আবাসন ব্যবসার সামনে ভালো ভবিষ্যৎ : ভূমিমন্ত্রী

চট্টগ্রামে রিহ্যাব ফেয়ার উদ্বোধন

আজাদী প্রতিবেদন

শুক্রবার , ১৫ মার্চ, ২০১৯ at ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ
187

‘স্বপ্নীল আবাসন সবুজ দেশ, লাল সবুজের বাংলাদেশ’-সেস্নাগানে শুরু হল চারদিনের রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার ২০১৯। নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন বস্নু চট্টগ্রাম বে-ভিউর মোহনা হলে গতকাল বৃহস্পতিবার ১২তম এ ফেয়ারের উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা আবাসন ব্যবসার মেঘ সরতে শুরু করেছে। বাংলাদেশে আবাসন ব্যবসার বয়স বেশি দিনের না হলেও শুরুটা ছিলো দুর্দানত্ম। কিন্তু হঠাৎ করে একটা পর্যায়ে এসে আবাসন ব্যবসা খুব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গিয়েছে। তবে আমার মনে হচ্ছে, আবাসন ব্যবসার মেঘ সরছে। এ ব্যবসার একটা ভালো ভবিষ্যত আমি দেখতে পাচ্ছি। যে কোন ব্যবসাতে উত্থান পতন আছে। এ ব্যবসাও ব্যতিক্রম নয়। আগে পৃথিবীর সেরা ধনীরা এ ব্যবসার ওপর ভিত্তি করেই সেরা হয়েছিলেন। হাইটেক ব্যবসা আসার পর পরিস্থিতির বদল হয়েছে। ভূমিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে সরকার বিগত ১০ বছর দেশে প্রচুর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছে। মানুষের মৌলিক চাহিদা- অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থান এগুলো অ্যাড্রেস করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা-বিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল- এমডিজি বাংলাদেশ সাফল্যের সঙ্গে পূরণ করেছে। এখন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল- এসডিজি পূরণের জন্য কাজ চলছে। যেহেতু এসডিজি পূরণের অন্যতম শর্ত সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান, তাই আবাসন খাত উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আশা করি সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আবাসন খাত সামনের দিকে শক্ত অবস্থান নিয়ে এগোবে। ভূমিমন্ত্রী ‘দাম কম, বিক্রি বেশি’ নীতি অনুসরণের তাগিদও দেন।
রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামীন (কাজল) এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আরো বলেন, আবাসন ব্যবসার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ‘অ্যাফোর্ডেবল’ হাউজিং। অর্থাৎ কম দামে বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাট ক্রেতার কাছে তুলে দেওয়া। এ জন্য আপনারা ‘লেস প্রফিট, মোর ভলিউম’ নীতি অনুসরণ করতে পারেন। তবেই আবাসন ব্যবসায় গতি আসবে। অনেকেই বলেন, ভূমির উচ্চমূল্যের কারণে বাংলাদেশে ‘অ্যাফোর্ডেবল’ হাউজিং সম্ভব হচ্ছে না। সিঙ্গাপুর, টোকিও, হংকংয়েও কিন্তু একই অবস্থা। জমির দাম নাগালের বাইরে। তবে তারা বসে নেই। মাইক্রো হাউজিং, মাইক্রো অ্যাপার্টমেন্ট চালু করে আবাসন ব্যবসা জমজমাট রেখেছে। আমাদের দেশে জনসংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, সে পথে যাওয়া ছাড়া উপায় দেখছি না। শহর এলাকায় ১ হাজার বর্গফুট কিংবা এর চেয়ে ছোট জায়গায় দুই বেডের অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করা যায়। এ রকম কনসেপ্ট নিয়ে আপনারা এগোতে পারেন। ব্যবসা মানেই ভাল মন্দের মিশেল। একটা ব্যবসায় সব লোক ভালো হবে- এমনটা আশা করাও যায় না। গুটি কয়েক মন্দ লোকের কারণে আবাসন ব্যবসার সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই এসব ফ্রডদের ধরতে হবে। একজন লোক তার সারা জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে প্লট কিংবা ফ্ল্যাট কিনতে যান। কিন্তু কিনতে গিয়ে যখন প্রতারণার শিকার হন- তখন আবাসন ব্যবসার জন্য এটা মঙ্গল বয়ে আনে না। আশা করি এরকম অভিযোগ পেলে রিহ্যাব তদনত্ম করে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
কোনো প্রতারক যেন আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের সদস্য থাকতে না পারে সে বিষয়ে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। এড়্গেত্রে রিহ্যাবের সদস্যদের বিষয়ে ‘শক্ত পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ’ রাখা উচিত বলে জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই দাবি করে আমরা রিহ্যাব সদস্য। কোনো রিহ্যাব সদস্য প্রতারণায় যুক্ত থাকতে পারবে না। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আপনারা তদনত্ম করে ব্যবস্থা নেবেন, সদস্য থাকতে পারবে না। যে কোনো ব্যবসায় ইমেজ খুব গুরুত্বপূর্ণ। রিহ্যাব সদস্যদের একটি রেটিং থাকা দরকার। সব কাজের মনিটরিং দরকার।
মন্ত্রী রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামীন (কাজল)এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আপনি আগে ঢাকা মানে বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ মানে ঢাকা বুঝতেন। এখন চট্টগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। এটা খুবই ইতিবাচক।
তিনি আরো বলেন, জনগণ এ সরকারকে তিন তিনবার ম্যান্ডেট দিয়েছে। যার কারণে ধারাবাহিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব হচ্ছে। রিহ্যাবের পড়্গ থেকে সুলভ দামে সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করার জন্য সরকারি খাস জমি বরাদ্দের ব্যাপারে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জবাবে তিনি বলেন, এটা নিয়ে স্টাডি হতে পারে।
স্বাগত বক্তব্যে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ‘সকলের জন্য বাসস্থান’ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এজন্য চাই সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা। সরকার জমি বরাদ্দ দিলে রিহ্যাব সদস্যদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কম দামে সকলের জন্য আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব।
রিহ্যাব সভাপতি বলেন, বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সৌন্দর্য বর্ধনে রিহ্যাব সদস্য ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলো অক্লানত্ম পরিশ্রম করে যাচ্ছে এবং দেশের আবাসন চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছে। রিহ্যাব সভাপতি তাঁর বক্তব্যে আবাসন শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বাসস্থান মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম উলেস্নখ করে দেশে প্রায় ৩০ লড়্গ ফ্ল্যাটের চাহিদা রয়েছে। অথচ সরকারি এবং রিহ্যাব সদস্যদের মাধ্যমে বছরে মাত্র ১০ শতাংশ আবাসন সরবরাহ করছে, যা চাহিদা অনুযায়ী নিতানত্মই কম। এজন্য তিনি এই সেক্টরকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানান।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট (৩) ও ফেয়ার স্ট্যান্ডিং কমিটি, রিহ্যাবের কো চেয়ারম্যান কামাল মাহমুদ। উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের পরিচালক ও চেয়ারম্যান ফেয়ার স্ট্যান্ডিং কমিটি শাকিল কামাল চৌধুরী, পরিচালক ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির কো-চেয়ারম্যান (১) ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ দিদারুল হক চৌধুরী এবং পরিচালক ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির কো-চেয়ারম্যান (২) মাহবুব সোবহান জালাল তানভির, চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির সদস্য রেজাউল করিম, আবদুলস্নাহ আল মামুন, নাজিম উদ্দিন, মোরশেদুল হাসান, ফেয়ার অর্গানাইজিং কমিটির সদস্য এয়াছিন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার শেখ নিজাম উদ্দিন, শহিদুল ইসলাম, সৈয়দ ইরফানুল আলম এবং চট্টগ্রাম রিজিয়নের সদস্যবৃন্দ। রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ারের উদ্বোধনী অধিবেশন স্পন্সর করে কেএসআরএম।
রিহ্যাব থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এবারের ফেয়ারে মোট ৫৪ টি স্বনামখ্যাত রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান এবং বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও অর্থলগ্নীকারী প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। কো-স্পন্সর হিসেবে ১৭ টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে এই ফেয়ারে। আয়োজকরা জানান, এবারের ফেয়ারটিকে আগের চেয় আরও অধিক জাঁকজমকের সাথে আয়োজন করছি। মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা বাসস্থান নিশ্চিত করাই রিহ্যাবের মূল লক্ষয। ১৭ মার্চ পর্যনত্ম ফেয়ার চলবে।

x