আনন্দ মোহন রক্ষিত এর কবিতা

শুক্রবার , ১৫ মার্চ, ২০১৯ at ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
35

একই আকাশ আমাদের
“শ্যামলে শ্যামল তুমি, নীলিমায় নীল…”।
রবীন্দ্রনাথ
একই আকাশ আমাদের, অভিন্ন বাতাসে শ্বাস ও প্রশ্বাস
একই নদীর ভিন্ন নামে করি পান তৃষ্ণা মিটাই জলে
একই মৃত্তিকায় বীজ বোনে ফলাই ফসল
তবু যেন আমাদের দূরত্ব বহুদূর।

ঊনিশ শ সাতচলিস্নশ আমাদের বিভাজনের
সীমানা দিয়েছে এঁকে আল্‌তা রঙ সীমারেখা দিয়ে
আমরা কি তবে আলাদা হয়েছি মনে ও প্রাণে?

আমাদের চিনত্মার সূত্র অভিন্ন মাত্রায় বোনা সুতা
দিগনেত্ম আছ্‌ড়ে পড়ে বৈকালিক কৃষ্ণচূড়া ঘ্রাণ
হৃদয়ে দোল খায় একই মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি।

আমি যখন সমুদ্র তীরে দাঁড়াই, চড়্গু মুদি
পতেঙ্গা সমুদ্র তট কিংবা কক্সবাজার সৈকতে
শ্যামল, তোমার সে পুরী কিংবা দিঘার
কোন পার্থক্য বুঝতে পারি না। এক আঁজলা
জলের মধ্যে নিবিষ্ট চোখ যখন গেঁথে থাকে
মাতৃভূমির শ্যামল কানিত্ম অবয়ব আমাতে মিলে
মিশে একাকার হয়ে যায়।

তখন মনে হয় আমাদের মাতৃভাষাঃ অ, আ, ক, খ
স্বর ও ব্যাঞ্জনবর্ণে কোন পার্থক্য থাকে না,
তোমার প্রসারিত হাত, চেতনার বিন্দু বিন্দু ঘাম
হৃদয়ের অলিন্দে এসে এক হয়ে যায়।

নবীন দিনের আলো

চৈত্রের শুষ্ক পাতায় ধূসর কান্নার শব্দ
বৃক্ষ থেকে ঝরে পড়া অসংখ্য শুষ্ক বনলতা
গ্রামানত্মরে ছড়িয়ে আছে শোক অভিমান
নীরবতা থরে থরে সাজিয়েছে মরু বাস্তাবতা।

অথচ অরণ্য সাজিয়েছে নতুন সম্ভার
মাঠে মাঠে নবীন ফসল কৃষকের মনে
জাগিয়েছে বাঁচবার নতুন তাগিদ-
এনেছে পুষ্প-গন্ধ সংগীত-সুর বেসুরো জীবনে।

কলকাকলিতে মুখর এসব শুভ্র-স্নাত গ্রাম
অবেলার অন্ধকারে কেন তবে নীরব নিথর
সরল জীবনে তাদের জোটে না একমুঠো ভাত
ফোটেনা করুণ হাসি নববধূর নবান্নের দিনে
সুবাতাস আনে না কোন নতুন সংবাদ;তাই
নবীন দিনের আলো আজ হোক তাহাদের পুষ্পসম্ভার।

বর্ষা বিরহ

পদাবলী ভিজে গেছে বিরহের তাপে, বৃষ্টির
ফোঁটায় ফোঁটায় অবিরত বৈষ্ণব কবিতা নামে
বর্ষা বিরহের অনল তাপে লজ্জানত হয় চৈত্রের খরা
চৌদ্দি মাত্রা ভেঙে আঠার মাত্রায় গেলে
ভিন্নতর স্বাদ পাওয়া যায়,
আরো যদি যেতে চাও বাইশ কি চব্বিশ, ছাব্বিশ
সোনালী ডানার কবি মৃদু হেসে
তপ্ত চায়ের পেয়ালায় চুমুক লাগাবে
সোমত্ত আষাঢ়ও তখন
থামাতে পারবে না তাঁকে
বনলতাবিরহী কবি সুরঞ্জনার
আকাশে ওড়াবে তাঁর বৃষ্টি পতাকা।
আকাশ মাতাল করে নামবে তখন
আষাঢ়ের অঝোর ধারা, এবার
শ্যাম প্রতিড়্গা রাধার হবে অবসান কদম্ব শাখায়,
বর্ষা বিরহ কাল ঘুচাবে অনল তাপ অবশেষে।

x