আনন্দচিত্তে ঘরে ফেরা সাকিবের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ম

শুক্রবার , ১০ আগস্ট, ২০১৮ at ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
28

 

 

তার ফেরার কথা ছিল না। নিউইয়র্কে কাটানোর কথা ছিল কয়টা দিন। কিন্তু তিনিও ফিরেছেন দলের সাথে। বলা হচ্ছিল সাকিব আল হাসানের কথা। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আঙ্গুলে অপারেশন করাতে চান সে জন্যই কিনা দলের সাথে চলে এলেন দেশে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যাওয়ার আগেও একবার ভারত থেকে দেশে ফিরেছিলেন সাকিবরা। কিন্তু সে ফেরাটা ছিল বেশ হতাশার। গতকাল বাঁহাতের কনিষ্ঠ আঙুলে ব্যথা নিয়েও দেশে ফিরে সাকিব যেন অন্য রকম চনমনে এক মানুষ। আর এমন চনমনে ভাব অন্য কোনো কারণে নয়। সেটা কেবল পারফরম্যান্সের ঝলকে। কারণটিও স্পষ্ট। দেশের বাইরে টাইগারদের এমন সাফল্য কদাচিৎই দেখা যায়। যেখানে সফল ছিলেন তিনিও।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট সিরিজটি যাচ্ছেতাই রকমের গেলেও বাকি দুটি ফরম্যাটে মাশরাফি, সাকিবরা ছিলেন সম্পূর্ণই ছন্দে। ৯ বছর পর বিদেশের মাটিতে ওয়ানডে ও ৬ বছর পরে টিটোয়েন্টি সিরিজটিও দুর্দান্ত দাপটের সাথে নিজেদের করে নিল। আর এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে যে ক্রিকেটারের ভূমিকা অনস্বীকার্য তিনি সাকিব আল হাসান। ফলে তার থলিতে দুই ধরনের সাফল্য। ব্যক্তিগত ও দলীয়। টিটোয়েন্টি সিরিজের সেরা ক্রিকেটার সাকিব। ব্যাটে বলে দারুন পারফরমার বিশ্ব সেরা এই অল রাউন্ডার।

কাজেই আনন্দিত ও তুষ্ট এই টাইগার অধিনায়ক। সব মিলিয়ে বলতে গেলে এই সফরটা সফল বলতে হবে। কারন তিনটা ট্রফির মধ্যে দুইটা জিতেছি আমরা । দেশের বাইরে তো এরকম রেজাল্ট আমরা করি না সাধারণত। তাই এবারের সিরিজ নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট। সাকিব বলেন নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে অবশ্যই খুশি। হয়তো আরও অবদান রাখতে পারলে আরও ভাল হতো। হয়তো টেস্ট সিরিজে আমরা যদি আরো একটু ভাল করতে পারতাম তাহলে সবকিছু আরো আনন্দময় হতো। ওভারঅল যে ধরনের পারফরম্যান্স হয়েছে তা নিয়ে খুবই আনন্দিত।

সফরে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে ৯৭ রান করা সাকিব বল হাতে ছিলেন উইকেটশূন্য। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি আলো ছড়িয়েছেন বল হাতেও। ৫৬ রানের পাশে যোগ করেছিলেন ২টি উইকেট। তবে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে এসে কিছুটা নিস্প্রভ তিনি। ব্যাট হাতে ৩৭ রানের পাশে ছিলো না কোনো উইকেট। তারপরও দলকে সিরিজ জেতানোর পথে বেশ ভাল ভুমিকা রাখেন সাকিব। বিশেষ করে প্রথম এবং দ্বিতীয় ম্যাচে তামিমের সাথে দুটি পার্টনারশিপ টাইগারদের বড় স্কোর গড়ার পথে ভুমিকা রেখেছে। এমন পারফর্ম করতে পারলে না জেতার কোন কারন নেই। সে সাথে দলের সতীর্থদের প্রশংসা করতেও ভুললেননা সাকিব। দলের সবাই উজাড় করে খেলেছে বলেই আমরা দিন শেষে বিজয়ী।

টিটোয়েন্টিতে ম্যান অব দ্য সিরিজ হওয়া সাকিব প্রথম ম্যাচে ছিলেন উইকেটশূন্য । ব্যাট হাতেও সফল হতে পারেনি। মাত্র ১৯ রানে ফিরে যান। তবে দ্বিতীয় টিটোয়েন্টি ঠিকই ফিরেছেন স্বরূপে। ব্যাট হাতে ৬০ রান করার পাশাপাশি ২ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। আর সে ম্যাচে জয়ের পর সিরিজ সজয়েল সম্ভাবনা জেগে উঠে বাংলাদেশের। সিরিজের শেষ ম্যাচটি জিতে এরপরতো ইতিহাস রচনা করল টাইগাররা। তৃতীয় এবং শেষটিতের উজ্জল সাকিব। ব্যাট হাতে করেছেন ২৪ রান । আর বল হাতে শিকার করেছেন মাত্র ১ ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানকে। সব মিলিয়ে দারুন এক সিরিজ পার করার পর জিতেছেন সিরিজ সেমরার পুরষ্কারও। এমন দারুণ সফল একটি সিরিজ শেষ করে দেশে ফিরে আসা সাকিব স্বভাবতই উল্লসিত। তবে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান সাকিব। তিনি বলেন আমরা বেশ ভাল একটি সফর শেষ করেছি। দুটি সিরিজ জিতেছি। এখন আমাদের সামনে অনেক সিরিজ রয়েছে। সে গুলোতে ভাল করতে হবে এখন আমাদের। এখন সেদিকে চোখ রাখার আহবান জানালেন সাকিব।

x