আবরার হত্যা মামলায় নেই মূল অভিযুক্তরা : রিজভী

বুধবার , ৯ অক্টোবর, ২০১৯ at ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
9

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় সোমবার রাতে চকবাজার থানায় যে মামলা হয়েছে, সেখানে আসামি হিসেবে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রহস্যজনকভাবে এদের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্তদের নাম নেই। গতকাল মঙ্গলবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
আবরার হত্যার ঘটনায় তার বাবা বরকতুল্লাহ সোমবার চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। মামলার ১০ আসামিকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার তাদের পাঁচদিনের রিমান্ডেও পাঠিয়েছে আদালত।
রোববার রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সহপাঠীদের বরাতে সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শিবির সন্দেহে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। অভিযোগ উঠেছে, শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে তাকে পেটানো হয়। খবর বিডিনিউজের।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুম তথা টর্চার সেলটি কার? তাকে বাঁচাতে বুয়েট প্রশাসন উঠে পড়ে লেগেছে কেন? নির্লজ্জ বুয়েট প্রশাসন এই হত্যাকাণ্ডকে সামান্য অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু বলে বিবৃতি দিয়েছে। তারা খুনিদের আড়াল করতে সিসিটিভিতে ধারণকৃত ২০ মিনিটের ভিডিও এডিট করে মাত্র দেড় মিনিটের একটি ক্লিপ দিয়েছে। এই প্রশাসন এত বড় নৃশংস ও কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ডকে হালকাভাবে দেখিয়ে অপরাধীদের বাঁচাতে চাচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাত্রলীগের ক্যাডারদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। অতীত ঐতিহ্যকে ম্লান করে দিয়ে এর ডাকনাম এখন হয়ে পড়েছে চাপাতি লীগ। ছাত্রলীগ নামক এই দানব জঙ্গি লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা না করলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার পরিবেশ ফিরবে না। শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা থাকবে না।
গত ৫ অক্টোবর ফেসবুকে দেওয়া সর্বশেষ পোস্টে আবরার ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ফেনী নদীর পানি প্রত্যাহারসহ সামপ্রতিক কয়েকটি চুক্তির সমালোচনা করেন। এর আগেও ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্টের কারণে তাকে শিবির বলে সন্দেহ করা হয়। সে কারণেই ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে তাকে ‘জিজ্ঞাসাবাদ’ করা হয় বলে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য।
বিএনপি নেতা রিজভী ফেনী নদীর নাম ‘আবরার নদ’ রাখার দাবি জানান। ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে ধাপে ধাপে কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এই চুক্তির প্রতিবাদ করছি। বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন প্রতিবাদ করছে। গতকালও একটা বিশাল মিছিল হয়েছে। এটা চলতে থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

x