আনন্দে ভরে উঠুক শিক্ষাজীবন

ড. মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন

শনিবার , ২৯ জুন, ২০১৯ at ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ
68

শিক্ষা লাভের অধিকার মানুষের জন্মগত অধিকার। এই অধিকার প্রতিটি শিশুর ও নাগরিকের জন্য সমভাবে লাভ করার সুযোগ সৃষ্টি এবং এর ক্ষেত্রটা তৈরি করার দায়িত্ব সরকারের। শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভের যে অধিকার তা দিতে হবে। এই ধারণাকে সামনে রেখে পাশ্চাত্যের দেশসমূহে ঊনিশ শতকের শেষভাগে সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারের উদ্যোগ গ্রহণ করে। প্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে জাপান ঊনিশ শতকেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভের নানা উদ্যোগ হাতে নেয়। এবং তা কার্যকর করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক যে সার্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা এবং ১৯৫৯ সালে যে শিশু অধিকারের ঘোষণা গৃহীত হয় তাতে প্রতিটি শিশুরা শিক্ষা লাভের অধিকার এবং তা যথাযথ বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করা হয়। এই দুইটি ঘোষণাতেই প্রাথমিক শিক্ষাকে সার্বজনীন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
বুনিয়াদি শিক্ষা একটি দেশের উন্নতি, অগ্রগতির জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজন, শুধুমাত্র প্রতিটি শিশুর মানবিক গুণাবলিকে পরিশুদ্ধ করার ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তা নয়। প্রাথমিক শিক্ষা একজন শিশুকে শুধুমাত্র যোগ-বিয়োগ, ভাষাজ্ঞান নয় বরং শিশুর মানসিক বিকাশ বুদ্ধি বিচারের ক্ষমতা, মাঠে-ময়দানে, কল-কারখানায় দক্ষকর্মী বাহিনীতে পরিণত করার ক্ষেত্রেও প্রাথমিক শিক্ষা নানাভাবে সহযোগিতা এবং দক্ষতার জন্ম দেয়। আবার মানুষের উদ্যমশীলতা আনয়ন এবং মৌলিক চাহিদা-পুষ্টি, আশ্রয়, পোশাক, স্বাস্থ্যসেবা এইসব কিছু মেটাতেও প্রাথমিক শিক্ষা মানুষকে সহযোগিতা করে। যার কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক যে সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা হয় তাতে শিশুকে বাধ্যতামূলক এবং প্রতিটি নাগরিকের অধিকার হিসাবে ঘোষণা করা হয়। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৭২ সালে গৃহীত বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদে ঘোষণা করা হয়েছে- একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা যেখানে সমাজের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ রেখে সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের সুযোগ করবে সরকার। শিক্ষাটি হওয়ার কথা আনন্দ আর প্রকৃত হওয়ার কিন্তু তা হয়নি।
কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই কাজটি করা হয়নি সুন্দরভাবে। সার্বজনীন শিশুশিক্ষার কথা বলা হলেও একই দেশে বসবাসরত একই ভাষাভাষী, স্বাধীন দেশের নাগরিকরা আজ নানামুখী শিশুশিক্ষা গ্রহণ করে বড় হচ্ছে। এতে নানামুখী চিন্তার প্রসারের কারণে দেশে বৈষম্য তৈরী হচ্ছে। যা কোন ক্রমেই একটি দেশের জন্য শ্রেয় নয়। দেশে সার্বজনীন শিশুশিক্ষা বা প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারের জন্য মাঝে মাঝে দারুণ মায়াকান্না আমরা প্রত্যক্ষ করেছি বটে, তবে তা কতটুকু ফলপ্রসু এবং কার্যকরি হয়েছে তা বলার সময় এসে গেছে। স্বাধীন দেশের মানুষ দেশের মধ্যে যে পরাধীন আছে। স্বাধীনতার কথাই ছিল বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। এটা আদৌ কার্যকরী হয়েছে কিনা? এই প্রশ্নের উত্তর এখন আমাদের জানতে হবে। জানার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের যেমন আছে যেকোন সরকার তা জানতেও বাধ্য।
আমাদের এই অঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারের প্রথম সংগঠিত উদ্যোগ নেয়া হয় ১৯১৯ সালে বেঙ্গল প্রাইমারী এডুকেশন অ্যাক্ট প্রবর্তনের মাধ্যমে। এতে দেশের পৌর এলাকাগুলোতে (৬-১১) বছর বয়সের ছেলেমেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষার আয়োজনের জন্য শিক্ষাসেস এবং বিদ্যালয় পর্যায়ে পরিদর্শনের ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। তবে সেই সময় পৌর এলাকার পরিধি খুবই কম থাকায় এর প্রভাব সমাজে তেমন পড়েনি। এই ব্যবস্থা কার্যকর না হওয়ায় ১৯৩০ সালে প্রবর্তিত হয় বেঙ্গল প্রাইমারী এডুকেশন অ্যাক্ট। এই আইনের মাধ্যমে সারা দেশের গ্রামাঞ্চলের ৬-১১ বছরের ছেলেমেয়েদের জন্য শিক্ষার দ্বার উন্মোচন প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির হিসাব করা হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ১০ বছরের মধ্যে সকল স্তরে প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের উদ্যোগ ও সংকল্প গ্রহণ করা হয়। বাধ্যতামূলক অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয় যা উদ্বোধন করা হয় ১৯৫১ সালের ১৬ আগষ্ট। দেশে তখন ৪০৯টি থানা এবং প্রতিটি থানায় ১০টি করে ইউনিয়ন ছিল। সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় প্রতি বছর একটি থানায় একটি করে ইউনিয়ন প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আসবে।
এই ধারাবাহিকতায় ১৯৫১ সালে ৪০২টি এবং ১৯৫২ সালের জানুয়ারিতে আরো ৩৯০ টি ইউনিয়নকে এই প্রকল্পের আওতায় নেয়া হয়। দু’বছরের মধ্যে এইজন্য ৪টি প্রাথমিক শিক্ষক-প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এই সময়ে ‘কম্পালসারি প্রাইমারি এডুকেশন অ্যাক্ট’ ১৯৫১-এর মাধ্যমে অনুরূপভাবে সিলেট জেলার নির্বাচিত সার্কেল এ প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। দুর্ভাগ্য এই জাতির ২ বছর চলার পর এই প্রকল্পটিও পরিত্যক্ত হয়। এরপর ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট যে একুশ দফা দিয়ে ক্ষমতায় আসীন হয় তার একটি জনপ্রিয় ঘোষণা ছিল বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন। কিন্তু তারাও নানা কারণে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ চিহ্নিত হয়েছে অর্থনৈতিক। কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ প্রদানে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে প্রকল্পটি সর্বশেষ ব্যর্থ হয়ে যায়। যার পরিণতিতে শিক্ষার ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে পড়ি।
১৯৫৭ সালে যুক্তফ্রন্ট ‘দ্য ইস্ট বেঙ্গল প্রাইমারি এডুকেশন অ্যাক্ট-এর মাধ্যমে জেলা স্কুল বোর্ড তুলে দিয়ে প্রাইমারী স্কুলগুলোকে সরকারি তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসে। আর এই সময় স্কুলগুলো মডেল স্কুলে রূপান্তরিত হয়। এভাবে নানা সংস্কার, সুপারিশ ও আদেশ বলে প্রাইমারি শিক্ষাকে একদিকে বিসতৃত অন্যদিকে সংকুচিত করার যে ক্ষেত্র আবিষ্কার করা হয় তার ধারাবাহিকতা এখনও চলছে। কতদিনে এর সমাধান হবে এই মুহুর্তে সরকারের কোন কর্মকর্তা বা এর সাথে সংশ্লিষ্ট কেউ জানে না। অথচ বিষয়টির প্রতি নজর দেয়া একান্ত প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। পাহাড়তলী থানা শিক্ষা অফিসার রবিউল হোসেন-এর মতে, একজন শিক্ষার্থী আমাদের প্রাইমারী সিলেবাস শেষ করলে তার মধ্যে মানবিক চৈতন্যবোধ ও পারিপার্শ্বিক বিবেক জাগ্রত হতে পারে। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। সরকারের উচিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সকল সুযোগ শিক্ষা ক্ষেত্রে দেয়া। প্রাইমারী শিক্ষার সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা, তা যথাযথ বাস্তবায়ন ও সাধারণ মানুষের কাছে এটি আরো সহজ করার মাধ্যমে জাতিকে শিক্ষা ক্ষেত্রে দিক নির্দেশনা দেয়া যেতে পারে। পরিকল্পনা গ্রহণে বিড়ম্বনা, যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় তা বাস্তবায়নে যোগ্য, অভিজ্ঞ কর্মকর্তা, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণের অভাবের কারণে দেশ প্রাইমারী শিক্ষায় পিছিয়ে রয়েছে। জাতিকে শিক্ষিত এবং কাঙ্ক্ষি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষার বিকল্প শুধু শিক্ষা-এই বিষয়টি উপলব্ধি করে পরিকল্পনাকে কাটাছেঁড়ার হাত থেকে বাঁচানো যায়। শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কোন বিকল্প পথ নেই, অতীতেও ছিল না, আগামীতেও থাকবে না।
শিক্ষার্থী শ্রেণী কক্ষে পাঠকে উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে শিক্ষক থেকে যেমন আন্তরিকতা পূর্ণ ও যোগ্য পাঠদান আশা করে হতাশ হচ্ছে। তেমনি শিক্ষা উপকরনের ব্যবহার আমাদের শিক্ষা পদ্ধতিতে নাই বললে চলে। অনেক নামী দামী প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে পাঠ্য তালিকার একটি বই পর্যন্ত পাওয়া দুস্কর। নাই নির্দিষ্ট একটি জ্যামিতি বক্স বা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট একটি উপকরণ। অথচ শিক্ষার্থীর পঠিত বা ক্লাসে যে বিষয়ের উপর পাঠ দেয়া হবে সেই বিষয়ের উপর প্রয়োজনীয় পাঠ উপকরণ ছাড়া শিক্ষা দিলে তা যথার্থ শিক্ষা হবে না। শিক্ষার্থী কিভাবে শিখে এই প্রসঙ্গে শিক্ষাবিদদের মত হল, ‘ক). শিক্ষার্থী দেখে শিখে ৮৩%, খ). শিক্ষার্থী শুনে শিখে ১১%, গ). শিক্ষার্থী গন্ধ নিয়ে শিখে ৩% ঘ). শিক্ষার্থী স্বাদ নিয়ে শিখে ২.৫% ঙ). স্পর্শ করে শিখে ০.৫%।’
এখন প্রশ্ন হল আমাদের দেশে এই পর্যায় গুলোর কোন বিষয় আমরা উপলব্দি করে শিক্ষাথী কে শিক্ষা দিচ্ছি? আমার ব্যক্তিগত ধারনা হল আমরা শিক্ষার্থীকে ‘শুনে শিক্ষাদান টাই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।’ তাহলে আমাদের শিক্ষার্থী শিখছে মাত্র ১১%। বাকী ৮৯% আমাদের দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী শিখতে পারছে না। শিক্ষার্থী যে পরিমান শিখছে আমরা জাতি হিসাবে ঠিক সেই পরিমান সার্ভিস পাচ্ছি তবে হতাশ হওয়ার কি কোন কিছু আছে কি? বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মীর আবু ছালেহ শামসুদ্দীন তার এক লেখায় লিখেছেন, ‘একজন শিক্ষককে শ্রেণী কক্ষে পড়াতে হলে প্রথমে তাঁকে পড়তে হবে, জানতে হবে ও শিখতে হবে।’ কিন্তু দু.খের বিষয় আমাদের কয়জন শিক্ষক তা উপলব্দি করছেন? কয়জন শিক্ষক আছেন যারা শিক্ষা দেয়ার জন্য প্রতিদিন বাসায় অন্তত ২ ঘন্টা পড়ালেখা করেন? কয়জন শিক্ষক আছেন পাঠ দেয়ার জন্য, শিক্ষার্থীকে নতুন নতুন তথ্য জানানোর জন্য নিজে জানেন? এইসব প্রশ্নের উত্তর আমার কাছেও নাই।
আমাদের পাঠ্যবই। আমাদের শিশু শ্রেণির পাঠ্যবই গুলো দেখলে আপনি বুঝবেন কতটা যুক্তির জায়গায় এই পাঠ্যবই গুলো প্রণিত। যুক্তির খাতিরে বলব আগের চেয়ে অনেক আধুনিকায় হয়েছে। আমিও একমত। তবে আমাদেও মত অগ্রসরমায়ন দেশের শিশুদেও জন্য এই পাঠ্যবই গুলো কতটা? এই উত্তওে হয়ত অনেকে বিরোধীতার জায়গা থেকে বলবেন একদম ঠিক না। আমি বলব অকেটা ঠিক, তবে আরো সমৃদ্ধ হওয়ার দরকার সময়ের সাথে যুক্ত হয়ে প্রবর্তন করা দরকার। পাঠ্য বইয়ে আনন্দ না থাকলে কোনভাবে শ্রেণি কার্যক্রমে আনন্দ দেয়া যাবে না। অভিভাবক, প্রতিষ্ঠঅন চাইবে সিলেবাস শেষ হউক। বাড়তি আনন্দ দিতে হলে সিলেবাস শেষ করার প্রবণতা থেকে ছিটকে পড়বে।
আমাদেও পাঠ্যবই, শিক্ষা ও শিক্ষানীতির এই চিত্র সুদুর কাল থেকে চলে আসছে কেউ এটাকে রোধ করতে পারছে না। যারফলে বিশ্বকবি রবি ঠাকুর হতাশ চিত্রে মন্তব্য করেছিলেন এভাবে,
‘একজন দরিদ্র সমস্ত শীতকালে অল্প ভিক্ষা সঞ্চয় করিয়া যখন শীতবস্ত্র কিনিতে সক্ষম হইত তখন গ্রীস্ম আসিয়া পড়িত, আবার সমস্ত গ্রীস্মকাল চেষ্টা করিয়া যখন লঘুবস্ত্র লাভ করিত তখন অগ্রহায়ন মাসের মাঝামাঝি, দেবতা যখন তাহার দৈন্য দেখিয়া দয়ার্দ্র হইয়া বর দিতে চাহিলেন তখন সে কহিল, আমি আর কিছু চাহি না, আমার এই হেরফের ঘুচাইয়া দাও।’
আমাদের অবস্থাটাও এখন এমনই। এই রকম হেরফের অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য প্রথম প্রয়োজন-পাঠ্য বইয়ের মধ্যে আন্দ দেয়া যা শিক্ষক যথা যথভাবে শ্রেণি কার্যক্রমে শিক্ষার্থীকে বুঝাতে পারবেন। শিক্ষাকে এমনভাবে জীবন ও বাস্তবমুখী করা দরকার যেখানে শিক্ষার্থী নিজেই তার আবিস্কারক হবে, উদ্ভাবন করবেন এবং নিজের মধ্যে ধারন করবেন। যে পাঠ্যবই ও কারিকুলাম সাজানো হবে সেই একই কারিকুলামে দেশের সকল শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দিয়ে যথাযথভাবে শ্রেণি কার্যক্রমে পাঠাতে হবে। একই দেশের মধ্যে একাধিক চালুকৃত শিক্ষাকে একমুখী এবং একই পাঠ্যবই ও সূচির আওতায় আনতে হবে। তবেই আমাদের শিক্ষার্থীরা যেমন নানামুখী অবস্থার মধ্যে পড়বে না, তেমনি দেশীয় কৃষ্ট-কালচার ও সভ্যতা নিয়ে আনন্দের সাথে তারা বেড়ে উঠতে পারবে। শুধুমাত্র শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষককে আনন্দমুখী করলে একটি জাতির সন্তান আনন্দ নিয়ে বেড়ে উঠতে পারবে না। এই কাজটি করার ক্ষেত্রে অবশ্যই দরকার নানামুখী ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ। আমি চিরকাল সে সুন্দর উদ্যোগের দিকেই চেয়ে আছি।

x