আমাদের আজাদী

মৃণালিনী চক্রবর্ত্তী

বৃহস্পতিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ
38

নানান খবরের ফুলেল সমারোহে- সূর্য জাগা সকালে, সে ছুটে যায় দুয়ারে দুয়ারে নির্বিবাদে।
একটি কিশোর দৌড়ায়, একবুক ভালাবাসা নিয়ে হাতে, একটি কিশোরী থাকে হাত বাড়িয়ে, উৎকণ্ঠা ও ভালবাসার অপেক্ষার দুয়ারে। সফল সূর্য ওঠার সকালটা, এক মুঠো খবরগুচ্ছ, ভরিয়ে দিতে, তোমার হাতে, ছুঁয়ে দেখি কাগজের সারা দেহে কোথাও পড়েছে, রোদের মিষ্টি চিক্‌চিকি, কোথাও জমেছে মেঘ, কোথাও দু:খিনী বর্ষা, বন্যার উত্তাল তরঙ্গ।
কোথাও শরতের কুয়াশা, শিউলির ঘ্রাণে, স্নিগ্ধ আগমনী রূপ। কোথাও হেমন্তের নবান্নের সুখ, কবির অন্তঃ কুঠিরে ভরে, শীতের পাতা ঝর গানে, প্রকৃতির রক্ষতায় সে চিত্রে আঁকে, মানুষ ও প্রকৃতির বর্বরতার দৃশ্য। সে তপস্যায় বসন্তকে জাগায়, পাহাড় থেকে আকাশনীলায়, বাসন্তী রঙে কৃষ্ণচূড়ায় শাখে শাখে। তার যৌবন দেহে আসে শুভদিন, আঁকে শোকাবহ দিন, এক খণ্ডযুদ্ধের দামামায় আসে স্বাধীনতা, আসে বিজয়ের দিন, সফল-বিফলের, দোল দোলালো দিনগুলো ছুঁয়ে তার অতিমাত্রায় যাত্রা। কত ঘটনা, কত কল্পনা, কত স্মৃতি, কত বঞ্চনা, কত আর্তনাদ, কত যাতনা, কত প্রতিবাদ, তাঁর শরীরে প্র্রচ্ছদে প্রচ্ছদে এঁকে সে দাঁড়িয়ে থাকে জন্মসম্মুখে। সে কথা মালার এক ফাঁকে ফাঁকে এক চিলতে কাগজে, এক চিলতে রোদ্দুরে, কিশোরীর অপেক্ষার দুয়ারে। আরো কতজন দাঁড়িয়ে থাকে, সারাদিনের খুশির উদ্বোধনে। সে এগোয়, স্বপ্ন, গল্প, কবিতার প্রবাহে, রম্য আড্ডার ভিতরে, সাহিত্যের রসে, তোমারি বর্ণিল কাগজে সূচনা হোক আজকের প্রভাতের, আজকের জাগরণের। কিশোরী হয়েছে কবি, কিশোরী হয়েছে শিল্পী, কিশোরী হয়েছে পাঠক, তোমার প্রস্রবিত আত্মকর্মের আত্মগর্বে ডুবে, সে হয়ে গেল একজন মানবতাবাদী লেখক, তোমার সাধক।

x