আদালতে স্বামীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

মিতু হত্যাকাণ্ড

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১০ অক্টোবর, ২০১৯ at ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ
73

যৌতুকের দাবিতে নব বিবাহিত স্ত্রী মিতুর হত্যাকারী স্বামী সোলেমান হোসেন লিটন গত মঙ্গলবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সফিউদ্দিনের আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম ভুঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে আজাদীকে বলেন, আসামী স্বীকার করেছেন পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছেন তিনি। লিটনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওসি পাঁচলাইশ জানান, প্রায় ৩ মাস আগে পারিবারিকভাবে শারমিন আক্তার মিতুর সাথে লিটনের বিয়ে হয়। গত তিন মাসে নববিবাহিত দম্পতির চলছিল টানাপোড়েনের সংসার। লিটন ছোটখাটো বিষয় নিয়ে প্রায় সময় শারীরিকভাবে শারমিনকে নির্যাতন করত। ঘর ভাড়া পরিশোধসহ সাংসারিক ছোটখাটো বিষয় নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগে থাকত। রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে লিটন হঠাৎ বাসায় এসে শারমিনকে ঘরে না পেয়ে ফোন দেয়। শারমিন তখন ছাদে ছিলেন। শারমিন ছাদ থেকে বাসায় আসার সাথে সাথেই দুজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। লিটন প্রথমে শারমিনকে চড় -থাপ্পড় দেয়। একপর্যায়ে লিটন শারমিনের পরিহিত ওড়না তার গলায় চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে। পরে খুনের ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালাতে লাশটি এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে নেয়া হয়। গত সোমবার সন্ধ্যায় পাঁচলাইশ থানাধীন নাজিরপাড়া এলাকায় ঝগড়ার এক পর্যায়ে মিতুকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশ সোলেমান হোসেন লিটন নামে নিহতের স্বামীকে গ্রেপ্তার করে।
পরিবারের সদস্যরা আজাদীকে জানান, রাউজান উপজেলার উকিলপাড়ার বাসিন্দা মৃত আকতার হোসেনের মেয়ে শারমিন আফরোজা মিতু কেইপিজেড এলাকায় একটি গার্মেন্টসে ২৫-৩০ হাজার টাকা বেতনের চাকরি করতেন। তার স্বামী লিটন পেশায় রাজমিস্ত্রি। তবে মিতু চান্দগাঁও থানাধীন হাদু মাঝিপাড়ায় বাদশা মেম্বার বাড়ির নানার বাসায় থেকে বড় হয়েছেন। ওখান থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। গত ২৫ জুলাই লিটনের সঙ্গে মিতুর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামীর সঙ্গে পাঁচলাইশের নাজিরপাড়া মানিক ভিলায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

x