আবারো হারলো মোহামেডান টানা তিন জয় বসুন্ধরা কিংসের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার , ৩১ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ
18

আবারো হারলো একদা ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। আক্রমণে এগিয়ে থেকেও মোহামেডান জয়ের দেখা পেল না। প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে টানা দ্বিতীয় হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সাদা-কালোদের। ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি হেরেছে ১-০ গোলে। পানামার ফরোয়ার্ড জ্যাক দানিয়েলসের একমাত্র লক্ষ্যভেদে কমলা জার্সিধারীরা পেয়েছে প্রথম জয়। বিজেএমসির বিপক্ষে দারুণ জয়ে লিগ শুরু করা মোহামেডান আগের ম্যাচে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল আরামবাগের বিপক্ষে। তৃতীয় ম্যাচে এসে আগ্রাসী ফুটবল খেললেও হারের তিক্ততা পেতে হলো তাদের। বুধবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে ছিল মোহামেডানের একচেটিয়া প্রাধান্য। ম্যাচের ৮ মিনিটে গাম্বিয়ার মিডফিল্ডার ল্যান্ডিং ডারবোর স্কয়ার পাস থেকে নাইজেরিয়ার ফরোয়ার্ড কিংসলে চিগোজি শট নেওয়ার আগেই ডিফেন্ডার মোহাম্মদ সজল ক্লিয়ার করেন। এরপর ফরোয়ার্ড আমির হাকিম বাপ্পী একাই দুটো সুযোগ নষ্ট করেন। প্রথমটিতে এই ফরোয়ার্ডের শট গোলরক্ষক সুজন চৌধুরী গ্রিপে নিয়ে নেন। পরে প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে মিডফিল্ডার কায়সার আলী রাব্বির ক্রস বাপ্পী ঠিকমতো প্লেসিং করতে পারেননি। গোলশূন্য প্রথমার্ধ শেষে বিরতির পর ব্রাদার্স এগিয়ে যেতে সময় নেয়নি। ৫১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার এভারটন সান্তোসের পাসে পানামার ফরোয়ার্ড জ্যাক দানিয়েলসের জোরালো শট জালে জড়িয়ে যায়। সমতায় ফিরতে মরিয়া মোহামেডান একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। ব্রাদার্স গোলরক্ষক সুজন চৌধুরী দুর্দান্ত সেভে গোল আর পায়নি তারা। ৭৫ মিনিটে ল্যান্ডিংয়ের শট প্রতিহত করেন সুজন, পরের মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে কিংসলের টোকা ঠেকিয়ে দেন এই গোলরক্ষক। ব্রাদার্সের জয়ের নায়ক দানিয়েলস বলেছেন, ‘ঢাকার মাঠে গোল করে আমি খুশি। এর আগে স্বাধীনতা কাপে প্রথম গোল করেছিলাম। এবারের লিগে ১১-১২টি গোল করতে চাই।’ ব্রাদার্সের ভারতীয় কোচ সৈয়দ নইমুদ্দিনও খুশি, ‘আগের ম্যাচে কিছু ভুলের কারণে হারতে হয়েছিল। এই ম্যাচে ছেলেরা তেমন ভুল করেনি। পানামার দানিয়েলস গোল পেয়েছে, সবকিছুই হয়েছে পরিশ্রমের কারণে।’ মোহামেডানের কোচ আলী আজগর নাসির টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হেরে হতাশ, ‘এভাবে গোলের সুযোগ হারালে আমরা ম্যাচ জিতবো কী করে! ল্যান্ডিং ও কিংসলে একাধিক গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি।’
এদিকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলে অব্যাহত রয়েছে বসুন্ধরা কিংসের জয়যাত্রা। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও ঢাকা আবাহনীকে হারিয়ে উড়তে থাকা নবাগত দলটি টানা তৃতীয় ম্যাচ জিতলো বুধবার। স্বাধীনতা কাপের চ্যাম্পিয়নরা ২-০ গোলে হারিয়েছে আরেক নতুন ক্লাব নোফেল স্পোর্টিংকে। নতুন দুই ক্লাবের মুখোমুখি লড়াইয়ে আধিপত্য ছিল বসুন্ধরার। নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধেই গোল পায় তারা। ২৩ মিনিটে ফরোয়ার্ড মতিন মিয়া এগিয়ে দেন দলকে। কিরগিজস্তানের মিডফিল্ডার বখতিয়ার দেশোবিকভের রক্ষণ চেরা পাসে কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই ফরোয়ার্ড। ৬ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারতো। কিন্তু কোস্টারিকার দানিয়েল কোলিনদ্রেসের ফ্রি কিক ক্রস বারে লেগে ফিরে যায়। প্রথমার্ধ এক গোলে এগিয়ে থেকে শেষ করে বসুন্ধরা। দ্বিতীয় গোলের খোঁজে তারা মরিয়া হয়ে ওঠে শেষ ৪৫ মিনিট। সফলও হয় তারা শেষ দিকে। ৮৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে মিডফিল্ডার ইমন মাহমুদ বাবুর জোরালো শট গোলরক্ষককে চমকে দিয়ে জালে জড়ায়। ইনজুরি সময়ে ডিফেন্ডার সুশান্ত ত্রিপুরার গতিময় শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে গেলে ব্যবধান আর বাড়েনি। দুই গোল নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে অস্কার ব্রুজনের দলকে। আর নোফেলকে দেখতে হলো টানা দ্বিতীয় হার।

x