আবাসিকে গ্যাসের নিররচ্ছিন্ন সরবরাহ প্রয়োজন

রবিবার , ২৯ জুলাই, ২০১৮ at ৬:৩২ পূর্বাহ্ণ
189

২৭ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত ‘চট্টগ্রাম রিং মেইন গ্যাস লাইনের অন স্ট্রিম পিগিং কার্যক্রম’ চলবে। এ সময় গ্যাস সরবরাহ সাময়িক বিঘ্নিত হবে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞাপন দিয়ে খবরটি জানিয়ে দিলেও চট্টগ্রাম নগরীর বাসিন্দারা তার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। বাসার চুলা যে জ্বলবে না, তা তাঁরা জানেনই না। ফলে নগরবাসীকে দিনভর ভুগতে হয়েছে গ্যাস সংকটে। সীতাকুণ্ডের ফৌজদার হাট থেকে নগরীর কয়েকটি প্রধান গ্যাস পাইপ লাইনে অনস্ট্রিম পিগিং (পাইপ লাইনে বাতাস দিয়ে পরিষ্কার করা) কার্যক্রম চালানোর কারণে নগরীর অধিকাংশ এলাকায় গত শুক্রবার সকাল থেকে দীর্ঘ সময় বাসা বাড়িতে গ্যাস ছিল না। কয়েকটি এলাকায় গ্যাস থাকলেও চাপ ছিলো একেবারেই কম। ফলে বাসাবাড়িতে রান্নার চুলা জ্বলেনি। বাধ্য হয়ে অধিকাংশ লোকজনকে হোটেল থেকে খাবার কিনতে হয়েছে।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, শুক্রবার সকাল থেকেই নগরের অনেক এলাকায় গ্যাস সংযোগ বন্ধ ছিল। নগরীর চান্দগাঁও, বাকলিয়া, ফিরিঙ্গী বাজার, আগ্রাবাদ, হালিশহর, পতেঙ্গা, বন্দরটিলা, ইপিজেড, কর্ণেলহাট, ডবলমুরিং, আলকরণ, আন্দরকিল্লা, চকবাজার, বড়পোল, আকবরশাহ, খুলশী, বহদ্দারহাট, দেওয়ানহাটসহ বেশিরভাগ এলাকায় গ্যাস ছিল না। এসব এলাকার কোথাও চাপ একেবারে কম, কোথাও গ্যাস একেবারে ছিল না। গ্যাস সংকটের কারণে গৃহিণীদের এখন ভরসা সিলিন্ডার গ্যাস, কেরোসিনের স্টোভ, মাটির চুলা, ইটের চুলা বা ইলেকট্রিক চুলা। কোথাও এসব মাধ্যম দিয়ে জরুরি রান্না সারলেও অনেককেই বাধ্য হয়ে যেতে হয়েছে পাশের রেস্টুরেন্টে। কিন্তু অনেক রেস্টুরেন্টেও খাবার মিলেনি। খাবার না পেয়ে কেউ কেউ কলাপাউরুটি খেয়ে দিন পার করছেন বলে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) এর উপমহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়দক্ষিণ) প্রকৌশলী মো. সরোয়ার হোসেন পত্রিকান্তরে জানিয়েছেন, ‘উচ্চচাপবিশিষ্ট ‘রিংমেইন গ্যাস পাইপ লাইনের অন স্ট্রিম পিগিং’ কার্যক্রম চলমান। সমগ্র চট্টগ্রামের প্রধান গ্যাস লাইনটি হলো ফৌজদারহাট হয়ে পতেঙ্গাকর্ণফুলী নদীর পাড়কালুরঘাটনাসিরাবাদ আবাসিক এলাকা হয়ে সিটি গেইট হয়ে বৃত্তাকারের মতো। প্রতি সাতআট বছর পর এটি মেরামত ও পরিষ্কার করা হয়। মেরামত কাজটি করা হচ্ছে। তাছাড়া চট্টগ্রামে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৭০ থেকে ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিছু দিন আগেও পাওয়া যেত ২০০ থেকে ২০৬ মিলিয়ন ঘনফুট। তাই এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।’

গ্যাস আর বিদ্যুতের জন্য ভোগান্তি চলছে পুরো নগরে। প্রায় পুরো সময়েই চলছে এই দুঃসহ পরিস্থিতি। মনে হয় ইচ্ছে করেই নগরবাসীকে এই দুর্গতির মুখোমুখি করানো হচ্ছে। যেই সময়ে রান্নাবান্নার জন্য গ্যাস জরুরি, সেই সময়ে চুলা না জ্বললে কোনো গৃহিণীর মেজাজ ঠিক থাকার কথা না। বিদ্যুতের বিষয়েও অভিযোগ একই।

জনজীবনে মৌলিক উপাদানের সমস্যা মোকাবেলায় নারীদের হিমশিম খেতে হয়। গ্যাসবিদ্যুৎপানির সঙ্কটে তাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। গ্যাসের চাপ না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় রান্নার কাজ শেষ করতে হয়। শুধু সংস্কার কাজের জন্য এই ক’দিন নয়, চাহিদার চেয়ে কম গ্যাস সরবরাহ থাকায় এবং গ্যাসের চাপ কম থাকায় নগরীর বেশির ভাগ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকে। বলা যায়, জ্বালানি গ্যাস সংকটে নাকাল চট্টগ্রাম নগরবাসী। গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে নগরে। বছরের বিভিন্ন সময়ে এলাকার কোথাও কোথাও কমবেশি গ্যাস সংকট থাকলেও এখন এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। নগরবাসীর এই দুর্ভোগ এখন স্থায়ীভাবে রূপ নিয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় অনেক সময় ধরে গ্যাস সরবরাহ থাকে না। ফলে বাসাবাড়িতে রান্নাই বন্ধ হওয়ার উপক্রম। হোটেল থেকে খাবার কিনে বাসায় নিতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে। তাই আমরা মনে করি, গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। গৃহস্থালি বা আবাসিক কাজে প্রাকৃতিক গ্যাস নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় করণীয়। গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে আবাসিক কাজে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন স্বাভাবিক কারণেই। আবাসিক গ্যাস ব্যবহারকারীরা স্বল্প গ্যাস ব্যবহার করে থাকেন এবং অতি প্রয়োজনীয়, বিশেষ করে খাবার প্রস্তুতের কাজে এ গ্যাস ব্যবহার হয়ে থাকে। সুতরাং এ সরবরাহ কোনোক্রমেই ব্যাহত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

x