আবুল হুসেন : সমাজ চিন্তাবিদ ও মননশীল প্রাবন্ধিক

রবিবার , ৬ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ
31

আবুল হুসেনের প্রধান পরিচয় সমাজ চিন্তাবিদ হিসেবে। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের উজ্জ্বল শিখা ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’-এর প্রাণপুরুষ হিসেবে সংগঠনটি পরিচালনায় তাঁর অসাধারণ সাংগঠনিক শক্তির পরিচয় মেলে। এই সংগঠনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন কাজী আবদুল ওদুদ ও কাজী মোতাহার হোসেন। আজ আবুল হুসেনের ১২২তম জন্মবার্ষিকী।
আবুল হুসেনের জন্ম ১৮৯৭ সালের ৬ জানুয়ারি যশোরের পানসিপারা গ্রামে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ, বি.এল এবং পরবর্তীসময়ে এম.এল পাশ করেন তিনি। পেশা হিসেবে প্রথম জীবনে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। পরবর্তী সময়ে জজ কোর্ট ও হাইকোর্টে আইন ব্যবসায় যোগ দেন। পাশাপাশি সাহিত্য চর্চাও করতেন। সমাজ মনস্ক ও মননশীল প্রাবন্ধিক হিসেবে তাঁর সুখ্যাতি ছিল। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ছিল তাঁর সাহিত্য সাধনার লক্ষ্য। বাংলা ও ইংরেজি – দুই ভাষাতেই তিনি লিখেছেন। তাঁর প্রকাশিত রচনার মধ্যে রয়েছে: ‘বাঙালি মুসলমানের শিক্ষা সমস্যা’, ‘মুসলিম কালচার’, ‘খোঁয়াড় ও খেয়ার আইন’, ‘দ্য প্রবলেমস অব রিভার ইন বেঙ্গল’ প্রভৃতি। কয়েকটি ছোটগল্পও রচনা করেছেন তিনি। ‘রুদ্ধ ব্যথা’, ‘নেশার ফের’, ‘পেটের দায়’, ‘স্নেহের টান’, ‘মিনি’, ‘গোঁয়ার দাদু’, ‘প্রীতির কুঁড়ি’ প্রভৃতি ছোটগল্পে লেখকের মানসবৈশিষ্ট্যের মতোই মানবকল্যাণ, সমাজহিত, নীতিবোধ, স্বাবলম্বন ও সুন্দর মনের পরিচয় মেলে। আবুল হুসেনের প্রকাশিত গ্রন্থ বা অগ্রন্থিত-অপ্রকাশিত রচনার সংখ্যা প্রচুর না হলেও তাঁর মননচিন্তার পরিধি-পরিসরের বলয় ব্যাপক – সমাজ-রাজনীতি-অর্থনীতি-সংস্কৃতি-রাষ্ট্র-ধর্ম-শিক্ষা-ইতিহাস পর্যন্ত প্রসারিত। তাঁর সকল রচনাই যুক্তি আর তথ্যে সমৃদ্ধ এবং একইভাবে যথেষ্ট গুরুত্ববহ। মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম মুখপত্র ‘শিখা’ সম্পাদনা করেছেন তিনি। পত্রিকাটি মননশীল ও বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ রচনার জন্যে সমকালে আলোড়ন তুলেছিল। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৩৮ সালের ১৫ অক্টোবর মাত্র ৪১ বছর বয়সে প্রয়াত হন আবুল হুসেন।

x