(আত্মোপলব্ধি)

ইসমাইল চৌধুরী

রবিবার , ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ
158

চরিত্র কেমন? মানুষটা চরিত্রবান অথবা, চরিত্রহীন। এই যে, একটা মানুষকে, মানুষটির আচার-আচরণ-স্বভাব বিচার করে তাকে মৌখিক কিংবা কাগুজে অথবা ঐকান্তিকতায় ‘চারিত্রিক সনদপত্র’ দিচ্ছি তার মাপকাঠি কি? কখনও ভেবেছেন? আপনার কী মনে হয়? সফেদ-বিচারে আমি/আপনি প্রায় সবাই কোন ব্যক্তির চরিত্র মাপামাপি করছি তার যৌনজীবন বিবেচনায় নিয়ে! যৌনতা অবশ্য অবশ্যই অন্যতম মাপকাঠি। তবে, তা কখনও প্রধান কিংবা একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না। পড়াশোনায় যদ্দুর জেনেছি তাতে ‘মিথ্যাচার’ বা ‘মিথ্যাবাদিতা’ চরিত্র মাপার প্রথম ও প্রধান স্কেল। যে যতটুকু মিথ্যাবাদী সে ঠিক ততটুকুই চরিত্রহীন। অন্যভাবে বললে বলতে হয়, যে যতটুকুন সত্যবাদী সে ততটুকুন চরিত্রবান। কেননা, ‘মিথ্যা হলো সকল পাপের মা’! একবার এক পাপিষ্ঠ মহানবীর (সা.) দরবারে উপস্থিত হয়ে আরজ করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এমন কোনো অপরাধ নেই, যা আমি করি না। আমি কীভাবে এ চরম পাপাসক্তি থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি? রাসূলুল্লাহ (সা.) লোকটির কথা শুনে বুঝলেন, সত্যি সত্যি লোকটি আলোর পথে আসার উপায় খুঁজছে। তিনি আরও ভাবলেন, লোকটির মধ্যে যত রকম অন্যায় কাজ রয়েছে, যদি ওইগুলোকে বর্জন করতে বলি, তাহলে তার পক্ষে একসঙ্গে বর্জন করা সম্ভব হবে না। তাই রাসূলুল্লাহ বললেন, তুমি আজ থেকে মিথ্যা কথা পরিহার কর। দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে। লোকটি রাসূলুল্লাহর (সা.) এই সংক্ষিপ্ত নিষেধবাক্যে খুশি হয়ে এবং বিষয়টি সহজসাধ্য মনে করে সঙ্গে সঙ্গে আর মিথ্যা না বলার প্রতিজ্ঞা করল। এরপর সে নিজের বাড়ি যাওয়ার পর যখন নামাজের সময় হলো, তখন তার মনে চিন্তার উদয় হলো, আগামীকাল যদি আমি আল্লাহর নবী মুহাম্মদের (সা.) কাছে যাই আর তিনি জিজ্ঞেস করে বসেন, তুমি কি কাল নামাজ পড়েছিল তখন আমি কী জবাব দেব? লোকটি জবাবদিহিতার ভয়ে সময়মতো নামাজ আদায় করল। লোকটির আরেকটি বদভ্যাস ছিল; রাতের একটি নির্দিষ্ট সময়ে মদপান করা। রাতে তার মদ্যপানের সময় এলে মনে পড়ে গেল রাসূলুল্লাহর (সা.) সঙ্গে কৃত ওয়াদার কথা। এসব ভেবে মদের গ্লাস ছুঁড়ে ফেলে দিল। মিথ্যা বলার ভয়ে সে আর কোনো পাপই করতে পারল না। রাসূলুল্লাহ (সা.) জানতেন, মিথ্যা বলা এমনই মারাত্মক পাপ, তা ছাড়তে পারলে অন্য সব পাপ থেকে দূরে থাকা যায়। মিথ্যাই সব ধরনের অপরাধে উৎসাহ-প্রশ্রয় দিয়ে থাকে। মিথ্যা বলা মুনাফিকের লক্ষণ। আল্লাহতায়ালা বলেন, মিথ্যা তো তারাই বানায় যারা আল্লাহর নিদর্শনগুলোর ওপর ঈমান রাখে না। বস্তুত তারাই মিথ্যাবাদী। (সূরা নাহাল :১০৫)। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট, সে যা শোনে তাই বলে বেড়ায়। (মুসলিম) তিনি আরও বলেছেন, ধ্বংস তার জন্য যে লোক হাসানোর জন্য কথা বলে এবং এতে সে মিথ্যার আশ্রয় নেয়। ধ্বংস তার জন্য, ধ্বংস তার জন্য। (তিরমিজি, আবু দাউদ)। মিথ্যাচারের পর পরই চরিত্র মাপার দাঁড়িপাল্লা হলো – আমানতদারিতা, ওয়াদাপালন। আসুন, আগে নিজেরা নিজেদের চরিত্র মাপি- কে কতটুকু চরিত্রবান, কতটুকুন-ইবা চরিত্রহীন। তারপর না হয় রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিবিদ, আমলা, অধ্যাপক, আইনপ্রয়োগকারী সহ যাঁরা যাঁরা আমাদের ‘নাচিয়ে বেড়ান’ তাঁদেরটাও মেপে দেখবো।

x