আবু হেনা মোস্তফা কামালের সৃষ্টি কর্ম নিয়ে নরেন আবৃত্তি একাডেমির আয়োজন

আনন্দন প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার , ১১ অক্টোবর, ২০১৮ at ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
6

বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী আবু হেনা মোস্তাফা কামাল বাংলাদেশের অন্যতম সৃষ্টিশীল লেখক। কবিতা, প্রবন্ধ এবং সঙ্গীত এই তিনটিই ছিল তার প্রকাশ মাধ্যম। এই স্বল্পপ্রজ লেখক ১৯৩৬ সালে ১৩ মার্চ পাবনা শহরের উপকণ্ঠে গোবিন্দা গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। ১৯৫৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করে তিনি এমএ পাশ করেন। ১৯৬৯ সালে এই গুণি লেখক লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় হতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্ম জীবনে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন। আবু হেনা মোস্তাফা কামাল বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের নানা অনুষ্ঠানের উপস্থাপক, আলোচক ও সঙ্গীতকার ছিলেন। ১৯৮৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি বাংলাএকাডেমির মহা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা সাহিত্যের অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে তিনি ‘একুশে পদক’ সহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন। তাই আবু হেনা মোস্তফা কামাল আজও বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, তাঁর ২৯তম মৃত্যু বার্ষিকী স্মরণে ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬.৩০ টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির মূল মিলানায়তনে নরেন আবৃত্তি একাডেমি আয়োজন করে তাঁরই রচনা থেকে কথামালা, আবৃত্তি, গান, নাচ এবং কাব্য নাটক। ইসমাইল চৌধুরী সোহান ও পৃথা পারমিতার সঞ্চালনায় এবং দিদারুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কবি ময়ুখ চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শুরুতে কবির সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন নাজমুন নাহার সেজুতী। অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আমন্ত্রিত অতিথি মো: সাজ্জাদ হোসেন, কানিজ ফাতেমা ও মারওয়া আনজুমান। মো: সাজ্জাদ হোসেন আবৃত্তি করেন কবিতা গণহত্যা, নিরন্ত বিরোধ, অলৌকিত জ্যোৎস্নার সুটিং, ছুটি, অরুন্ধুতি; কানিজ ফাতেমা আবৃত্তি করেন কবিতা আমার অগ্রজ, আত্নজ, অন্তরঙ্গ গান, কিছুই নিজস্ব নয়; মারওয়া আনজুমান আবৃত্তি করেন কবিতা নিষিদ্ধ গোলাপ, অগ্নিকাণ্ড সবুজ, ঐকতানের অপেক্ষা। “তোমার কাজল কেশ” ও “অনেক বৃষ্টি ঝরে” শিরোনামে সঙ্গীত পরিবেশন করেন নরেন আবৃতি একাডেমির সঙ্গীত শিল্পী দীপ্ত সেন।
“তুমি যে আমার কবিতা” ও আমি সাগরের নীল” গানের শিরোনামের নৃত্য পরিবেশন করেন রাজেশ চক্রবর্তী ও রাজশ্রী এবং “নদীর মাঝি বলে” শিরোনামে নৃত্য পরিবেশন করেন সূচনা বণিক। অনুষ্ঠানে সম্মানমা প্রদান করা হয় কবি ময়ূখ চৌধুরী, আবৃত্তি শিল্পী মো: সাজ্জাত হোসেন এবং আবৃত্তি শিল্পী রাশেদ হাসানকে। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মাহবুবুর রহমান মাহফুজ, এহতেশামুল হক, সেলিম রেজা সাগর। কবি আবু হেনা মোস্তফা কামালকে উৎসর্গ করে কবি ময়ুখ চৌধুরী রচিত “একজন কবির অরুন্ধুতি” কবিতাটি আবৃত্তি করেন নাজনিন হক লিপি। অনুষ্ঠানের শেষ আকর্ষন হিসেবে নরেন আবৃত্তি একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় পরিবেশিত হয় আবু হেনা মোস্তফা কামাল রচিত কাব্যনাটক “দেশের মানুষ নদীর মানুষ”। মিশফাক রাসেলের নির্দেশনায় কাব্যনাটকে অংশ গ্রহন করেন মিতাশা মাহারিন, দিদারুল আলম, সৈয়দ হোসেন বাবু, মিজানুর রহমান সজীব, মো: মহসিন, প্রসেনজীৎ বড়ুয়া, রাজেশ দাশ গুপ্ত, প্রাঙ্গণ শুভ, নবীন, মারিয়া খানম, জয়া প্রযুক্তা, আনিকা ফেরদৌস প্রমুখ। কোরিওগ্রাফি মিতাশা মাহরীন, আবহ সঙ্গীত পরিকল্পনা দিদারুল আলম, আলোক পরিকল্পনায় শহীদুল করিম নিন্টু।

x