আজ হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতির বার্ষিক ওরশ

আজাদী ডেস্ক

বৃহস্পতিবার , ১৪ মার্চ, ২০১৯ at ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
108

ভারত উপমহাদেশের ইসলাম প্রচারক হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশ্‌তী (র) এর ওফাত বার্ষিকী আজ। ভারত উপমাহাদেশে ইসলাম প্রচার-প্রসারে তাঁর ভূমিকা উল্লেখজনক। তিনি ৫৩৩ হিজরী মোতাবেক ১১৩৮ সালে সিস্তান রাজ্যের সনজর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম গিয়াসুদ্দিন ও মাতার নাম সৈয়দা উম্মুল ওয়ারা। পরে স্বপরিবারে খোরাসান শহরে (বর্তমান আফগানিস্তান) হিজরত করেন। তিনি গরিবে নেওয়াজ নামেও পরিচিত। মইনুদ্দিন চিশতীই উপমহাদেশে প্রথম এই ধারা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচিত করেন। তিনি ভারতে চিশতী ধারার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক ধারা বা সিলসিলা এমনভাবে পরিচিত করেন; পরবর্তীতে তাঁর অনুসারীরা যেমন, বখতিয়ার কাকী, বাবা ফরিদ, নাজিমদ্দিন আউলিয়াসহ আরো অনেকে ভারতের ইতিহাসে সুফি ধারাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান।
৯ বছর বয়সে তরজমাসহ পবিত্র কুরআন শরীফ মুখস্থ করেন। অতঃপর ১৩বছর পর্যন্ত পিতার সার্বিক তত্ত্বাবধানে কুরআন, হাদিস, ফিকহ্‌, উসুল, তাফসীর, আরবী সাহিত্য ব্যাকরণ, মানতিক, হিকমতদর্শন ইত্যাদি বিষয়ে গভীর বুৎপত্তি লাভ করেন। হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রহ) বোখারা থেকে নিশাপুরে আসেন। সেখানে যুগশ্রেষ্ঠ ওলী হযরত ওসমান হারুনী (রহ) এর নিকট মুরীদ হন এবং মুর্শীদের খেদমতে ২০ বছর অতিবাহিত করেন। তিনি পীর উসমান হারুনীর নির্দেশে ভারতে আগমন করে মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দেন এবং তারই মাধ্যমে বহু লোক ইসলাম গ্রহণ করেন। খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী ৬৩৩ হিজরীর ৫ রজব দিবাগত রাত অর্থাৎ ৬ রজব সূর্যোদয়ের সময় ইনতিকাল করেন। তখন তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। প্রতি বছর ১ রজব হতে ৬ রজব পর্যন্ত আজমির শরীফে তার সমাধিস্থলে ওরস অনুষ্ঠিত হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মানুষ ওরস শরীফে সমবেত হন। ভারতের আজমির শরীফ ছাড়াও বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ বিভিন্নস্থানে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতির (র) এর বার্ষিক ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামেও এ উপলক্ষে বিভিন্নস্থানে ওরসে খাজা মঈনুদ্দিন চিশতির কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।
বলুয়ার দীঘি খানকায় ওরশ
আজ নগরীর বলুয়ার দীঘির পাড়স্থ খানকায়ে কা্বদেরিয়া ছৈয়্যদিয়া তৈয়াবিয়ার আতায়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওসাল্লাম হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহঃ) এর পবিত্র শরীফ উপলক্ষে ৬ দিনব্যাপী মাহফিলে শানে খাজা গরীবে নেওয়াজ (রহঃ) এর সমাপনী প্রধান দিবস ও আখেরী মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। বাদে মাগরিব থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, পবিত্র কোরআন তেলোয়াত, নাতে রাসূল, খতমে গাউছিয়া শরীফ, খতমে খাজেগান, খাজা গরীব নেওয়াজের জীবনীর উপর আলোচনা, আখেরী মুনাজাত ও তবারুক বিতরণ।

x