আবুধাবীর মোচ্ছাফ্ফার সাপ্তাহিক  বাংলা বাজার

এম এ মন্নান, আবুধাবী (আরব আমিরাত) থেকে

শুক্রবার , ১১ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৭:৩২ অপরাহ্ণ
272
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীর শিল্পনগরী মোচ্ছাফ্ফার সাপ্তাহিক বাংলা বাজারটি বৈধভাবে প্রায় একবছর  ধরে চলছে। আবুধাবী মিউনিসিপ্যালটির তত্ত্বাবধানে এখন চলছে এ বাজারে জমজমাট বেচাকেনা। কয়েকবছর আগেও যেখানে স্থানীয় প্রশাসন এ সাপ্তাহিক বাংলাবাজারসহ অন্যান্য অবৈধ বাংলাবাজার বন্ধ করতে তৎপর ছিল এখন তাদেরই বিশেষ সহযোগিতায় বৈধভাবে বেচাকেনা করতে পেরে স্বল্প আয়ের প্রবাসীরা অনেক খুশী।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীর শিল্পনগরী মোচ্ছাফ্ফার মোচ্ছাফ্ফার সাপ্তাহিক বাংলাবাজারটি বাংলাদেশের গ্রামবাংলার হাট বাজারের প্রতিচ্ছবি।  মোচ্ছাফ্ফার ৪৩নং সেক্টরের সাপ্তাহিক বাংলা বাজারটিতে সপ্তাহজুড়ে যে সমস্ত শ্রমিকরা বাগানে, মাজরা(কৃষি খামার) ওজবাতে(উটের খামার), দোকানে ও বিভিন্ন ঠিকাদারের সাথে ও কোম্পানিতে অল্প বেতনে চাকরি করেন বিশেষ করে তারাই এ বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতা।
বৃহস্পতিবার স্হানীয় সময় বিকাল ৪টা(আসর নামাজের পর) থেকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার সারাদিন ৪৩ নম্বর সেক্টরের বিশাল এলাকাজুড়ে স্থানীয় কতৃপক্ষের নির্মিত বড় বড় সেডের নিচে সারিবদ্ধভাবে বসেন বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত বিত্রেুতারা তাদের হরেক রকম পসরা নিয়ে।
আগে এসব বাজারে ছিল না কোনো সেড। উম্মুক্ত খোলা জায়গায় বসত দোকানীরা তাদের পসরা নিয়ে। এখন আবুধাবী মিউনিসিপ্যালটি নির্মিত বড় করোগেটেড সেইডের নিচে ছায়াযুক্ত জায়গায় নিজেদের মালামাল নিয়ে বসতে পেরে অস্থায়ী দোকানীরা অনেক খুশী। বাজারে আগত ক্রেতা ও বিক্রেতারা আবুধাবী সরকারের এ আয়োজনকে সাধুবাদ জানান।
আমিরাতে অবস্থানরত বৈধ যেকোনো প্রবাসী নিজের আমিরাত আইডি কার্ডের ফটোকপি ও ফেরতযোগ্য ১০০দিরহাম(প্রায় ২২৩০ টাকা) জমা দিয়ে (বাংলাবাজারে অবস্থিত অফিসে) এ বাজারে বৈধ যেকোনো পসরা নিয়ে বসতে পারেন।
এখন নেই আগের মতো অবৈধ তাস ও জুয়ার আসর। আগের মতো বিত্রিু করা যায় না পাকিস্তানী নেছোয়ারসহ নেশা জাতীয় দ্রব্যাদি। আছে সার্বক্ষণিক পুলিশী টহলসহ নানা সুযোগ-সুবিধা।
দোকানের ভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ তেমন না থাকায় সুপার মার্কেট ও স্থানীয় দোকান থেকে অনেকটা সস্তায় বেচাকেনা করা হয় বিভিন্ন মালামাল। এসব দোকানদাররা জানান, তাদের লাভও হয় অনেক। সস্তায় মালামাল কিনতে পেরে এ বাজারে আগত ক্রেতারাও তাদের সন্তুষ্টির কথা জানান।
সাপ্তাহিক এ বাংলা বাজারে কাঁচা শাক-সবজি, ফল-মূল, তাজা মাছ-মাংস, কাপড়চোপড়, চাল, ডাল, সাইকেল, জুতা, কম্বল, মরিচ-মসল্লাসহ আবুধাবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না এমন জীবিত হাঁস মুরগীও এখানে পাওয়া যায়। আছে কাপড় সেলাইয়ের টেইলার ও জুতা মেরামতকারী। দেশের ঐতিহ্যবাহী ঝাল মুড়ি, চটপটি, সিদ্ধ ডিম, বিরানী, দেশীয় আমেজে পিয়াজু সিংগারাসহ চাও পাওয়া যায় এ বাংলা বাজারে। তবে আগের মতো তাজা গরু গোশত আর মাছ মুরগী কেটে বা পরিষ্কার করে দেয়ার সুবিধাটা এখন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
সাপ্তাহিক এ বাংলা বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের অধিকাংশই বাংলাদেশী হলেও ভারতীয়, পাকিস্তানীসহ অন্যান্য দেশের প্রবাসীরাও আছে অনেক। তাদের সবার লক্ষ্য একটা্ই, কম দামে কেনাবেচা করা। মিশরীয়, সিরীয়, সুদানী, ইয়েমেনী আরবী ক্রেতা্ও আছে অনেক।
আগত ক্রেতারা্ জানান, তারা তুলনামূলক কম দামে দেশীয় আমেজে বৈধভাবে মালামাল কিনতে পেরে অনেক খুশী।  তাই অনেকে বলে উঠেন- ‘নাম তার মোচ্ছাফ্ফার সাপ্তাহিক  বাংলা বাজার ; তাজা শাকসবজি ফলমূল মুরগীর বিপুল সমাহার!’
অভিজ্ঞদের মতে, আমিরাত সরকার যেমন স্বল্প আয়ের প্রবাসীদের বেচাকেনার সুবিধার্থে এ বাজারের সম্প্রসারণ করেছে তেমনি বাজারকে বৈধতা দিয়েছে। সকল প্রবাসীর উচিত স্থানীয় আইনকানুন মেনে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করে এ বাংলা বাজারকে টিকিয়ে রাখা।
x