার ভোট সে দিয়েছে, তাতেও পরাজিত দলের লোকেরা ইনিয়ে বিনিয়ে বলে, টকশো করে, গলা বাজি করে বলবেই নির্বাচন ফ্রি এন্ড ফেয়ার হয়নি। নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই, হারজিত থাকবেই, কিন্তু এটা মেনে নেয়ার মানসিকতা কি থাকবে না? তাহলে কীসের গণতন্ত্র? পরাজিত হয়ে নির্বাচনের পরে দেশ অস্থিতিশীল করে মানুষকে কষ্ট দিয়ে এদের সম্পদ লুট করে মানুষকে হত্যা করে এটা নিজেদের জ্বালা মেঠায়। এটা কি গণতন্ত্রের নমুনা? যারা রাজনীতি করে দেশটা শুধু তাদের একার নয়। এটা সব মানুষের। অতএব রাজনীতিবিদরা সহনীয় আচরণ করুন। নির্বাচনে হারজিত মেনে নিতে পারলে তবেই নির্বাচনে প্রার্থী হোন। না হয়, অহেতুক জনগণকে কষ্ট দেবেন না।
-রণধীর মল্লিক, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক, হালিশহর মুন্সীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, বন্দর, চট্টগ্রাম।

x