আবু জাফর শামসুদ্দীন : প্রগতিমনস্ক লেখক ও সাংবাদিক

মঙ্গলবার , ১২ মার্চ, ২০১৯ at ৭:০১ পূর্বাহ্ণ
22

আবু জাফর শামসুদ্দীন লেখক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক হিসেবে সুপরিচিত। প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মের সাথেও যুক্ত ছিলেন তিনি। আজ তাঁর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী।
গাজীপুর জেলার দক্ষিণবাগ গ্রামে ১৯১১ সালের ১২ই মার্চ আবু জাফর শামসুদ্দীনের জন্ম। কর্মজীবনের সূচনা দৈনিক সোলতান পত্রিকায় সহ-সম্পাদক হিসেবে। পরবর্তীকালে বিভিন্ন সময়ে আজাদ, ইত্তেফাক, পূর্বদেশ ও সংবাদ-এ কাজ করেছেন। বাংলা একাডেমীতে সহকারী অনুবাদক হিসেবেও নিযুক্ত ছিলেন কিছুকাল। প্রথম উপন্যাস ‘পরিত্যক্ত স্বামী’ রচনার মধ্য দিয়ে তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু। এরপর উপন্যাসের পাশাপাশি ছোটগল্প, অনুবাদ, নাটক, আত্মজীবনী, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ প্রভৃতি সাহিত্যের নানা শাখায় তিনি বিচরণ করেছেন স্বচ্ছন্দে। ‘শিল্পীর সাধনা’ ও ‘পার্ল বাকের সেরা গল্প’ তাঁর দুটি অনুবাদ গ্রন্থ। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে: ‘ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান’, ‘দেয়াল’, ‘জীবন’, ‘রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘সংকর সংকীর্তন’, ‘চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানি সাহিত্য’, ‘লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি’ ইত্যাদি। তাঁর সকল রচনাতেই উদার, মানবতাবাদী, অসামপ্রদায়িক, প্রগতিমনস্ক এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ একজন লেখককে খুুঁজে পাওয়া যায়। দৈনিক সংবাদ-এ ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে তাঁর লেখা ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক কলাম স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ ছিল সমাজতান্ত্রিক। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে ছিল তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ। ঐতিহাসিক ‘কাগমারি সম্মেলন’-এ আবু জাফর শামসুদ্দীন প্রস্তুতি কমিটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অধিষ্ঠিত ছিলেন শান্তি পরিষদ, বাংলাদেশ আফ্রো-এশীয় লেখক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতি, বাংলা একাডেমী, বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট সোসাইটি সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে। সমাজ ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার, মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার, শহীদ নতুনচন্দ্র সিংহ স্মৃতি পদক, সমকাল সাহিত্য পুরস্কার এবং ফিলিপস পুরস্কারে (মরণোত্তর) লাভ করেন। ১৯৮৮ সালের ২৪শে আগস্ট আবু জাফর শামসুদ্দীন প্রয়াত হন।

x