আধুনিক স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ ‘স্মৃতি ৭১’

কুমিরায় পাক হানাদারদের প্রতিরোধ স্থানে

লিটন কুমার চৌধুরী ।। সীতাকুণ্ড

সোমবার , ২১ মে, ২০১৮ at ৬:৩৩ পূর্বাহ্ণ
64

সীতাকুণ্ডের কুমিরায় মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে চট্টগ্রামে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ করেছিলেন। নতুন প্রজন্মকে সে কথা জানাতে এবং সেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে কুমিরায় নির্মিত হয়েছে ‘স্মৃতি ৭১’ নামে একটি স্মৃতিস্তম্ভ। সেই স্মৃতিসৌধ ভাস্কর্য ও ম্যুরাল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ম্যুরাল চিত্রে তুলে ধরা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের খন্ড খন্ড ইতিহাস। জেলা পরিষদের অধীনে ‘স্মৃতি ৭১’ নামে এ স্মৃতিস্তম্ভের গত ২১ এপ্রিল গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে ২৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে এই স্থাপনা। স্মৃতিসৌধ কমপ্লেক্সের একেবারে মাঝে রয়েছে একটি বেদি। সেখানে স্থাপন করা হয়েছে অস্ত্র উচিয়ে ধরা হাতের ভাস্কর্য। এছাড়া স্থান পেয়েছে বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, ছয়ষট্টির ছয়দফা, উনসত্তরের গণঅভুত্থান, একাত্তর সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭মার্চের ভাষণ, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এবং পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ।

জেলা পরিষদের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। কুমিরায় স্মৃতিস্তম্ভ ‘স্মৃতি ৭১’সহ জেলা পরিষদের উদ্যোগে ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ইতিমধ্যে ত্রিশটিরও বেশি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও আরও কয়েকটি স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজ চলছে। ‘স্মৃতি ৭১’ নামে স্মৃতিস্তম্ভটি নকশা করেছেন চবি চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক সাইফুল কবির। আধুনিক স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত এ স্মৃতিস্তম্ভে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের নানা ঘটনাপুঞ্জির সাথে মিল রেখে নির্মাণ করা হয়েছে।’

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আর.আর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. জসিমউদ্দিন জানান, গত ৪ ডিসেম্বর স্মৃতি ৭১ ভাস্কর্য ও ম্যুরাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। নকশা অনুযায়ী সব ধরনের কাজই করা হয়েছে।

জেলা পরিষদের সচিব সাব্বির ইকবাল বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সীতাকুণ্ডের কুমিরায় মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করেছিলো। এই প্রতিরোধের কারণে ছয়দিন চট্টগ্রাম অঞ্চল স্বাধীন ছিল। চট্টগ্রামে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধসহ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব অনুধাবন করে স্মৃতি ৭১ নামে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডও কুমিরায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য জেলা পরিষদকে অনুরোধ করেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় পরিষদের চেয়ারম্যান মহোদয় কুমিরায় স্মৃতি ৭১ নামে এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আলিম উল্ল্যাহ বলেন, ১৯৭১সালের ২৬ মার্চ সীতাকুণ্ডে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিশাল একটা বহর সীতাকুণ্ডের দিকে আসছে বলে খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে বাড়বকুণ্ডে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকজনতা গাছ কেটে মহাসড়ক অবরোধ করে। বিকেলের দিকে পাকিস্তানী বাহিনী বাড়বকুণ্ডে পৌঁছলে সাহসী যুবক বদিউল আলম বাদশা তার হাতের লাঠি দিয়ে এক পাকিস্তানী সেনার অস্ত্র ছিনিয়ে নেন। পরে পাকিস্তানি সেনারা বেয়নেট দিয়ে খুঁচিযে তাকে নিমর্মভাবে হত্যা করে। এ হত্যার খবর কুমিরায় পৌঁছলে ক্ষিপ্ত হয়ে জনতা গাছ কেটে মহাসড়ক অবরোধ সৃষ্টি করে। সেখানে পাকসেনাদের সাথে যুদ্ধ হয়। এই স্থানে একটি স্মৃতিসোধ নির্মাণের জেলা পরিষদের উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি।

x