(আতঙ্কিত জনগণ)

গৌরী সর্ববিদ্যা

শনিবার , ১০ আগস্ট, ২০১৯ at ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ
58

: ঢাকায় এডিস মশার প্রকোপ খুব বেড়েছে যার কারণে এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু রোগী দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে রোগী রাখার জায়গা নেই। সবাই খুব আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ডেঙ্গু মশা কামড়ায় দিনের বেলায় তাই সবাইকে মশারি টাঙ্গিয়ে থাকতে বলা হয়েছে। অনেকেই দিন-রাত দরজা জানালা বন্ধ করে রাখছে। দিনে কয়েকবার বাড়ির আঙ্গিনায় আনাচে কানাচে মশা তাড়ানোর স্প্রে দিচ্ছে।
গত বছরের তুলনায় এই বছর ডেঙ্গু রোগী তিনগুণ বেশি হওয়ায় হাসপাতালের ওয়ার্ড ছাপিয়ে বারান্দায়ও জায়গা দিতে পারছে না। স্কয়ার হাসপাতালে গিয়ে দেখি রোগী দেখার জেনারেল কক্ষে ২৫ বেডকে জনসাধারণের সুবিধার জন্যে ভাড়া অর্ধেক করে ৫০ বেড করেছে তাতেও কোন জায়গা খালি নেই। অস্ট্রেলিয়া থেকে বেড়াতে আসা এক নারী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত তার স্বামী, সন্তান নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। কান্না করেছেন তিনি কেন এই সময়টা বেছে নিলেন বাংলাদেশ আসার জন্য। আগে এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গুজ্বর হলে জ্বর, মাথা-ব্যথা, পেশি এবং ঘাড়ে ব্যথা, শরীরে ফুসকুড়ি (লালচে দাগ) এই উপসর্গগুলি দেখা যেতো।এখন ১০১ ডিগ্রি জ্বর থাকলেও ডাক্তাররা ডেঙ্গু জ্বরের রক্ত পরীক্ষা করার কথা বলছেন কারণ তাঁরাও এই রোগের লক্ষণ ঠিকভাবে ধরতে পারছেন না এবং দুই একদিনের মধ্যে রোগী মারা যাচ্ছে। সারাদিন দরজা জানালা বন্ধ করে বদ্ধ ঘরে থাকা সম্ভব নয় আবার এতো কাজের মাঝে সারাদিন মশারি খাটিয়ে ভেতরে বসে থাকাও সম্ভব নয়।আমাদের দরকার সচেতনতা বৃদ্ধি করা। ফ্রিজের পেছনে জমে থাকা পানি বা ওয়াশিং মেশিনের পাইপে জমে থাকা পানিতে ডেঙ্গু মশার জন্ম হতে পারে।বাসার পেছনে এসির পাইপে জমে থাকা পানি, ডাবের খোসায়,টায়ারে,রাস্তায় ফেলে রাখা প্লাস্টিকের বোতলে, কয়েকদিন বদলে না দেয়া মানিপ্লান্টের পানিতে অথবা যেকোন পাত্রে জমানো পানি থেকে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। ঢাকায় প্রতিবছর যে হারে এডিস মশার উপদ্রব বেড়ে ডেঙ্গু জ্বরে মানুষ মারা যায় সেই তুলনায় গ্রামের দিকে তেমন শোনা যায় না কারণ গ্রামের লোকেরা দৈনিক আবর্জনাগুলো যেখানে সেখানে না ফেলে একটা গর্ত করে মাটি চাপা দেয়। বর্জ্য পদার্থ থেকে সার হলে সেই সার তারা গাছের গোড়ায় ব্যবহার করে যার কারণে বাড়িঘরও পরিষ্কার থাকে। অনেক ধরনের রোগ থেকে তারা রক্ষা পায়। মশা তাড়ানোর জন্য দিনে দু’তিন বার নারকেলের ছোলার সাথে ধূপ,নিমপাতা দিয়ে ধূপধূনা দিলে মশা মাছি বা অন্য কোন কীটপতঙ্গ সহজে ঘরে প্রবেশ করতে পারে না। উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায় ডেঙ্গুজ্বরের ঘটনা ১৯৬০ সালের পর থেকে উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ৫০-১০০ মিলিয়ন লোক এতে আক্রান্ত হয়। ১৭৭৯ সালে এর প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় এবং বিংশ শতকের প্রথম ভাগে এর ভাইরাস ঘটিত কারণ এবং সংক্রমণ বিষয়ে বিশদভাবে জানা যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময় থেকে ডেঙ্গু পৃথিবীর সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় এবং ১১০ টিরও বেশি দেশে মহামারীর আকার নেয়।এর পরেও এই রোগের কোন ভ্যাকসিন এখনো পর্যন্ত কেউ বের করতে পারেনি। ঢাকায় এর মধ্যে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারের কাছে অনুরোধ ঢাকার লেকের পাড়ে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করে ঢাকার আনাচে কানাচে ওষুধ ছিটিয়ে মশার উপদ্রব থেকে জনগণকে রক্ষা করুন। এমনকি পরের বছর থেকে যাতে এই দুর্যোগ না আসে সেই ব্যবস্থা করে জনগণকে চিন্তামুক্ত করুন।

x