আঞ্চলিক দলের সংঘর্ষ রাঙামাটির পাহাড়ে ২৪ ঘণ্টায় ৩ খুন

বিজয় ধর, রাঙামাটি

শুক্রবার , ১৩ এপ্রিল, ২০১৮ at ১১:২২ অপরাহ্ণ
46

পার্বত্য চুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ইউপিডিএফের এক নেতাকে হত্যার ঘটনায় প্রতিপক্ষ জনসংহতি সমিতি জেএসএস (সংস্কারপন্থী) এর দুই নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। মাত্র ২৪ ঘন্টা সময়ের মধ্যে একজনকে খুনের বদলায় খুন করা হয়েছে আরো দুইজনকে। নিহতরা হলেন ইউপিডিএফ কর্মী জনি তঞ্চঙ্গ্যা (৪০), জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) কর্মী পঞ্চায়ন চাকমা ওরফে সাধন চাকমা (৩০) ও কালোময় চাকমা (২৯)। এর মধ্যে পঞ্চায়ন চাকমা নানিয়ারচর উপজেলার সাবেক্ষ্যং ইউনিয়নের মগাছড়া গ্রামের শশী বিকাশ চাকমার ছেলে। কালোময় চাকমার বাড়িও একই এলাকায়। এদিকে কালোময় চাকমাকে হত্যা করে তার লাশ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল লতিফ। তিনি জানান, বুধবার দুপুরে সোয়া ১টার দিকে নানিয়ারচর উপজেলার ২ নম্বর সাবেক্ষ্যং ইউনিয়নের ফরেস্ট অফিস এলাকায় ইউপিডিএফ সদস্য জনি তঞ্চঙ্গাকে গুলি করে হত্যা করে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে এই হত্যার ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (এমএন লারমা) দায়ী করা হলেও নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেএসএস এমএনলারমা গ্রশুপের প্রভাবশালী নেতা এ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করিনা। এসব ইউপিডিএফের মিথ্যা অপপ্রচার ও রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি। চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন হত্যা, গুম, খুনের রাজনীতি করে ইউপিডিএফ। এদিকে, ইউপিডিএফের নেতা জনি তঞ্চঙ্গ্যাকে হত্যার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সাধন চাকমা নামে সংস্কারপন্থী জেএসএসের এক নেতাকে অপহরণ করে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে প্রতিপক্ষের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। বুধবার বিকেলে সাধন চাকমা শশুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে হত্যাকান্ডের শিকার হন। এই ঘটনার কিছু ণের মধ্যেই একই সংগঠনের অপর নেতা কালোময় চাকমাকে ইউপিডিএফ এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তুলে নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই কালোময় চাকমাকে হত্যা করা হয় জানিয়ে এমএন লারমা গ্রশুপের নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা দাবি করেন ইউপিডিএফ এর সন্ত্রাসীরা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।

নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফ তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আমরা নিহত দুই জনের লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। তাদেরকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করে একজনের লাশ পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। অপরজনের স্বজনদের কোনো ঠিকানা পাওয়া না যাওয়ায় আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের নিকট বেওয়ারিশ হিসেবে সেই লাশটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আব্দুল লতিফ জানান, সর্বশেষ হত্যাকান্ডের শিকার কালোময় চাকমার লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। কে বা কারা লাশ পুড়লো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেই বিষয়টি তদন্ত করে আমরা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানাতে পারবো। তিনটি হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

x