আনিস চৌধুরী

সমাজমনস্ক একজন লেখক

শুক্রবার , ২ নভেম্বর, ২০১৮ at ৭:২৪ পূর্বাহ্ণ
20

আনিস চৌধুরী বিশিষ্ট নাট্যকার ও কথা সাহিত্যিক হিসেবে সুপরিচিত। ছোটগল্প, নাটক ও উপন্যাস – এই তিনটি মাধ্যমেই ছিল তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ। বাবা নুরুল হুদা তাঁর নাম রেখেছিলেন আনিসুজ্জামান কামরুদ্দীন। ছাত্রাবস্থায় তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন আনিসুজ্জামান চৌধুরী। আনিস চৌধুরী তাঁর সাহিত্যিক নাম। এবং এ নামেই তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন। আজ তাঁর ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী।
আনিস চৌধুরী ১৯২৯ সালের ১৫ই এপ্রিল কলকাতায় জন্ম নেন। তবে পৈতৃক নিবাস ছিল কুমিল্লায়। কর্মজীবনের সূচনা ছাত্রাবস্থায়, সাংবাদিক হিসেবে। তখন থেকেই লেখালেখিতে নিয়মিত ছিলেন তিনি। ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এসসি পাস করে প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ সমাপ্ত করেন। কর্মজীবনে করাচির রেডিও পাকিস্তান, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যুক্ত ছিলেন আনিস। ইসলামাবাদে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম প্রেস কাউন্সিলর হিসেবেও কাজ করেছেন কিছুকাল। আনিস চৌধুরী রচিত ছোটগল্পের সংকলন ‘সুদর্শন ডাকছে’; উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে: ‘মানচিত্র’, ‘অ্যালবাম’, ‘চেহারা’, ‘অনন্যা’ ইত্যাদি। আর উপন্যাস হলো: ‘সরোবর’, ‘সৌরভ’ ‘শখের পুতুল’, ‘মধুগড়’, ‘ঐ রকম একজন’, ‘ময়নামতী’ প্রভৃতি। লেখকের প্রায় সব রচনাতেই মধ্যবিত্ত জীবনের চিরায়ত টানাপোড়েন ও বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে, প্রকাশিত হয়েছে নিত্য দারিদ্র্য, দ্বন্দ্ব-সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার সংগ্রামী চেতনা। নাটকের জন্য ১৯৬৮ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৯০ সালের ২রা নভেম্বর আনিস চৌধুরী প্রয়াত হন।

x