আবাসিকে আবারো গ্যাস সংকট অনেক এলাকায় জ্বলেনি চুলা

চট্টগ্রামে চাহিদার অর্ধেকের চেয়েও কম সরবরাহ

আজাদী প্রতিবেদন

মঙ্গলবার , ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ at ৩:১২ পূর্বাহ্ণ
331

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট দিনদিন প্রকট হয়ে উঠছে। চাহিদার অর্ধেকও সরবরাহ দেয়া হচ্ছে না। ফলে বিপুল ঘাটতির খেসারত দিতে হচ্ছে আবাসিক ও শিল্প উভয় শ্রেণির গ্রাহকদের। গতকাল এই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন গ্যাস পেয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)। সকাল থেকেদুপুর পর্যন্ত নগরীর বিশাল এলাকাজুড়ে গ্যাস ছিল না। ফলে অধিকাংশ এলাকায় জ্বলেনি রান্নার চুলা। আগামী দিনগুলোতে (শীত মৌসুমে) চট্টগ্রামে এই সংকট আরো ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তারা।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রামে গ্যাসের আবাসিক গ্রাহকসংখ্যা তিন লাখ ৭০ হাজার। সেই সঙ্গে শিল্পকারখানাসহ দুই হাজার ৭৮৭ বাণিজ্যিক গ্রাহক রয়েছে। আবাসিক ও শিল্প গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে চট্টগ্রামে দৈনিক ৪৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। এর বিপরীতে বর্তমানে চট্টগ্রামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে দৈনিক গড়ে ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। যা চাহিদার অর্ধেকের চেয়েও কম। এই বিপুল ঘাটতির খেসারত দিতে হচ্ছে চট্টগ্রামের আবাসিক ও শিল্প খাতের গ্রাহকদের।

গতকাল সোমবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে এবং দৈনিক আজাদী অফিসে বিভিন্ন এলাকার লোকজন ফোন করে জানিয়েছেন, মোমিন রোড, জামালখান, রহমতগঞ্জ, আন্দরকিল্লা, ঘাটফরহাদবেগ, বৌবাজার, ডিসি রোড, চকবাজার, বড়মিয়া মসজিদ, কাপাসগোলা, কেবি আমান আলী রোড, আগ্রাবাদ, চৌমুহনী, মধ্যম হালিশহর, মির্জাপুল, চান্দগাঁও ফরিদার পাড়া, বটতল মাজার গেইট ও মদুনাঘাটসহ বিশাল এলাকাজুড়ে বাসিন্দারা সকালে ঘুম থেকে উঠে গ্যাস পাননি। এলাকায় সকাল ১০টা থেকে গ্যাস চলে গেছে। বিকাল পর্যন্ত গ্যাস ছিল না বলে জানান মোমিন রোড এলাকার শহীদুল ইসলাম, চকবাজার এলাকার রেজাউল করিম, মির্জাপুল এলাকার তসলিম খাঁ, আগ্রাবাদ এলাকার গৃহিনী রোজী চৌধুরী।

এই ব্যাপারে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএলের)-এর ম্যানেজার (কাস্টমার এন্ড মেইনটেনেজ) ইঞ্জিনিয়ার অনুপম দত্ত আজাদীকে জানান, চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ দিনদিন কমে যাচ্ছে। এই লক্ষণ খারাপ। এ সংকট আরো প্রকট হতে পারে। এলএনজি না আসা পর্যন্ত এই সংকট কাটবে না। শুধু আবাসিকে নয় শিল্পকারখানাসহ বাণিজ্যিক সব গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়বে। গ্যাসের যে চাহিদা, তার অর্ধেকেরও কম জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে চট্টগ্রামে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ৪৭০ মিলিয়ন ঘনফুট। জাতীয় গ্রিড থেকে এখন প্রতিদিন পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০০ থেকে ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। আজকে (গতকাল সোমাবার) চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ দেয়া হয়েছে মাত্র ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। এ কারণে চট্টগ্রামে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়ে উঠছে। চট্টগ্রামে চকবাজার, মেহেদীবাগ, জামালখান, মোমিন রোড, রহমতগঞ্জ, আন্দরকিল্লা, কেবিআমান আলী রোড, বাকলিয়া এলাকায় সংকট বেশি। কারণ এই এলাকায় গ্রাহক বেড়ে গেছে। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ বাড়েনি। আগের পাইপ লাইন দিয়েই গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এসব এলাকার প্রবেশ মুখের গ্রাহকরা কিছু কিছু পেলেও ভেতরের গ্রাহকরা পাচ্ছেন না।

চট্টগ্রামে এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের জন্য লিকুফাইড ন্যাচারাল গ্যাসের (এলএনজি) দিকে তাকিয়ে আছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)। আগামী বছরের এপ্রিলমে মাসের দিকে কাতার থেকে এই এলএনজি গ্যাস আমদানি শুরু হবে বলে জানান কেজিডিসিএলের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, চট্টগ্রামে আবাসিকে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় আবাসকে চাহিদার অর্ধেকেরও কম সরবরাহ করা হচ্ছে। সংকট থাকায় পিডিবির গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে এখন আর গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। তবে চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট আর বেশি দিন থাকবে না। আগামী বছরের এপ্রিলমে’র দিকে কাতার থেকে এলএনজি গ্যাস আমদানি শুরু হবে। তখন সংকট কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে।

এদিকে গ্যাসের অভাবে প্রতিদিন চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না অনেক শিল্পকারখানা। এর ফলে ওইসব শিল্পকারখানায় উৎপাদন অনেক কমে গেছে। এর ফলে অনেক শিল্প মালিককে লোকসান গুণতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

x