আদর্শবান ব্যক্তির আদর্শের কাছে মৃত্যু তুচ্ছ

মঙ্গলবার , ৮ অক্টোবর, ২০১৯ at ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ
19

ব্যক্তিগত, দলীয় এবং গোষ্ঠীগত আদর্শ বা দর্শন থাকা স্বাভাবিক। কারোই যেমন তার আদর্শ বা দর্শন থেকে সরে আসা উচিত নয় এবং সে অনুযায়ী চলা উচিত। তেমনি অন্যের আদর্শ ও দর্শনকে শ্রদ্ধা প্রদর্শনও তার আদর্শিক দায়িত্ব। সক্রেটিসের যখন বিচার চলছিল, তখন তিনি কোর্টে বলেছিলেন, যদি কেউ তার আদর্শ থেকে সরে আসে, তবে তা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে মৃত্যুভয়ে একজন সৈনিকের পালিয়ে আসার মতো। এটা কাপুরুষতা ছাড়া কিছুই নয়। অর্থাৎ আদর্শবান ব্যক্তির আদর্শের কাছে মৃত্যু তুচ্ছ। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর আদর্শ তাদের দলের গঠনতন্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বাস্তবে তার প্রয়োগ নেই বললেই চলে। তাদের আদর্শ যে কোনভাবে ক্ষমতায় থাকা ও যাওয়া। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষককে প্রায়ই বলতে শোনা যায়, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো যে আদর্শ নিয়ে যাত্রা শরু করেছিল তা থেকে তাদের বিচ্যুতি ঘটেছে। এই বিচ্যুতির কারণেই একে অপরের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পরিবর্তে প্রতিহিংসার রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। দেশের মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা যেমন চলমান রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির প্রতিবীতশ্রদ্ধ তেমনি রাজনীতিহীন দেশও চায় না। তারা চায় হিংসা-প্রতিহিংসা এবং হানাহানির পরিবর্তে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং আস্থার রাজনীতি। রাজনৈতিক দলগুলো যদি মনে করে জনগণ তাদের সাথে আছে, তবে জনগণের এ পাল্‌্‌স তাদের বুঝতে হবে। জনগণের দোহাই দিয়ে তাদের ক্ষমতায় থাকা ও যাওয়ার কথা, জনগণ এখন আর বিশ্বাস করে না। তাদের কথা জনগণের কাছে কৃত্রিম বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তৃতা ও আস্থাহীন রাজনৈতিক কথাবার্তায় পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে এই বাগাড়ম্বরপূর্ণ ও অসার কথাবার্তা থেকে বেরিয়ে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য ও আস্থাপূর্ণ কথা বলতে হবে। শুধু বলার জন্য বলা নয়, তাদের কথাও কাজে মিল থাকতে হবে। জনসাধারণকে আশ্বস্ত করতে হবে। তাদের রাজনীতির লক্ষ্য নিজেদের আখের গোছানো নয়, দেশ ও জনসাধারণের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য। আমরা মনে করি আদর্শকে আদর্শ দিয়ে এবং যুক্তিকে যুক্তি দিয়ে মোকাবেলা করার রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু করা অপরিহার্য। আদর্শিক দ্বন্দ্বের নামে একে অপরকে দমনপীড়ন প্রবণতা কাম্য নয়। যে যত কথাই বলুক, বাস্তবতা হচ্ছে ঘুরে ফিরে বড় দুই দলের উপরই জনগণ কর্তৃক দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পিত হয়। এই দুই দলের মধ্যেই আপ অ্যান্ড ডাউন হয়। উভয় দলকে এ সত্যতা মানতে হবে এবং রাজনীতিতে পরাজয়ের মানসিকতা নিয়ে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে উপলব্ধি করে সচেতন থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে কেউ কাউকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য, অবজ্ঞা বা দমন-পীড়ন করে উড়িয়ে দেয়ার মনোভাব পোষণ করা উচিত নয়।
– এম.এ গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x