আবারও আজাদী

মোস্তফা কামাল পাশা

মঙ্গলবার , ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ
15

প্রিয় দৈনিক আজাদী আর কয়েক শ’ দিনের সিড়ি ভেঙে হিরক জয়ন্তী অর্থাৎ ৬০ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করবে। ওদিন আমি থাকতেও পারি আবার নাও। কিচ্ছু এসে যায় না। জানামতে এর মাঝে বাংলাদেশের একমাত্র দৈনিক হিসাবে আজাদী ঐতিহাসিক এক নয়া রেকর্ডও গড়ে ফেলেছে। এই রেকর্ডের কথা ৬০ বছর পূর্তি সংখ্যায় কারো লেখা বা সম্পাদকীয়তেও বোধহয় আসেনি। সেটা হচ্ছে, পাঠক নন্দিত একমাত্র দৈনিক পত্রিকা আজাদী, যেটা বিপুল পাঠকের আস্থা আগাগোড়া ধরে রেখেই টানা ৬০ বছর পথ পাড়ি দিচ্ছে। বাংলাদেশ শুধু নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলা ভাষাভাষী পত্রিকার মধ্যে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার পর একমাত্র আজাদীই বৃহত্তর চট্টগ্রামে এক নম্বর অবস্থান ধরে রেখে গৌরবের এই অভিযাত্রা পাড়ি দিয়েছে। আর কেউ পারেনি। ইত্তেফাক ৬৬ বছর পথ পাড়ি দিলেও টানা পাঠকপ্রিয়তা হারিয়েছে অনেক আগে। নিশ্চয়ই আগামীতেও আজাদী তার এই মহান কীর্তি ধরে রাখতে চাইবে। বর্ষপূর্তির মূল সংখ্যায় এ-‘নিয়ে লেখা উচিত ছিল, প্রসঙ্গিক কারণে দায়টা এখানে সেরে ফেলছি। কর্তৃপক্ষ আরেকটা বিষয়ে মনোযোগ দিলে আজাদী জনপ্রিয়তায় দেশের শীর্ষ দৈনিকের সংক্ষিপ্ত তালিকায় উঠে আসবে বলে পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা আছে। তা’ হচ্ছে, ২৪ ঘন্টার অনলাইন সংস্করণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দোরগোড়ায় আমরা। স্বল্প কিন্তু দক্ষ জনসম্পদে এটা কঠিন কিছু নয়। আরো কিছু সম্পাদকীয় মনোযোগ বিশেষ করে পেশাদার নানা স্বাদের উপ সম্পাদকীয় কলাম আজাদীর আবেদন অনেক বেশি সমৃদ্ধ করবে বলে একজন সর্বভুক পাঠক হিসাবে বিশ্বাসী।
রাজনীতি ভীতি!
আসলে রাজনীতি নিয়ে লিখতেই এখন অরুচি! দেশ উন্নয়ন অভিযাত্রার মূল ট্র্যাকে টানা কয়েক বছর ধরে অবস্থান করলেও অনিয়ম, বেপরোয়া লোভ, অশুদ্ধ রাজনীতি খারাপ ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমাদের অর্থনীতি এখন মাত্র দুটো সেক্টরের উপর দাঁড়িয়ে আছে। এটা বহুমুখীকরণ করা না হলে গুরুতর বিপদ সামনে। সেক্টর দুটো হচ্ছে, তৈরি পোশাক খাত ও প্রবাসী রেমিট্যান্স। এ’ দু’প্রধান সেক্টরই অর্থনীতির ভিত পোক্ত রেখেছে। কোন কারণে একটা খাতে ধস নামলে পুরো অর্থনীতি তাসের ঘরের মত ধসে পড়বে। উদাহরণ ভেনিজুয়েলা। লাতিনের দেশটি ২০১০ সালেও বিশ্বের সর্বোচ্চ উন্নয়ন সূচকের তালিকায় ছিল। বিপুল তেল সম্পদের দেশটির প্রধান আয় ছিল তেল রপ্তানি। মোট বৈদেশিক মুদ্রার ৮০% ছিল তেল রপ্তানির আয়। কিন্তু আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্যে আরব বসন্তের ঢেউ ছড়িয়ে পড়লে হঠাৎ করে তেলের মূল্য সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে তলানিতে নেমে আসে। আর মূল্য ধসের ভয়াবহ ধকল সামলাতে গিয়ে সবচে’ বড় ক্ষত তৈরি হয় মার্কিন বৈরি সমাজতান্ত্রিক ভেনেজুয়েলার উপর। শুধুমাত্র তেল সম্পদ নির্ভরশীল দেশটি কোনভাবেই এই ক্ষত সামলে উঠতে পারেনি। এখন মূল্যস্ফীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, ভেনিজুয়েলান বলিভারের (টাকা) দাম কমে প্রায় শূন্য হয়ে গেছে। এক কেজি ময়দা কিনতে লাগে ১০ লাখ বলিভার। যা ২০১২ সালে বিক্রি হতো ১০ বলিভার। একদিকে মাদুরো বিরোধীদের প্রতি মার্কিন সমর্থন অন্য দিকে পানির দামে তেল বিক্রিতেও বাধার মুখে মাত্র কয়েক বছরে লাতিনের সবচে’ তেলসমৃদ্ধ দেশটির মানুষ এখন দলে দলে দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। দেশজুড়ে হাহাকার, বুভুক্ষা! বিকল্প বড় অর্থনীতির প্রতি মনোযোগ না দেয়ার তেলসমৃদ্ধ হয়েও দেশটি ডুবতে বসেছে। আমাদের অর্থনীতিও দীর্ঘ মেয়াদী টেকসই অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু করা না হলে শুধু গার্মেন্টস ও রেমিট্যান্স নির্ভরতা বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। বিকল্প অতীতের সমৃদ্ধ চামড়া শিল্প, পাট-শিল্পের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোও নিজেদের ভুলে ডুবছে। বিশাল সমুদ্র বিজয়ের ৭/৮ বছর পরও সমুদ্র সম্পদ তথা ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা নিয়ে পরিকল্পিত কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তেল, গ্যাস আহরনে প্রায় সব সাগর ব্লকই অব্যাবহৃত থেকে গেছে। সরকারি দলের নেতারা নেত্রী বন্দনা আর বিরোধী দলের অতীত চর্চাকেই তাদের দৈনিক শীর্ষ কর্ম তালিকায় রেখেছে। এভাবে তো উন্নয়ন অভিযাত্রার গাড়ি চলতে পারে না। যে কোন সময় ব্রেক ফেল করতেই পারে।
নির্মম+ভয়ঙ্কর
মেক্সিকোর অভিবাসী স্রোত আটকাতে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাঁত কামড়ে তাঁর পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছেন। কংগ্রেস অর্থ বরাদ্দ আটকে দিলে পেন্টাগনের সামরিক বরাদ্দে থাবা বসিয়েছেন ট্রাম্প। সীমানা দেয়াল নির্মাণের আটকে
থাকা কাজও চলছে।

x