আনিসের সম্পদ বেড়েছে দ্বিগুণ স্ত্রীর তিন গুণ

জাহেদুল কবির

বৃহস্পতিবার , ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ
56

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের গত পাঁচ বছরে সম্পদ বেড়েছে দ্বিগুণ। তাঁর স্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে তিনগুণেরও বেশি। তবে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের কাছে নগদ টাকা আছে মাত্র ১০ হাজার ৫৫০ টাকা। অন্যদিকে স্ত্রীর কাছে নগদ টাকা রয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ ৭২ হাজার ৮১১ টাকা। গত ২০১৪ সালের নির্বাচনে তাঁর কাছে নগদ টাকা ছিল ৯ লাখ ১৬ হাজার ১৬২ টাকা এবং স্ত্রীর ছিল ৬৭ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৩ টাকা। গত ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি বার্ষিক আয় দেখান ৩০ লাখ টাকা। তবে এবার সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৪ লাখ ৯০ হাজার ৬০৭ টাকায়। হলফনামায় টেঙটাইল ও গার্মেন্টস ব্যবসা রয়েছে উল্লেখ করলেও ব্যবসা খাতে তিনি আয় দেখাননি। এবার নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামায় এসব তথ্য জানা গেছে। হলফনামায় আরো দেখা গেছে, জাতীয় পার্টির নেতা ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের কাছে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ২৮ কোটি ৪৫ লাখ ৬ হাজার ৬৮০ টাকার। গত ২০১৪ সালের নির্বাচনের হলনামায় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিলো ১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৫৫ হাজার ৩৭ টাকার। এবার হলফনামায় স্ত্রীর নামে মোট সম্পদ দেখান ১৪ কোটি ৭২ লাখ ৬৯ হাজার ৪৬৪ টাকার। ২০১৪ সালে হলফনামায় স্ত্রীর সম্পদ ৪ কোটি ৬০ লাখ ৩১ হাজার ৫২২ টাকার ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। ২০১৪ সালে প্রার্থীর ওপর নির্ভরশীলদের আয় ছিল ৪৪ লাখ ১৬ হাজার ১২৯ টাকা। এবার সেটি হয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ২২ হাজার ২৯৭ টাকা।
হলফনামার তথ্য মতে, অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের কাছে নগদ টাকা আছে মাত্র ১০ হাজার ৫৫০ টাকা। তার স্ত্রীর কাছে আছে ১ কোটি ৬০ লাখ ৭২ হাজার ৮১১ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজের নামে ৯ কোটি ৯২ লাখ ৫২ হাজার ৩৭১ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৮৩ লাখ ৮ হাজার ১০৪ টাকা আছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়। ২০১৪ সালের হলফনামায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নামে ২৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৩৩ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৫৪ লাখ ৭৮ হাজার ৫১১ টাকা ছিল বলে তথ্য দেয়া হয়। এবার ব্যাংক, ঋণপত্র, স্টক এঙচেঞ্জ তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার (অর্জনকালীন সময়ের) মূল্য দেখান ১৩ কোটি ৮৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫৮৬ টাকা। স্ত্রীর নামে দেখান ১১ কোটি ৩৫ লাখ ৯৯ হাজার ২৬০ টাকা। ২০১৪ সালে পোস্টাল সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী বিনিয়োগ দেখাননি। এবার নিজের নামে বিনিয়োগ দেখিয়েছেন ৪৫ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৩০ লাখ ৮৯ হাজার ২৪১ টাকা। বাস, ট্রাক, মটরগাড়ি ও মটর সাইকেল ইত্যাদির অর্জনকালীন মূল্য দেখিয়েছেন ১ কোটি ৬৪ লাখ ১ হাজার ২৪১ টাকা। গত নির্বাচনে দেখিয়েছেন ৭১ লাখ ৩৭ হাজার ৯৪৮ টাকা। এদিকে হলফনামায় স্বর্ণও অন্যান্য মূল্যবান সম্পদের মূল্য দেখিয়েছেন নিজের নামে ২০ হাজার এবং স্ত্রীর নামে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। গত নির্বাচনে হলনামায়ও একই পরিমাণ সম্পদ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। গতবার ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র ছিল বলে হলফনামা তথ্য দেন। এবার নিজের নামে কোনো আসবাবপত্রের মূল্য দেখাননি তিনি। শুধুমাত্র স্ত্রীর নামে দেখিয়েছেন ২৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র। এবার তিনি অন্যান্য অস্থাবর সম্পদের হিসাবে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা উল্লেখ করেন। গত নির্বাচনের মতো এবারও তিনি নিজের নামে কোনো ইলেকট্রনিক সামগ্রী নেই জানিয়েছেন। তবে স্ত্রীর নামে ১ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। অপরদিকে স্থাবর সম্পদ বিবরণীতে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ নিজের নামে কৃষি জমির পরিমাণ ও অর্জনকালীন আর্থিক মূল্য দেখান ৩২ লাখ ৬৩ হাজার ৪০০ টাকা। গত নির্বাচনে তিনি নিজের নামে কৃষি জমির অর্জনকালীন আর্থিক মূল্য দেখান ৩২ লাখ ৬০ হাজার ৪০০ টাকা। গতবার পটুয়াখালীর কুয়াকাটা ও নারায়ণগঞ্জের বিডিসিতে স্ত্রীর নামে ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ৪৮ টাকার সম্পদ দেখালেও এবার তিনি স্ত্রীর নামে কোনো সম্পদ দেখাননি। গতবার নিজের নামে অকৃষি জমির অর্জনকালীন মূল্য দেখান ১২ হাজার ৫০০ টাকা। এবার হলফনামায় নিজের নামে অকৃষি জমির মূল্য দেখিয়েছেন ৩৪ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯৪ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ৪৮ টাকা। অন্যদিকে গত নির্বাচনের হলফনামায় দালান (আবাসিক বা বাণিজ্যিক) ও অর্জনকালীন সময়ের আর্থিকমূল্য দেখান ৫৭ হাজার ৮৯৪ টাকা। এবার তিনি কোনো মূল্য উল্লেখ করেননি। এবারের হলফনামায় নিজের নামে বাড়ি বা এপার্টমেন্টের সংখ্যা ও অর্জনকালীন সময়ের আর্থিকমূল্য দেখিয়েছেন ১ কোটি ৮৭ লাখ ৯১ হাজার ১৩৮ টাকা ও স্ত্রীর নামে দেখিয়েছেন ৩৯ লাখ টাকা। গত নির্বাচনে নিজের নামে ১ কোটি ৩২ হাজার ১ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে উল্লেখ করলেও স্ত্রীর নামে কিছু ছিল না বলে সেই সময় হলফনামায় উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে বার্ষিক ৩ কোটি ৭২ লাখ ৩ হাজার ২৭ টাকা আয় করেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের আয় দেখান ৯৮ লাখ ৭০ হাজার ২৮২ টাকা। মন্ত্রী হিসেবে পারিতোাষিক ও ভাতা থেকে আয় দেখান ৩২ লাখ ৮৭ হাজার ৫৮০ টাকা। প্রার্থীর ওপর নির্ভরশীলদের চাকরি থেকে ৫১ লাখ ৩৫ হাজার ৫১৫ টাকা এবং পরিচালক হিসেবে ৩৭ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ টাকা দেখিয়েছেন তিনি। ইতোপূর্বে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন উল্লেখ করে হলফনামায় ব্যারিস্টার আনিস জানান, তিনি নির্বাচনের আগে ভোটারদের দেয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করেছেন ৯৫ শতাংশ, কৃষি ও সেচ ব্যবস্থা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে উন্নয়ন ৭৫ শতাংশ, পল্লী বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ ৯৫ শতাংশ ও স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতভাগ উন্নয়ন করেছেন। নিজের নামে ঢাকার একটি আদালতে ফৌজদারি মামলা হলেও হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয় বলে হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন। পেশার বিবরণীতে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ টেঙটাইল ও গার্মেন্টস প্রস্তুতকারক এবং রফতানিকারক উল্লেখ করলেও তিনি সেই ব্যবসায় কোনো আয় দেখাননি। সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা বার-এট-ল উল্লেখ করে তার নামে কোনো ঋণ নেই বলেও হলফনামায় তথ্য দেন।

x