‘আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী’ গ্রেফতার

হালিশহরে ইয়াবা চালানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ

আজাদী প্রতিবেদন

শুক্রবার , ৯ নভেম্বর, ২০১৮ at ৬:১০ পূর্বাহ্ণ
774

মালয়েশিয়ায় পালানোর পথে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে এক ‘আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীকে’ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বুধবার ৭ নভেম্বর মো. রেজওয়ান ওরফে জুবায়ের (৫৫) নামে এই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ইতঃপূর্বে নগরীর হালিশহর ইয়াবা চালানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানায়, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশত্যাগের চেষ্টা করেছিলেন রেজওয়ান। বৃহস্পতিবার তাকে নগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) এসএম মোস্তাইন হোসাইন জানান, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় রেজওয়ানের নাম নেই। তবে দেশ-বিদেশে ইয়াবা চোরাচালানের সঙ্গে তার জড়িত থাকার তথ্য একাধিক তদন্তে উঠে এসেছে। প্রথমবার তার নাম পাওয়া গেছে ১৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধারের পর। বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় জোবায়ের প্রকাশ রেদোয়ান নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এ এ এম হুমায়ুন কবির আজাদীকে বলেন, আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী রেজওয়ান পালাতে পারে, এই তথ্য আমাদের ছিল। সেজন্য আমরা দেশের সব সীমান্তে রেজওয়ানের বিষয়ে তথ্য দিয়ে রেখেছিলাম। বুধবার ঢাকা বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে।
প্রসঙ্গত, গত ৩ মে নগরীর হালিশহরে শ্যামলী আবাসিক এলাকা থেকে ১৩ লাখ ইয়াবাসহ মো. আশরাফ ও তার ভাই মো. হাসানকে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ডিবি) এএএম হুমায়ুন কবির বলেন, মিয়ানমারের রেঙ্গুনের বাসিন্দা আব্দুর রহিমের কাছ থেকে ১৩ লাখ ইয়াবা আনা হয়েছিল। ইয়াবাগুলো রেজওয়ান ও হাজী সাইফুলের কাছে সমানভাগে যাওয়ার কথা ছিল।
এ বিষয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) এএএম হুমায়ুন কবির জানান, ‘পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় নাম না থাকলেও নীরবে ইয়াবা ব্যবসা করে যাওয়া রেজওয়ানের নাম উঠে আসে হালিশহরের ১৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা তদন্তে। পরে মো. আশরাফ (৪৮) ও তার ভাই মো. হাসানের (২৪) জবানবন্দি থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ মে রাতে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা থেকে রাশেদ মুন্না (৩০) নামের আরেকজনকে গ্রেফতার করা হয়। রেজওয়ানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সীমান্তে তথ্য পাঠানো হয়েছিল বলে জানান তিনি।
এই গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, আগে গ্রেফতার আশরাফ ছিলেন মূলত ইয়াবা বহনকারী। সৌদি আরবে থাকার সময়ই মাদকের কারবারে জড়িয়ে পড়েছিলেন আশরাফ। ইয়াবাগুলোর মূল মালিক মিয়ানমারের রেঙ্গুনর বাসিন্দা আব্দুর রহিম। রাশেদ মুন্নার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আশরাফ এর আগেও একবার রেজওয়ানের জন্য ইয়াবা এনেছিল।

x