আত্মসমর্পণের পর কারাগারে আ.লীগ নেতা হাজী ইকবাল

যুবলীগ কর্মী মহিউদ্দিন হত্যা

আদালত প্রতিবেদক

মঙ্গলবার , ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৫:৫৩ পূর্বাহ্ণ
354

দীর্ঘ দিন আত্মগোপনে থাকার পর যুবলীগ কর্মী মহিউদ্দিন খুনের মামলার প্রধান আসামি আওয়ামী লীগ নেতা হাজী ইকবাল আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। এরপর বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্ত্তী বলেন, মহিউদ্দিন খুনের মামলায় গত ২২ জুলাই হাজী ইকবাল, তার ভাই, ছেলে ও মেয়ে জামাইসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় বন্দর থানা পুলিশ। আদালত এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। তাদের মধ্যে হাজী ইকবাল সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

নিহত যুবলীগ কর্মী মহিউদ্দিন হাজী ইকবালের সঙ্গে কাজ করতেন। গত ২৬ মার্চ হালিশহর মেহের আফজল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সভা চলার সময় হাজী ইকবালের নেতৃত্বে তার ছেলে, ভাইসহ আরও কয়েকজন মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মহিউদ্দিনের ওপর হামলা করে। তাকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলে মারা যান মহিউদ্দিন।

এ ঘটনায় নিহত মহিউদ্দিনের মা নূর নেছার বেগম বাদি হয়ে হাজী ইকবাল ও তার ভাই মুরাদসহ ১৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

এদের মধ্যে আসামি হারুনুর রশিদ, বখতেয়ার আলম প্রিন্স ও সাগর গ্রেফতারের পর গত ৫ এপ্রিল মহানগর হাকিম আলম ইমরান খানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা বলেন, হাজী ইকবালকে নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া, এলাকার কর্তৃত্ব নিয়ে বিরোধ এবং হাজী ইকবালের বিরোধিতা করায় মহিউদ্দিনকে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ৮ জন গ্রেফতার হয়েছেন।

জানা যায়, হাজী ইকবাল এক সময় চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। দলের শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য আট বছর আগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তবে তিনি আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবেই নিজের পরিচয় দিতেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে নিজের শরীর থেকে কথিত রক্ত ঝড়ানোর চেষ্টায় জিঞ্জির চাকু দিয়ে আঘাত করে শিয়াদের মতো ‘হায় মুজিব হায় মুজিব’ মাতম করেও আলোচনায় আসেন হাজী ইকবাল। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবজি, অর্থ আত্মসাতসহ আরো নানা অভিযোগ রয়েছে। গতকাল তার আত্মসমর্পনের খবরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, তলে তলে গোপন আঁতাত করে হাজী ইকবাল ‘আত্মসমর্পণের নাটক’ সাজিয়েছেন।

x