আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে ঈদে উৎসবে হাতের তৈরি সেমাই

অপু ইব্রাহিম, সন্দ্বীপ

সোমবার , ৪ জুন, ২০১৮ at ৪:৩০ পূর্বাহ্ণ
68

গ্রাম বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য ঈদে হাতের তৈরি সেমাই। কয়েক বছর আগেও ঈদ আসলেই বাড়ির মেয়েরা ব্যস্ত হয়ে পড়তেন চালগমের আটায় সেমাই তৈরিতে। হাতে তৈরি এ সেমাইয়ের কদর ছিলো বেশ। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার এটি। এমন সেমাই ছাড়া ঈদের উৎসব যেনো মানাতো না। কিন্তু এখন এমন চিত্র দেখা মেলা ভার।

একযুগ আগেও গ্রামের ঘরে ঘরে চালের গুড়া ও গমের আটা দিয়ে হাতে তৈরি সেমাইয়ের দেখা প্রায় বাড়িতেই মিলতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে এ চিত্র দেখা যায় না বললেই চলে। বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোর সেমাইয়ের কারণে হাত মেশিনে তৈরি সেমাই হারিয়ে যেতে বসেছে। হাতে তৈরি সুস্বাদু এ সেমাই নতুন প্রজন্ম তো নয়, প্রবীণরাও ভুলে যেতে বসেছে।

পিতলের তৈরি আঁকাবাঁকা সেমাই তৈরির মেশিন টেবিল অথবা চেয়ারের সঙ্গে নাটবোল্টু দিয়ে আটকে একসঙ্গে ১০ থেকে ১২ জন গৃহিণী ঘানির মতো ঘুরিয়ে চাল বা গমের আটার সেমাই তৈরি করা হয়।

এ সেমাই তৈরি করা হয় সদ্য করা চালের গুঁড়া ফুটন্ত গরম পানিতে দিয়ে সঙ্গে লবণ দিয়ে নেড়ে নেড়ে কাই তৈরি করে নিতে হয়। কাই অনেক্ষণ ধরে মাখিয়ে নরম করে নিয়ে এবার হাত দিয়ে ইচ্ছা মতো আকার দিয়ে সেমাই বানানো হয়। বানানো সেমাই দুই তিন দিন রোদে শুকিয়ে নেয়ার পর নারিকেল দিয়ে রান্না করা হয়। শুধু নিজেরা রান্নায় করতে না, হাতে তৈরি সেমাই মেয়ের বাড়িতে না পাঠালে ‘জামাই সাজন’ তৈরিতে খুঁত থেকে যায়। এমন রীতি প্রচলিত সন্দ্বীপের অনেক জায়গায় আছে।

যুগের সাথে সাথে হারিয়ে যাওয়া হাতের মেশিনে সেমাই এখনও সন্দ্বীপের গৃহবধূরা এ সেমাই তৈরি করে থাকে। তবে, আগে ব্যাপকভাবে তৈরি হলেও এখন খুব সীমিতভাবে তৈরি হয়। গত শুক্রবার সকালে হাতে তৈরি চাউলের সেমাই বানাতে দেখা মিলল সন্দ্বীপের মাঈটভাঙ্গা গ্রামের করিমউল্যাহর গো বাড়িতে । কয়েকজন গৃহবধূ পিতলের তৈরি আঁকাবাঁকা সেমাই তৈরির মেশিন চেয়ারের সঙ্গে চেয়ারের সঙ্গে নাটবোল্ট দিয়ে আটকে ঘানির মতো ঘুরিয়ে চাল বা গমের আটার সেমাই তৈরি করছে।

জোসনা বেগম নামের এক গৃহবধূ জানান, ঈদের উৎসব হাতে তৈরি সেমাই ছাড়া অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই তারা বাজারের সেমাইয়ের পাশাপাশি নিজেদের তৈরি সেমাই দিয়ে ঈদ উপভোগ করেন।

তিনি আরো বলেন, হাতের তৈরি সেমাই ভেজালমুক্ত। গুড়, দুধ ও নারিকেল দিয়ে হাতে তৈরি সেমাই খেতেও মজা। এছাড়া তারা মেয়ের জামাই বাড়ি সেমাই পাঠান।

সেমাই বানাতে সহযোগীতা করছিলেন জোসনা বেগমের ছেলে কলেজ পড়ুয়া ছাত্র সাজিল ইমন। ইমন বলেন, সেমাই তৈরি করতে, বিশেষ করে সেমাইর কল ঘুরানো আনন্দ অন্য রকম। বিলাসিতার কারনে অনেকে সেমাই বানাতে অনিহা।

একই উপজেলার সারিকাইত গ্রামের সবুজা বেগম নামের গৃহবধু বলেন,আগে ঘরে ঘরে এ হাতের তৈরি সেমাই বানানো হলেও বর্তমান যুগে বাজারে হরেক রকম কোম্পানীর সেমাই আসাই মানুষ সে গুলোর উপর ঝুঁকেছে। তা ছাড়া এ সেমাই তৈরির মেশিনও বাজারে পাওয়া যায় না।

x